Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice রবি, জুলাই 5, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » ব্রেন ড্রেইন: মেধাবীরা চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে কারা?
    শিক্ষা

    ব্রেন ড্রেইন: মেধাবীরা চলে গেলে দেশের ভবিষ্যৎ গড়বে কারা?

    মনিরুজ্জামানজুলাই 5, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একসময় বিদেশে উচ্চশিক্ষা কিংবা কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়াকে ব্যক্তিগত অর্জনের প্রতীক হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই চিত্রে নতুন একটি বাস্তবতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে। দেশের অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী, গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও উদ্যোক্তা উন্নত শিক্ষা ও পেশাগত সম্ভাবনার খোঁজে বিদেশে পাড়ি জমাচ্ছেন। উদ্বেগের বিষয় হলো, তাঁদের বড় একটি অংশ আর দেশে ফিরে আসতে আগ্রহী নন। ফলে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি নীরবে চলতে থাকে দেশের মেধাসম্পদের ধারাবাহিক বহির্গমন। অর্থনীতি ও উন্নয়ন গবেষণায় এই প্রবণতাকে বলা হয় ‘ব্রেন ড্রেইন’।

    এই বাস্তবতাকে শুধু আবেগ দিয়ে বিচার করলে পুরো চিত্র বোঝা যায় না। একজন দক্ষ মানুষ কেন নিজের দেশ ছেড়ে অন্য দেশে স্থায়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন, তার পেছনে কেবল উচ্চ বেতনের বিষয়টি কাজ করে না। উন্নত গবেষণার পরিবেশ, পেশাগত স্বাধীনতা, মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, উন্নত জীবনমান, সামাজিক নিরাপত্তা, সন্তানের ভবিষ্যৎ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং আইনের কার্যকর শাসনের মতো নানা বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই ব্রেন ড্রেইন শুধু কর্মসংস্থান বা শ্রমবাজারের সমস্যা নয়; এটি একটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতা ও পরিবেশেরও প্রতিফলন।

    বিশ্বায়নের এই সময়ে দক্ষ জনশক্তির আন্তর্জাতিক চলাচল স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন দেশের মেধাবীদের নিজেদের দেশে নিয়ে যাওয়ার নীতি অনুসরণ করছে। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি এবং সিঙ্গাপুরের মতো দেশগুলো উচ্চশিক্ষিত, দক্ষ ও উদ্ভাবনী জনশক্তির জন্য বিশেষ সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকে। কারণ তারা উপলব্ধি করেছে, আধুনিক অর্থনীতিতে প্রাকৃতিক সম্পদের চেয়ে জ্ঞান, দক্ষতা ও উদ্ভাবনই সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ।

    প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশ কি এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত হবে, যেখানে মেধাবী তরুণদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে দেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়া? নাকি এমন একটি পরিবেশ গড়ে উঠবে, যেখানে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেও একজন গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা উদ্যোক্তা মনে করবেন, নিজের জ্ঞান, দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার সবচেয়ে অর্থবহ স্থান বাংলাদেশই। এই প্রশ্নের উত্তরই আগামী কয়েক দশকে দেশের উন্নয়নের গতি ও মান নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

    বিদেশে সাফল্য গড়ছেন মেধাবীরা, তবু বাড়ছে দেশের ক্ষতি:

    বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তি বিদেশে কাজ করছেন—এটিকে একপাক্ষিকভাবে নেতিবাচক হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশিরা বৈদেশিক মুদ্রা পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক গবেষণা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের সাফল্যের মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন। বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার, হাসপাতাল এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি গবেষক ও পেশাজীবীদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি নিঃসন্দেহে গর্বের বিষয়। একই সঙ্গে তাঁরা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতার গুরুত্বপূর্ণ সংযোগও তৈরি করছেন।

