Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice বুধ, আগস্ট 5, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » কোচিংয়ের জাল এখন গ্রামেও
    শিক্ষা

    কোচিংয়ের জাল এখন গ্রামেও

    নিউজ ডেস্কআগস্ট 4, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    একসময় কোচিংকে বড় শহরের শিক্ষার্থীদের অতিরিক্ত প্রস্তুতির মাধ্যম হিসেবে দেখা হতো। এখন সেই চিত্র আর নেই। রাজধানী থেকে জেলা শহর, উপজেলা পেরিয়ে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে কোচিং সেন্টার। প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির প্রস্তুতি থেকে শুরু করে এসএসসি, এইচএসসি, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির পরীক্ষা—প্রায় প্রতিটি ধাপেই কোচিংকে শিক্ষাজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

    সকালে স্কুলে যাওয়ার আগে, স্কুল ছুটির পর এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা-১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাচে চলছে কোচিং। শিক্ষার্থীদের দিনের বড় একটি সময় কাটছে শ্রেণিকক্ষ ও কোচিং সেন্টারের মধ্যে। অন্যদিকে সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা বাড়তি খরচের চাপ নিয়েও কোচিং থেকে সরে আসতে পারছেন না।

    ফলে দেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি যেন আরেকটি ছায়া শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায় শেখার চেয়ে পরীক্ষার ফল, নম্বর এবং প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

    স্কুল শেষে আবার ক্লাসের পথে

    রাজধানীর নামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী মালিহা তাবাসসুম ছদ্মনামে পরিচিত। প্রতিদিন স্কুল ছুটির পর তাকে বেইলি রোডের একটি কোচিং সেন্টারে যেতে হয়। তার মতো রাজধানীর অসংখ্য শিক্ষার্থীর প্রতিদিনের জীবনও একই নিয়মে চলছে।

    সকাল থেকে স্কুল, তারপর কোচিং, সন্ধ্যায় বাসার কাজ এবং পরদিনের প্রস্তুতি—এই ব্যস্ততার মধ্যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মতো করে পড়া বোঝা, বিশ্রাম নেওয়া বা খেলাধুলা করার সময় খুব কম পাচ্ছে।

    এই চিত্র শুধু ঢাকার কয়েকটি নামী বিদ্যালয়ে সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামেও বিদ্যালয়ের আশপাশে ছোট-বড় কোচিং সেন্টার গড়ে উঠেছে। কোথাও ঘরের একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে কয়েকজন শিক্ষক কোচিং চালাচ্ছেন। কোথাও আবার বড় প্রতিষ্ঠানের মতো একাধিক শ্রেণি, বিষয় ও পরীক্ষার জন্য আলাদা ব্যাচ চালানো হচ্ছে।

    কোনো কোনো কোচিং সেন্টারে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি-ইচ্ছুকদের জন্যও পৃথক ব্যবস্থা রয়েছে। শিক্ষার্থীর বয়স যত কমই হোক, প্রতিযোগিতার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যাচ্ছে তত আগে।

    প্রথম শ্রেণির আগেই কোচিং

    কোচিংনির্ভরতার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো, এখন প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির অপেক্ষায় থাকা শিশুদেরও কোচিংয়ে পাঠানো হচ্ছে। বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা হবে কি হবে না, কী ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে, কোন বিদ্যালয়ের প্রস্তুতি কীভাবে নিতে হবে—এসব নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে।

    এই অনিশ্চয়তাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন কোচিং সেন্টার নামী বিদ্যালয়ে ভর্তির বিশেষ প্রস্তুতির প্রচারণা চালাচ্ছে। কোথাও নির্দিষ্ট বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে আলাদা ব্যাচ খোলা হয়েছে। আবার কোথাও একাধিক বিদ্যালয়ের জন্য পৃথক প্রস্তুতির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

    অভিভাবকদের একটি অংশ মনে করেন, সন্তানকে কোচিংয়ে না পাঠালে সে অন্যদের তুলনায় পিছিয়ে পড়তে পারে। ফলে শিশুর বয়স, মানসিক প্রস্তুতি বা শেখার স্বাভাবিকতা বিবেচনা না করেই ভর্তি প্রতিযোগিতার মধ্যে তাকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।

