দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে সামনের দিন এসে গেছে। আগামীকাল সোমবার, ১০ আগস্ট, সকাল ১০টায় প্রকাশিত হতে যাচ্ছে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল। একই সঙ্গে শিক্ষা বোর্ডগুলোর নিজস্ব ওয়েবসাইট, দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং মোবাইল এসএমএসের মাধ্যমে এই ফল জানার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লাখো পরীক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের জন্য প্রতীক্ষার এই সময়টা শেষ হতে চলেছে খুব শিগগিরই। ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই কীভাবে দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নিজের রেজাল্ট জানা যাবে, তা নিয়ে থাকছে বিস্তারিত নির্দেশনা।
ওয়েবসাইট থেকে ফল দেখার নিয়ম: শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল সংগ্রহের জন্য নির্দিষ্ট দুটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করতে হবে। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো eduboardresults.gov.bd অথবা educationboardresults.gov.bd এই দুই ঠিকানার মাধ্যমে ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে।
ব্যক্তিগতভাবে ফল জানতে চাইলে educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রথমে পরীক্ষার ধরন হিসেবে এসএসসি বা দাখিল বেছে নিতে হবে। এরপর বছর নির্বাচনের ঘরে বর্তমান পরীক্ষার বছর দিতে হবে। পরের ধাপে নিজ নিজ বোর্ড নির্বাচন করে রোল নম্বর ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর সতর্কতার সঙ্গে টাইপ করতে হবে। সবশেষে স্ক্রিনে দেওয়া সাধারণ গাণিতিক যোগফল (যেমন তিন যোগ পাঁচ সমান আট) সঠিকভাবে বসিয়ে সাবমিট বাটনে চাপ দিলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে কাঙ্ক্ষিত ফলাফল।
এসএমএসেও মিলবে ফল: যাদের কাছে ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য নয়, তাদের জন্য রয়েছে মোবাইল এসএমএস সেবা। মোবাইল ফোন থেকে ১৬১৪০ অথবা ১৬২২২ নম্বরে নির্দিষ্ট ফরম্যাটে বার্তা পাঠিয়ে সহজেই ফল জানা যাবে।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষার্থীদের জন্য নিয়মটি এমন—মেসেজ অপশনে গিয়ে প্রথমে লিখতে হবে এসএসসি, তারপর একটি স্পেস দিয়ে নিজ বোর্ডের ইংরেজি নামের প্রথম তিন অক্ষর, এরপর আবার স্পেস দিয়ে রোল নম্বর এবং শেষে স্পেস দিয়ে পরীক্ষার বছর লিখে তা পাঠাতে হবে ১৬১৪০ নম্বরে। যেমন ঢাকা বোর্ডের কোনো শিক্ষার্থী লিখবে—এসএসসি ঢাকা রোল নম্বর ২০২৬। বার্তা পাঠানোর কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে ফলাফল চলে আসবে।
মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মটি কিছুটা আলাদা। তাদের আগেই প্রিরেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হয়। এ জন্য দাখিল লিখে বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর একসঙ্গে লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে। এই প্রিরেজিস্ট্রেশন থাকলে ফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে ফলাফল পৌঁছে যাবে।
কারিগরি বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও পদ্ধতি প্রায় একই রকম। তাদের এসএসসি লিখে বোর্ডের প্রথম তিন অক্ষর, রোল নম্বর ও বছর লিখে পাঠাতে হবে ১৬২২২ নম্বরে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকেও পরীক্ষার্থীরা ফলাফল সংগ্রহ করতে পারবে। এ জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে বোর্ডের ওয়েবসাইটে থাকা নির্দিষ্ট রেজাল্ট কর্নারে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর দিতে হবে। এরপরই পুরো প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত ফলাফল শিট ডাউনলোড করে নেওয়া সম্ভব হবে।
তবে স্পষ্ট করে বলে রাখা ভালো, শিক্ষা বোর্ড কার্যালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা কোনো সংবাদমাধ্যমের কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি ফলাফল সংগ্রহের কোনো সুযোগ নেই।
চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার তত্ত্বীয় অংশ শুরু হয়েছিল এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে এবং চলে মে মাসের শেষ ভাগ পর্যন্ত। এরপর জুন মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে অনুষ্ঠিত হয় ব্যবহারিক পরীক্ষা। দেশের মোট এগারোটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এবার পরীক্ষায় অংশ নেয় প্রায় সাড়ে আঠারো লাখ শিক্ষার্থী, যাদের মধ্যে ছাত্র ও ছাত্রীর সংখ্যা প্রায় কাছাকাছি—উভয় দলই নয় লাখের বেশি। এখন সবার দৃষ্টি আগামীকালের দিকে, যেদিন এই বিশাল সংখ্যক শিক্ষার্থীর এক বছরের পরিশ্রমের ফলাফল প্রকাশিত হবে।