    তবে উদ্বেগের জায়গাটি ভিন্ন। দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান যখন দক্ষ শিক্ষকের সংকটে পড়ে, হাসপাতালগুলো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাব মোকাবিলা করে, গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো মেধাবী গবেষকদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হয় কিংবা তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দক্ষ প্রকৌশলীরা বিদেশেই স্থায়ী হয়ে যান, তখন বিষয়টি শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্পে সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি জাতীয় উন্নয়নের জন্যও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। কারণ দীর্ঘ সময় ও বিপুল ব্যয়ে যে মানবসম্পদ গড়ে তোলা হয়, তার সুফল শেষ পর্যন্ত অন্য দেশের অর্থনীতি ও সমাজ কাজে লাগায়।

    অর্থনীতিবিদদের মতে, একবিংশ শতাব্দীর বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মূল ভিত্তি হচ্ছে দক্ষ মানবসম্পদ। যে রাষ্ট্র মেধাবী মানুষকে ধরে রাখতে পারে, তারাই গবেষণা, প্রযুক্তি, উদ্ভাবন এবং উৎপাদনশীলতায় এগিয়ে থাকে। দক্ষিণ কোরিয়া, ফিনল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড ও ইসরায়েলের মতো দেশগুলোর উন্নয়নের পেছনে প্রাকৃতিক সম্পদের তুলনায় মানবসম্পদের অবদান অনেক বেশি। এসব দেশ শুধু মেধাপাচার কমানোর দিকেই গুরুত্ব দেয়নি, বরং বিদেশে অবস্থানরত নিজেদের গবেষক, বিজ্ঞানী ও উদ্যোক্তাদের দেশে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ নীতিও বাস্তবায়ন করেছে।

    বাংলাদেশে ব্রেন ড্রেইনের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণা ও উদ্ভাবনের সীমিত সুযোগকে দেখা হয়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গবেষণার জন্য বরাদ্দ তুলনামূলক কম। আধুনিক গবেষণাগারের অভাব রয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা সহযোগিতার সুযোগও সীমিত। ফলে একজন তরুণ গবেষক যখন বিদেশে উন্নত গবেষণাগার, পর্যাপ্ত অর্থায়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার সম্ভাবনা দেখেন, তখন তাঁর বিদেশে থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত অস্বাভাবিক নয়।

    একইভাবে অনেক মেধাবী তরুণের ধারণা, দেশে তাঁদের যোগ্যতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সুযোগ পর্যাপ্ত নয়। নিয়োগে স্বচ্ছতা, পদোন্নতিতে মেধার যথাযথ মূল্যায়ন, গবেষণার স্বাধীনতা এবং পেশাগত পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন থাকলে তাঁরা বিদেশে বিকল্প ভবিষ্যৎ খোঁজেন। দক্ষ মানুষের কাছে শুধু বেশি বেতনই আকর্ষণীয় নয়; কাজের মর্যাদা, স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ এবং সৃজনশীলতার মূল্যায়নও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

    ব্রেন ড্রেইনের প্রভাব তাৎক্ষণিকভাবে চোখে পড়ে না। একটি সেতু ধসে পড়লে বা কোনো কারখানা বন্ধ হলে তার ক্ষতি সহজেই দৃশ্যমান হয়। কিন্তু একজন গবেষক, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা দক্ষ প্রকৌশলী দেশ ছেড়ে চলে গেলে তার প্রভাব ধীরে ধীরে জমতে থাকে। কয়েক বছর পর দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ে মানসম্মত গবেষণার সংখ্যা কমেছে, শিল্পখাতে উদ্ভাবনের গতি শ্লথ হয়েছে, প্রযুক্তি খাতে বিদেশি দক্ষতার ওপর নির্ভরতা বেড়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষজ্ঞের সংকট আরও তীব্র হয়েছে। অর্থনীতির ভাষায় এই পরিস্থিতিকে বলা হয় মানব পুঁজির ক্ষয় (হিউম্যান ক্যাপিটাল লস), যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও সক্ষমতার ওপর বহুমাত্রিকভাবে পড়ে।