    এর মাধ্যমে শৈশবের শুরুতেই পড়াশোনাকে আনন্দের বদলে চাপ হিসেবে দেখার প্রবণতা তৈরি হতে পারে। বিদ্যালয়ে যাওয়ার আগেই শিশুকে যদি পরীক্ষার কৌশল, নম্বর ও প্রতিযোগিতার চিন্তায় অভ্যস্ত করা হয়, তাহলে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

    ভিকারুননিসার অভিভাবকের ব্যয়ের হিসাব

    ৩১ জুলাই বেইলি রোডে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের বিপরীত পাশের একটি গলিতে সরকারি চাকরিজীবী মোহাম্মদ মামুনের সঙ্গে কথা হয়। তাঁর দুই মেয়ে ওই বিদ্যালয়ে পড়ে। একজন তৃতীয় শ্রেণিতে এবং অন্যজন পঞ্চম শ্রেণিতে।

    ছোট মেয়েকে একজন শিক্ষকের কাছে পড়াতে হয়। পাশাপাশি প্যারাডাইস নামে একটি কোচিং সেন্টারে পড়ানোর জন্য মাসে ২ হাজার টাকা দিতে হয়। বড় মেয়েকে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বাধ্যতামূলক কোচিংয়ের পাশাপাশি পাঁচটি বিষয়ে পাঁচজন শিক্ষকের কাছে পড়তে হয়। প্রতিটি বিষয়ের জন্য দিতে হয় ১ হাজার টাকা।

    অর্থাৎ শুধু বড় মেয়ের পাঁচটি বিষয়ের জন্য মাসে ৫ হাজার টাকা ব্যয় হচ্ছে। এর সঙ্গে স্কুলের অন্যান্য খরচ, যাতায়াত, বই, খাতা ও শিক্ষাসামগ্রীর ব্যয়ও রয়েছে।

    ওই বিদ্যালয়ের আরও কয়েকজন অভিভাবক একই ধরনের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কোচিং ও ব্যক্তিগত শিক্ষকের কাছে পড়ানো অনেক ক্ষেত্রে আর পছন্দের বিষয় নয়; এটি ধীরে ধীরে অলিখিত বাধ্যবাধকতায় পরিণত হচ্ছে।

    নামী বিদ্যালয়েও একই বাস্তবতা

    মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি প্রায় একই বলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষক ও অভিভাবকদের একটি অংশ জানিয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু শিক্ষক ব্যক্তিগত পড়ানো ও কোচিং কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত।

    কোথাও বিদ্যালয়ের নামে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। কোথাও ব্যাচ করে শিক্ষার্থীদের পড়ানো হচ্ছে। আবার কেউ কেউ আলাদা কোচিং সেন্টারে গিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানের অথবা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের পড়াচ্ছেন।

    ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম জানিয়েছেন, কোচিং নিয়ে সরকারের স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। কোনো শিক্ষক সেই নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে বিষয়টি প্রতিষ্ঠানের নজরে এলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    তবে বাস্তবতা হলো, নীতিমালা থাকার পরও অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকেরা অভিযোগ জানাতে ভয় পান। সন্তানকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের কাছে পড়ানো না হলে শ্রেণিকক্ষে অবহেলা করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তাঁদের মধ্যে কাজ করে। সব ক্ষেত্রে এই অভিযোগ প্রমাণিত নয়, কিন্তু এমন ভয়ই কোচিংনির্ভরতার সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করে।

    অভিভাবকের ভয়ই কোচিংয়ের বড় শক্তি

    অধিকাংশ অভিভাবকই সন্তানের জন্য ভালো ফল চান। কিন্তু সেই স্বাভাবিক প্রত্যাশা যখন অন্যদের পেছনে ফেলে এগিয়ে যাওয়ার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন কোচিংয়ের বাজার আরও বিস্তৃত হয়।

    অনেক অভিভাবক বলেন, শ্রেণিকক্ষে কোনো বিষয় ঠিকভাবে বুঝতে না পারলে সন্তানকে কোচিংয়ে পাঠাতে হয়। আবার কেউ মনে করেন, কোচিংয়ের মাধ্যমে পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার কৌশল শেখা যায়। অন্যরা কোচিং করছে দেখে নিজের সন্তানকে না পাঠানোর সাহসও তাঁরা পাচ্ছেন না।

