দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার নতুন সময়সূচি প্রকাশ করা হয়েছে। সংশোধিত রুটিন অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট থেকে স্থগিত পরীক্ষাগুলো শুরু হবে এবং ৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে চলবে। একই সঙ্গে পরীক্ষার্থীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাও দিয়েছে শিক্ষা বোর্ড।
গত ৮ জুলাই থেকে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা স্থগিত ছিল। তবে এই সময় দেশের অন্যান্য শিক্ষা বোর্ডে পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী পরীক্ষা স্বাভাবিকভাবে চলেছে। ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি হলেও নতুন সূচি প্রকাশের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান হলো।

নতুন রুটিন অনুযায়ী, ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে ইংরেজি (আবশ্যিক) দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা। এরপর ২২ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি পরীক্ষা।
২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্র, হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা প্রথম পত্র। এরপর ২৭ আগস্ট অনুষ্ঠিত হবে পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র, হিসাববিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র এবং যুক্তিবিদ্যা দ্বিতীয় পত্র।
২৯ আগস্ট সকালে ভূগোল প্রথম পত্র এবং বিকেলে আরবি প্রথম পত্র ও পালি প্রথম পত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩১ আগস্ট সকালে ভূগোল দ্বিতীয় পত্র এবং বিকেলে আরবি দ্বিতীয় পত্র ও পালি দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ২ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে রসায়ন প্রথম পত্র, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি প্রথম পত্র, ইতিহাস প্রথম পত্র, গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন প্রথম পত্র এবং উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও বিপণন প্রথম পত্র। এসব বিষয়ের দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৫ সেপ্টেম্বর।
পরীক্ষার শেষ ধাপে ৭ সেপ্টেম্বর নেওয়া হবে অর্থনীতি প্রথম পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও কর্মশালা অনুশীলন প্রথম পত্র। সবশেষে ৯ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে অর্থনীতি দ্বিতীয় পত্র এবং প্রকৌশল অঙ্কন ও কর্মশালা অনুশীলন দ্বিতীয় পত্র পরীক্ষা।
পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রকাশিত নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সকালের শিফটের পরীক্ষা সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং বিকেলের শিফটের পরীক্ষা দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষার্থীদের অবশ্যই পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট আগে নির্ধারিত পরীক্ষাকক্ষে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ আসন গ্রহণ করতে হবে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন সময়সূচি প্রকাশের ফলে চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীরা এখন নির্দিষ্ট পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবেন। তবে যেহেতু অন্যান্য বোর্ডের তুলনায় তাদের পরীক্ষা পিছিয়ে গেছে, তাই বাকি সময়টুকু সঠিকভাবে কাজে লাগানোই শিক্ষার্থীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে। নিয়মিত পুনরাবৃত্তি, সময় ব্যবস্থাপনা এবং বোর্ড নির্ধারিত নির্দেশনা মেনে চললে পরীক্ষার্থীরা ভালো ফল করার সুযোগ পাবেন বলে অভিমত সংশ্লিষ্টদের।

