দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থাভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য সম্পূর্ণ অর্থায়নে বৃত্তি চালুর ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ এস এম আমানুল্লাহ। তিনি জানান, বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ উন্মুক্ত করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার নেপালের কাঠমান্ডুর একটি কলেজে আয়োজিত এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন উপাচার্য। বিভিন্ন দেশের গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনের তথ্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
উপাচার্য জানান, বর্তমানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আড়াই হাজারেরও বেশি কলেজ এবং প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী রয়েছেন। প্রায় ৫০টি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনাকারী এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মনোবিজ্ঞান অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচিত হয়। তিনি উল্লেখ করেন, গত বছরের জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে দেশের অনেক শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে গেছেন। এই বাস্তবতা মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত সংখ্যক পেশাদার মনোবিজ্ঞানী তৈরি করা এখন সময়ের জরুরি দাবি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার ভাষায়, শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা ছাড়া টেকসই মানবসম্পদ গড়ে তোলা সম্ভব নয়, আর এই লক্ষ্য সামনে রেখেই বিশ্ববিদ্যালয়টি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ ও দক্ষ জনবল তৈরিতে দীর্ঘমেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
উপাচার্য আরও জানান, দেশে বর্তমানে কাউন্সেলিং, ফলিত ও সমাজ মনোবিজ্ঞানী পেশাজীবীদের তীব্র সংকট বিরাজমান। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান চাহিদা অনুযায়ী অন্তত ৩০ হাজার মনোবিজ্ঞানী প্রয়োজন হলেও বাস্তবে কর্মরত আছেন মাত্র প্রায় ৩০০ জন। এই বিশাল ঘাটতি দূর করতে দেশের প্রতিটি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ধাপে ধাপে কাউন্সেলিং সেবা চালু এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরির উদ্যোগকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সার্কের মহাসচিব, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন পরিচালকসহ বিভিন্ন দেশের একাধিক শিক্ষাবিদ, মনোবিজ্ঞানী, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি।