    এই পরিস্থিতিতে একটি সমষ্টিগত ভয় কাজ করছে। সবাই যদি মনে করেন কোচিং ছাড়া ভালো ফল সম্ভব নয়, তাহলে ব্যক্তিগতভাবে কোনো পরিবার কোচিং থেকে সরে আসতে পারে না। ফলে কোচিংয়ের প্রয়োজন বাস্তবে যতটা, তার চেয়েও বেশি প্রয়োজনীয় বলে মনে হতে থাকে।

    এভাবে কোচিং একটি স্বনির্ভর বাজারে পরিণত হয়েছে। প্রতিযোগিতার ভয় কোচিংয়ের চাহিদা বাড়ায়, আবার কোচিংয়ের বিস্তার অভিভাবকদের মধ্যে পিছিয়ে পড়ার ভয় আরও বাড়িয়ে দেয়।

    ভর্তি পরীক্ষা ও লটারি নিয়ে অনিশ্চয়তা

    কয়েক বছর ধরে সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি চালু রয়েছে। তবে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে লটারি বাতিল করে আবার ভর্তি পরীক্ষা চালু করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

    এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পরপরই বিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিংয়ের বাজার সক্রিয় হয়ে ওঠে। বিভিন্ন কোচিং সেন্টার নামী বিদ্যালয়ে ভর্তি, বিশেষ প্রস্তুতি এবং ভালো ফলের নিশ্চয়তার প্রচারণা শুরু করে।

    অভিভাবকদের অনেকে জানেন না ভর্তি পরীক্ষায় কী ধরনের প্রশ্ন হবে বা প্রস্তুতির পরিধি কেমন হবে। তাই ঝুঁকি এড়াতে তাঁরা সন্তানকে কোচিংয়ে ভর্তি করছেন। এর ফলে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার আগেই কোচিং সেন্টারগুলো শিক্ষার্থী পেতে শুরু করেছে।

    তবে আগামী বছরও বিদ্যালয়ে ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আলোচনা চলছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভর্তি পরীক্ষা চালু করলে শিশুদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতে পারে। এই আশঙ্কা থেকেই লটারি বহাল রাখার বিষয়টি আবার বিবেচনা করা হচ্ছে।

    চলতি মাসেই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কোন কোন শ্রেণিতে লটারি রাখা হবে অথবা পরীক্ষার বদলে পুরো ব্যবস্থায় লটারি বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে ভর্তি কমিটিকে আলোচনা করতে বলা হয়েছে।

    ১০ আগস্ট এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসার কথা রয়েছে।

    সিদ্ধান্তের অনিশ্চয়তায় বাড়ছে বাজার

    শিক্ষানীতির কোনো সিদ্ধান্ত দেরিতে বা অস্পষ্টভাবে জানানো হলে তার সুযোগ নেয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বিদ্যালয়ে ভর্তি লটারিতে হবে, নাকি পরীক্ষার মাধ্যমে—এ বিষয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় কোচিং সেন্টারগুলো আগেভাগেই প্রস্তুতি বিক্রি শুরু করেছে।

    অভিভাবকেরা নিশ্চিত তথ্য না পেলে প্রচারণাকে সত্য বলে ধরে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে নামী বিদ্যালয়ের ভর্তি নিয়ে সামাজিক আকাঙ্ক্ষা বেশি হওয়ায় অনেক পরিবার বাড়তি ব্যয় করতেও প্রস্তুত থাকে।

    এ কারণে বিদ্যালয়ে ভর্তি পদ্ধতির বিষয়ে দ্রুত, স্পষ্ট ও সবার জন্য সমানভাবে বোধগম্য সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। না হলে নীতিগত অনিশ্চয়তাই কোচিং-বাণিজ্যের জন্য নতুন বাজার তৈরি করবে।

    শিক্ষকদের সম্পৃক্ততা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগ

    কোচিং-বাণিজ্যের সঙ্গে শিক্ষকদের একাংশের সম্পৃক্ততার অভিযোগ নতুন নয়। সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়-কলেজের কিছু শিক্ষক নিজের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে পড়ান। কেউ নিজেই কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন, আবার কেউ অন্য প্রতিষ্ঠানের কোচিং সেন্টারে গিয়ে ক্লাস নেন।

    এখানে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়। একজন শিক্ষক যদি শ্রেণিকক্ষের পাঠদানের চেয়ে কোচিংকে বেশি গুরুত্ব দেন, তাহলে বিদ্যালয়ের আনুষ্ঠানিক পাঠদান দুর্বল হতে পারে। কোনো কোনো শিক্ষার্থী তখন মনে করতে পারে, শিক্ষকের কাছে আলাদাভাবে না পড়লে পুরো বিষয় শেখা সম্ভব নয়।