    মেধা ধরে রাখার লড়াই: বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ:

    বাংলাদেশে প্রতি বছর বিপুলসংখ্যক প্রকৌশলী, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক তৈরি হচ্ছে। তাঁদের শিক্ষা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্র প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ করে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য দেওয়া ভর্তুকি, সরকারি মেডিকেল কলেজে একজন চিকিৎসক তৈরির ব্যয় কিংবা প্রকৌশল শিক্ষার অবকাঠামো—সবই মূলত জনগণের করের অর্থে পরিচালিত। কিন্তু এই দক্ষ জনশক্তির একটি অংশ যদি স্থায়ীভাবে বিদেশে থেকে যান, তাহলে সেই বিনিয়োগের বড় অংশের সুফল অন্য দেশের অর্থনীতি পেয়ে থাকে।

    তবে পুরো বিষয়টিকে কেবল ক্ষতির দৃষ্টিতে দেখাও সঠিক নয়। বর্তমান বিশ্বে ‘ব্রেন সার্কুলেশন’ বা মেধার পুনঃসংযোগের ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এর অর্থ হলো, একজন দক্ষ মানুষ বিদেশে গিয়ে নতুন জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতা অর্জন করবেন এবং পরে সেই অভিজ্ঞতা, বিনিয়োগ, গবেষণা কিংবা প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে নিজের দেশের উন্নয়নে অবদান রাখবেন। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ানের অভিজ্ঞতা দেখিয়েছে, সঠিক নীতি থাকলে বিদেশে যাওয়া মেধা একসময় জাতীয় উন্নয়নের শক্তিতে পরিণত হতে পারে।

    এ ক্ষেত্রে চীনের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। নব্বইয়ের দশক থেকে অসংখ্য চীনা শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে যান। পরবর্তী সময়ে সরকার গবেষণা অনুদান, কর-সুবিধা, আধুনিক গবেষণাগার, প্রতিযোগিতামূলক বেতন এবং উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনার ব্যবস্থা করে তাঁদের অনেককে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। বর্তমানে চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির পেছনে এই ফিরে আসা মেধাবীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

    ভারতও প্রায় একই ধরনের পথ অনুসরণ করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ, শক্তিশালী স্টার্টআপ পরিবেশ, গবেষণায় বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানের কর্মক্ষেত্র তৈরি হওয়ায় বিদেশে কর্মরত বহু ভারতীয় প্রযুক্তিবিদ ও উদ্যোক্তা দেশে ফিরে ব্যবসা শুরু করেছেন অথবা বিনিয়োগ করেছেন। ফলে একসময় যে ব্রেন ড্রেইন উদ্বেগের কারণ ছিল, তা অনেক ক্ষেত্রে ব্রেন গেইনে রূপ নিতে শুরু করেছে।

    বাংলাদেশের জন্যও সবচেয়ে কার্যকর কৌশল হতে পারে একদিকে দেশের মেধাবীদের ধরে রাখা এবং অন্যদিকে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে যুক্ত করা। এটি আবেগের নয়, বাস্তব নীতিনির্ভর একটি বিষয়। শুধু দেশপ্রেমের আহ্বান জানিয়ে কোনো গবেষক বা বিশেষজ্ঞকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়, যদি দেশে ফিরে তিনি গবেষণার অনুকূল পরিবেশ, পেশাগত স্বাধীনতা এবং সম্মানজনক জীবনযাত্রার নিশ্চয়তা না পান।

    এ কারণে গবেষণা ও উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। উন্নত অর্থনীতির দেশগুলো তাদের মোট দেশজ উৎপাদনের উল্লেখযোগ্য অংশ গবেষণা ও উন্নয়নে ব্যয় করে। বাংলাদেশে এই খাতে বিনিয়োগ এখনো সীমিত। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় গড়ে না উঠলে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতি নির্মাণ কঠিন হয়ে পড়বে।