    শিক্ষাবিদদের মতে, এতে শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য নষ্ট হয়। বিদ্যালয় হওয়ার কথা এমন জায়গা, যেখানে সব শিক্ষার্থী সমানভাবে প্রয়োজনীয় শিক্ষা পাবে। কিন্তু শ্রেণিকক্ষের বাইরে অর্থের বিনিময়ে ভালো শিক্ষা পাওয়া গেলে আর্থিক সামর্থ্যই শিক্ষার মান নির্ধারণ করতে শুরু করে।

    সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্ন আয়ের পরিবার

    কোচিংয়ের ব্যয় সব পরিবারের জন্য সমানভাবে বহন করা সম্ভব নয়। মধ্যবিত্ত পরিবার বাড়তি খরচ সামলাতে গিয়ে অন্যান্য প্রয়োজন কমিয়ে দেয়। নিম্ন আয়ের পরিবার অনেক সময় ঋণ করে কিংবা সংসারের প্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সন্তানের কোচিং ফি দেয়।

    যে পরিবার একাধিক বিষয়ে মাসে কয়েক হাজার টাকা দিতে পারে, তার সন্তান অতিরিক্ত অনুশীলন ও সহায়তা পায়। কিন্তু যে পরিবার সেই অর্থ দিতে পারে না, তার সন্তান শুধু বিদ্যালয়ের পাঠদানের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়।

    বিদ্যালয়ের পাঠদান দুর্বল হলে আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থী দ্বিগুণ ক্ষতির মুখে পড়ে। সে যেমন কোচিংয়ের সুবিধা পায় না, তেমনি শ্রেণিকক্ষেও প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হতে পারে।

    ফলে কোচিং শুধু শিক্ষার খরচ বাড়াচ্ছে না; এটি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুযোগের বৈষম্যও গভীর করছে।

    ২০১২ সালের নীতিমালা কী বলে

    কোচিং-বাণিজ্য বন্ধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০১২ সালের আগস্টে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা জারি করে।

    নীতিমালা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়, কলেজ এবং মাদ্রাসার কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিং বা ব্যক্তিগতভাবে পড়াতে পারবেন না। তাঁরা বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারেও পড়াতে পারবেন না।

    তবে একজন শিক্ষক অন্য প্রতিষ্ঠানের সর্বোচ্চ ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিজের বাসায় পড়াতে পারবেন। পাশাপাশি পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের ভেতরে সরকার নির্ধারিত অর্থের বিনিময়ে অতিরিক্ত ক্লাস নেওয়া যাবে।

    এই অতিরিক্ত ক্লাসে কোনো শিক্ষার্থীকে বাধ্য করা যাবে না। অর্থাৎ নীতিমালায় দুর্বল শিক্ষার্থীদের সহায়তার সুযোগ রাখা হলেও সেটিকে বাধ্যতামূলক বা বাণিজ্যিক কার্যক্রমে পরিণত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি।

    নীতিমালা আছে, প্রয়োগ দুর্বল

    নীতিমালা জারির পর ১৪ বছর পার হতে চললেও কোচিং-বাণিজ্যের বিস্তার কমেনি। বরং শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত এর পরিধি বেড়েছে।

    এর অন্যতম কারণ নিয়মিত নজরদারির অভাব। কোন শিক্ষক কোথায় পড়াচ্ছেন, নিজ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীকে কোচিংয়ে বাধ্য করছেন কি না, বিদ্যালয়ের নামে নেওয়া অতিরিক্ত ক্লাস নীতিমালা মেনে চলছে কি না—এসব বিষয়ে কার্যকর পর্যবেক্ষণ নেই।

    অভিযোগ পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও অভিযোগ জানানোর সহজ ও নিরাপদ ব্যবস্থা না থাকলে বাস্তবায়ন কঠিন হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্ত, প্রমাণ সংগ্রহ এবং শাস্তি কার্যকর করার প্রক্রিয়াও স্পষ্ট ও দ্রুত হওয়া প্রয়োজন।

    শুধু নির্দেশনা জারি করে কোচিং-বাণিজ্য বন্ধ করা সম্ভব নয়। নীতিমালা প্রয়োগের জন্য প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পর্যবেক্ষণ, অভিভাবকের অভিযোগ গ্রহণ এবং দায়ী শিক্ষকের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ব্যবস্থা প্রয়োজন।

    শিক্ষার ব্যয় বাড়ার বড় কারণ কোচিং

    গণসাক্ষরতা অভিযানের উদ্যোগে তৈরি বাংলাদেশে বিদ্যালয় শিক্ষা: মহামারি-উত্তর টেকসই পুনরুত্থান শীর্ষক গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে শিক্ষার ব্যয় বাড়ছে।

    এই ব্যয় বৃদ্ধির বড় কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে কোচিং, ব্যক্তিগত শিক্ষক এবং নোট-গাইড। একজন শিক্ষার্থীকে একাধিক বিষয়ে কোচিং করাতে অভিভাবকদের প্রতি মাসে কয়েক হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরে বিষয়সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে খরচও বাড়ে। একাধিক শিক্ষক, কোচিং সেন্টারের মাসিক ফি, পরীক্ষার ফি, বিশেষ ব্যাচ এবং শিক্ষাসামগ্রীর অর্থ মিলিয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক পরিবারের সক্ষমতার বাইরে চলে যাচ্ছে।

    বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় ও চাকরির পরীক্ষার ক্ষেত্রে এই বাজার আরও বড়। প্রচলিত কোচিং সেন্টারের পাশাপাশি অনলাইনভিত্তিক প্রস্তুতির ব্যবস্থাও তৈরি হয়েছে। এসব কোর্সের অনেকগুলোর খরচও কম নয়।

    কেন শ্রেণিকক্ষের ওপর আস্থা কমছে

    শিক্ষাবিদদের মতে, কোচিংয়ের বিস্তারকে শুধু অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশার ফল হিসেবে দেখলে পুরো সমস্যাটি বোঝা যাবে না। এর পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামোগত দুর্বলতাও রয়েছে।

    অনেক শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। একজন শিক্ষকের পক্ষে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শেখার সমস্যা আলাদাভাবে বোঝা কঠিন। কোথাও শিক্ষকসংকট রয়েছে। কোথাও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষ কার্যক্রম হলেও পাঠদানের মান প্রত্যাশিত নয়।

    পরীক্ষাকেন্দ্রিক মূল্যায়নব্যবস্থাও কোচিংনির্ভরতা বাড়ায়। শিক্ষার্থী কতটা বুঝেছে, চিন্তা করতে শিখেছে বা বাস্তব জীবনে জ্ঞান প্রয়োগ করতে পারছে—এসবের চেয়ে পরীক্ষায় কত নম্বর পেল, সেটিই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।

    কোচিং সেন্টারগুলো এই নম্বরকেন্দ্রিক ব্যবস্থার সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নেয়। তারা সম্ভাব্য প্রশ্ন, উত্তর লেখার কৌশল, সংক্ষিপ্ত সাজেশন এবং পরীক্ষাভিত্তিক অনুশীলনের প্রতিশ্রুতি দেয়। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা কোচিংকে ফল অর্জনের কার্যকর পথ মনে করেন।

    শ্রেণিকক্ষেই শিখন ঘাটতি পূরণ করতে হবে

    ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. মনজুর আহমদ মনে করেন, শ্রেণিকক্ষে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে জরুরি। এর জন্য প্রয়োজন যোগ্য ও মানসম্মত শিক্ষক।

    শিক্ষার্থীর শিখন ঘাটতি যদি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেই পূরণ করা যায়, তাহলে তার কোচিংয়ে যাওয়ার প্রয়োজন কমে আসবে। অর্থাৎ কোচিং বন্ধের সবচেয়ে কার্যকর উপায় শুধু নিষেধাজ্ঞা নয়; বিদ্যালয়ের শিক্ষাকে এমন পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, যাতে শিক্ষার্থী বাইরে না গিয়েও প্রয়োজনীয় সহায়তা পায়।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমানের মতে, ভালো ফলের জন্য অভিভাবকদের অতিরিক্ত প্রত্যাশা এবং শিক্ষাক্রম অনুযায়ী ক্লাস না হওয়ার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ বাড়ছে।