    একই সঙ্গে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং মেধার যথাযথ মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ। তরুণরা তখনই দেশে ভবিষ্যৎ গড়তে আগ্রহী হন, যখন তাঁরা বিশ্বাস করেন যে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতেই তাঁদের অগ্রগতির পথ নির্ধারিত হবে। এ ছাড়া প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, গবেষণার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা বাড়ানো প্রয়োজন।

    স্টার্টআপ ও উদ্ভাবনী উদ্যোক্তাদের জন্য অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করাও ব্রেন ড্রেইন কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। অনেক তরুণ শুধু চাকরির জন্য বিদেশে যান না; নিজেদের নতুন ধারণা বাস্তবায়নের সুযোগ খুঁজতেও দেশ ছাড়েন। দেশে যদি উদ্ভাবনী উদ্যোগের জন্য অর্থায়ন, আইনি সহায়তা এবং বাজারে প্রবেশের কার্যকর সুযোগ তৈরি হয়, তাহলে অনেকেই দেশেই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগ্রহী হবেন।

    বিদেশে থাকা বাংলাদেশি গবেষক, বিজ্ঞানী ও পেশাজীবীদের সঙ্গে শক্তিশালী জ্ঞানভিত্তিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলাও সময়ের দাবি। সবার দেশে ফিরে আসা জরুরি নয়। তবে তাঁরা অনলাইন শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর, বিনিয়োগ, পরামর্শ এবং মেন্টরশিপের মাধ্যমে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারেন। বর্তমান বিশ্বে জ্ঞানের বিস্তার আর ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; প্রয়োজন কার্যকর সংযোগ ও সহযোগিতা।

    সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন। শুধু ‘মেধা পাচার’ বলে আক্ষেপ করলে সমস্যার সমাধান হবে না। বরং এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যেখানে একজন তরুণ বিশ্বাস করবেন—নিজের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা একই সঙ্গে সম্ভব।

    একটি দেশের প্রকৃত শক্তি খনিজ সম্পদে নয়, বরং মানুষের জ্ঞান, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতায় নিহিত। যে রাষ্ট্র তার সেরা মেধাবীদের ধরে রাখতে ব্যর্থ হয়, দীর্ঘমেয়াদে সেই রাষ্ট্র প্রযুক্তি, গবেষণা ও অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ে। বিপরীতে, যে দেশ মেধাকে মূল্য দেয়, সুযোগ সৃষ্টি করে এবং স্বাধীন চিন্তার পরিবেশ নিশ্চিত করে, সেখানেই নতুন উদ্ভাবন জন্ম নেয়, নতুন শিল্প গড়ে ওঠে এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি শক্তিশালী হয়।

    বাংলাদেশের সামনে এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময়। আমরা কি এমন একটি রাষ্ট্র গড়ে তুলব, যেখানে মেধাবী তরুণদের সবচেয়ে বড় লক্ষ্য হবে দেশ ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী হওয়া? নাকি এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে উঠবে, যেখানে বিশ্বের সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করেও একজন গবেষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা উদ্যোক্তা মনে করবেন—নিজের জ্ঞান, শ্রম ও ভবিষ্যতের সবচেয়ে মূল্যবান ঠিকানা এই দেশই। সেই সিদ্ধান্তই আগামী কয়েক দশকে বাংলাদেশের উন্নয়নের গতি ও মান নির্ধারণ করবে। সূত্র:  জাগো নিউজ

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    মতামত

    যেভাবে জোহরান মামদানি নতুন প্রজন্মের ডেয়ারডেভিল

    জুলাই 5, 2026
    মতামত

    অর্থের নেশা কখন বিপদ হয়ে ওঠে?

    জুলাই 5, 2026
    স্বাস্থ্য

    তামাককে সহজলভ্য রেখে কি জনস্বাস্থ্য রক্ষা সম্ভব?

    জুলাই 5, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram
    ‘হাম ব্যবস্থাপনায় সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সমূহ কি পর্যাপ্ত ছিল, আপনি কি মনে করেন?

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.