    কোচিংয়ে বেশি অনুশীলনের সুযোগ পাওয়া যায় বলেও শিক্ষার্থীরা সেখানে যাচ্ছে। এই বাস্তবতা দেখায়, শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনায় পর্যাপ্ত অনুশীলন, পুনরাবৃত্তি এবং ব্যক্তিগত সহায়তার ব্যবস্থা বাড়ানো প্রয়োজন।

    কোচিংয়ে সময় বাড়ছে, নিজে শেখার সময় কমছে

    একজন শিক্ষার্থী বিদ্যালয়ে কয়েক ঘণ্টা থাকার পর আবার কোচিংয়ে কয়েক ঘণ্টা কাটালে তার নিজের মতো করে শেখার সময় কমে যায়। অথচ শেখার জন্য শুধু শিক্ষককে শোনা যথেষ্ট নয়। নিজে পড়া, প্রশ্ন তৈরি করা, ভুল করা এবং সেই ভুল সংশোধনের সুযোগও দরকার।

    সারা দিন একের পর এক ক্লাসে বসে থাকা শিক্ষার্থী মানসিক ও শারীরিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ক্লান্ত অবস্থায় সে হয়তো দেওয়া কাজ শেষ করতে পারে, কিন্তু গভীরভাবে বিষয় বোঝার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারে।

    খেলাধুলা, পরিবারকে সময় দেওয়া, সৃজনশীল কাজ এবং পর্যাপ্ত ঘুমও শিশুর বিকাশের জন্য জরুরি। কোচিংয়ের অতিরিক্ত চাপ এসব সময় সংকুচিত করে দিচ্ছে।

    ফলে ভালো ফলের লক্ষ্য পূরণ হলেও শিক্ষার্থীর সামগ্রিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এই দিকটি শুধু অভিভাবক নয়, বিদ্যালয় ও নীতিনির্ধারকদেরও বিবেচনায় নিতে হবে।

    কোচিং নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, কোচিং-বাণিজ্যের বিস্তার ঠেকাতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ বিবেচনা করছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার ওপর।

    শিক্ষকদের কোচিং-বাণিজ্য থেকে দূরে রাখা, শিক্ষার্থীর ওপর বাড়তি চাপ কমানো এবং বিদ্যমান নীতিমালা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

    মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল ৩১ জুলাই জানিয়েছেন, সরকার শ্রেণিকক্ষের মান উন্নত করার পাশাপাশি কোচিং বন্ধে থাকা নীতিমালা বাস্তবায়নে জোর দেবে।

    এ ছাড়া কোচিং সেন্টারগুলোকে একটি নির্দিষ্ট নীতিমালার আওতায় আনার কথাও ভাবা হচ্ছে।

    অনুমোদন ছাড়া কোচিং নয়

    শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, একটি বিদ্যালয় পরিচালনা করতে যেমন অনুমোদন প্রয়োজন, তেমনি কোচিং সেন্টারও অনুমোদন নিয়ে চালাতে হবে। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

    এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে কোচিং সেন্টারের নিবন্ধন, শিক্ষক নিয়োগ, পাঠদানের পরিবেশ, ফি, নিরাপত্তা এবং কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।

    তবে শুধু অনুমোদন দেওয়াই যথেষ্ট নয়। অনুমোদন পাওয়ার পর প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়ম মেনে চলছে কি না, তা নিয়মিত যাচাই করতে হবে। অতিরিক্ত ফি, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ফলাফলের নিশ্চয়তা এবং শিশুদের ওপর অযৌক্তিক চাপ সৃষ্টির বিষয়েও বিধিনিষেধ প্রয়োজন।

    কোচিং অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুব আরেফিন কোচিং নীতিমালা তৈরির উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তাঁর মতে, নীতিমালা কার্যকর করতে হলে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন।

    নিষেধাজ্ঞাই একমাত্র সমাধান নয়

    কোচিং সেন্টার বন্ধ করে দিলেই কোচিংনির্ভরতা শেষ হবে না। কারণ এর চাহিদা তৈরি হচ্ছে বিদ্যালয়ের পাঠদানের ঘাটতি, পরীক্ষার চাপ, চাকরি ও ভর্তির তীব্র প্রতিযোগিতা এবং অভিভাবকদের উদ্বেগ থেকে।

    যত দিন এসব কারণ থাকবে, তত দিন কোচিং কোনো না কোনো রূপে টিকে থাকবে। প্রকাশ্য কোচিং বন্ধ হলে বাসায় গোপন ব্যাচ, ব্যক্তিগত শিক্ষক অথবা অনলাইন ক্লাসের দিকে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকতে পারে।

    তাই সরকারের পদক্ষেপে দুই ধরনের ভারসাম্য প্রয়োজন। একদিকে অনিয়ন্ত্রিত বাণিজ্য, বাধ্যতামূলক কোচিং এবং শিক্ষকের স্বার্থের সংঘাত বন্ধ করতে হবে। অন্যদিকে যেসব শিক্ষার্থী সত্যিই অতিরিক্ত সহায়তা প্রয়োজন, তাদের জন্য বিদ্যালয়ের ভেতরে সহজলভ্য ও মানসম্মত ব্যবস্থা রাখতে হবে।

    সমাধান শুরু হতে হবে বিদ্যালয় থেকে

    কোচিংয়ের বিস্তার ঠেকানোর সবচেয়ে টেকসই পথ হলো বিদ্যালয়ের প্রতি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের আস্থা ফিরিয়ে আনা।

    শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীসংখ্যা সহনীয় পর্যায়ে আনা, পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ, নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পাঠদানের মান পর্যবেক্ষণ এবং দুর্বল শিক্ষার্থীর জন্য বিদ্যালয়ের ভেতরেই সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

    পরীক্ষার প্রশ্ন ও মূল্যায়নেও মুখস্থনির্ভরতা কমাতে হবে। শুধু সাজেশন ও কৌশল মুখস্থ করে যাতে ভালো ফল করা না যায়, সে ধরনের মূল্যায়নব্যবস্থা তৈরি হলে বাণিজ্যিক কোচিংয়ের আকর্ষণ কমতে পারে।

    অভিভাবকদেরও বোঝাতে হবে, প্রতিটি শিশুর শেখার গতি এক নয়। শুধু নম্বরকে সফলতার একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখলে শিশুর ওপর অস্বাভাবিক চাপ তৈরি হয়।

    কোচিংয়ের বিস্তার এখন আর শুধু শিক্ষা খাতের একটি বিচ্ছিন্ন ব্যবসা নয়। এটি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা, সামাজিক প্রতিযোগিতা, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং ফলকেন্দ্রিক মানসিকতার প্রতিফলন।

    শহর থেকে গ্রাম পর্যন্ত কোচিং ছড়িয়ে পড়া দেখায়, বিদ্যালয়ের শিক্ষা নিয়ে মানুষের আস্থা পুরোপুরি দৃঢ় নয়। একই সঙ্গে অভিভাবকেরা এমন এক প্রতিযোগিতার মধ্যে আটকে গেছেন, যেখানে বাড়তি খরচ করতে না পারলে সন্তান পিছিয়ে পড়বে বলে তাঁরা আশঙ্কা করছেন।

    ২০১২ সালের আগস্টে নীতিমালা করা হলেও তার কার্যকর বাস্তবায়ন না থাকায় কোচিং-বাণিজ্য আরও বিস্তৃত হয়েছে। এখন নতুন নীতিমালা বা অনুমোদনব্যবস্থা তৈরির পাশাপাশি পুরোনো নিয়মের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

    কোচিংয়ের প্রয়োজন পুরোপুরি শেষ করতে হলে শিক্ষার্থীর শেখার ঘাটতি শ্রেণিকক্ষেই পূরণ করতে হবে। বিদ্যালয় যদি মানসম্মত শিক্ষা, পর্যাপ্ত অনুশীলন এবং ব্যক্তিগত সহায়তা দিতে পারে, তাহলে অভিভাবকেরা আর বাধ্য হয়ে কোচিংয়ের পেছনে ছুটবেন না।

    কোচিং নিয়ন্ত্রণের প্রকৃত সাফল্য তখনই আসবে, যখন বিদ্যালয়ের পর আরেকটি বিদ্যালয়ের প্রয়োজন হবে না।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    শিক্ষা

    চট্টগ্রাম বোর্ডের স্থগিত এইচএসসি পরীক্ষার নতুন সূচি প্রকাশ

    আগস্ট 4, 2026
    শিক্ষা

    ‎এবারও এসএসসির ফলাফলের ভিত্তিতেই একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি

    আগস্ট 3, 2026
    বাংলাদেশ

    শিক্ষার্থীদের আপত্তির মুখে যুদ্ধাপরাধীদের ছবি অপসারণ করল রাবি প্রশাসন

    আগস্ট 3, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.