যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের লেখার দুর্বলতা দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি শিক্ষক ড্যারিয়াস উইলিয়ামস। একটি সহজ লেখার অনুশীলনও শিক্ষার্থীরা শেষ করতে না পারায় শ্রেণিকক্ষের সবার সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। সূত্র: নিউইয়র্ক পোস্ট
ড্যারিয়াস উইলিয়ামস হিউস্টন ইন্ডিপেনডেন্ট স্কুল ডিস্ট্রিক্টের হুইটলি হাই স্কুলের শিক্ষক। স্কুলের দ্বিতীয় দিনের প্রথম ক্লাসেই শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দুর্বলতা দেখে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। মঙ্গলবার দুপুরের খাবারের বিরতিতে ইনস্টাগ্রামে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে উইলিয়ামস জানান, টানা তিন ঘণ্টা ক্লাস নেওয়ার পর শ্রেণিকক্ষের মাঝেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
উইলিয়ামস বলেন, শিক্ষার্থীদের লেখার দক্ষতা এতটাই দুর্বল ছিল যে তাদের নিয়ে কাজ করতে গিয়ে তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন।
নিউ এডুকেশন সিস্টেমের ক্যারিয়ার অ্যান্ড টেকনিক্যাল এডুকেশন বিভাগের কর্মী উইলিয়ামস জানান, তার ক্লাসের উচ্চ মাধ্যমিকের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থীদের দুটি অনুচ্ছেদ পড়তে দেওয়া হয়েছিল। এরপর তাদের একটি বাক্য সম্পূর্ণ করতে বলা হয়। তবে বাক্যটির বেশিরভাগ অংশ আগেই লিখে দিয়েছিলেন তিনি।
কিন্তু এতটা সহায়তা দেওয়ার পরও শিক্ষার্থীরা বাক্যটি সম্পূর্ণ করতে পারেনি। এতে হতবাক হয়ে যান শিক্ষক।
উইলিয়ামস বলেন, তিনি শিক্ষার্থীদের জন্য মূলত বাক্যটি প্রায় পুরোপুরিই লিখে দিয়েছিলেন। তাদের বয়স ১৭ ও ১৮ বছর। অথচ তারা চারটি শব্দও পূরণ করতে পারেনি। তার ভাষায়, মাত্র চারটি শব্দও তারা লিখতে পারেনি।
তিনি আরও জানান, লেখার বিষয়টি তিনি শিক্ষার্থীদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন। সবাই মিলে বিষয়টি চিহ্নিত ও বিশ্লেষণও করেছিলেন। এমনকি প্রশ্ন দেওয়ার আগেই তিনি তাদের উত্তরগুলোও বলে দিয়েছিলেন। এরপরও শিক্ষার্থীরা কাজটি সম্পন্ন করতে পারেনি। কোথায় সমস্যা হচ্ছে, তা তিনি সত্যিই বুঝতে পারছেন না বলেও জানান।
নিজের হতাশা প্রকাশ করে উইলিয়ামস বলেন, স্কুলের মাত্র দ্বিতীয় দিন চলছে। অথচ তার ক্লাসে এমন শিক্ষার্থী রয়েছে যারা ঠিকমতো পড়তে পারে না। এমনকি শেষ বর্ষের কিছু শিক্ষার্থী লিখতেও পারে না। তারা লিখতে পারে না—এ কথা বলতে বলতেই তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।
গাল বেয়ে অশ্রু ঝরার সময় উইলিয়ামস বলেন, তার শিক্ষার্থীরা কথা বলতে পারে, যুক্তি দিতে পারে এবং নিজেদের বক্তব্যের পক্ষে ব্যাখ্যাও দিতে পারে। কিন্তু সেই দক্ষতাগুলো তারা লিখিত কাজে প্রয়োগ করতে পারছে না।
তবে শ্রেণিকক্ষে কান্নার ভিডিও প্রকাশের পর সমালোচনার মুখে পড়েন উইলিয়ামস। সমালোচকেরা প্রশ্ন তোলেন, শিক্ষার্থীদের পড়া ও লেখার দক্ষতা নিয়ে মন্তব্য করার মতো প্রয়োজনীয় যোগ্যতা তার রয়েছে কি না।
শিক্ষকতার পাশাপাশি উইলিয়ামস খণ্ডকালীন রান্নাবিষয়ক বিষয়বস্তু তৈরি করেন। গত এপ্রিল মাসে তিনি বার্কলি কলেজ অব মিউজিক থেকে অর্জন করা তার দ্বিতীয় স্নাতক ডিগ্রির কথা প্রকাশ্যে জানান। এরপর তিনি জানান, আমেরিকান কলেজ অব এডুকেশনে মাস্টার্স প্রোগ্রামে ভর্তি হয়েছেন। সেখানে তিনি কারিকুলাম অ্যান্ড ইনস্ট্রাকশন বিষয়ে পড়াশোনা করছেন।
উইলিয়ামস আরও জানান, তার বেশ কয়েকটি পেশাগত সনদ রয়েছে। এসবের মধ্যে টেক্সাস অঙ্গরাজ্য এবং টেক্সাস এডুকেশন এজেন্সির সনদও রয়েছে। সমালোচনার জবাবে প্রকাশ করা পরবর্তী একটি ভিডিওতে তিনি বলেন, তার সব সনদই যথাযথ রয়েছে।
সমালোচকদের উদ্দেশে উইলিয়ামস বলেন, যারা মনে করেন তরুণ শিক্ষার্থীদের পড়ানোর জন্য তার যোগ্যতা নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তারা যেন দায়িত্ব নিয়ে বিষয়টি দেখান। তাদের সনদ নিতে, এসব উচ্চ বিদ্যালয়ে যেতে এবং একটি শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব নিতে বলেন তিনি। প্রতি ক্লাসে ২২ জন শিক্ষার্থীর সামনে দাঁড়িয়ে পড়ানোর পর তারা কতটা ভালো করতে পারেন, সেটিও দেখতে চান বলে জানান উইলিয়ামস।
শ্রেণিকক্ষে উইলিয়ামসের কান্নায় ভেঙে পড়ার ঘটনার কয়েক দিন পর নিউইয়র্ক সিটির শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার দক্ষতা নিয়েও নতুন তথ্য প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, গত শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বেশিরভাগ শিক্ষার্থী ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি।
এ সপ্তাহে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ প্রকাশিত প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির ৫৭ শতাংশ, চতুর্থ শ্রেণির ৫২ শতাংশ এবং পঞ্চম শ্রেণির ৫৭ শতাংশ শিক্ষার্থী ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ আর্টস বা ইএলএ পরীক্ষায় ফেল করেছে।
শিক্ষা বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাত্র ৪৮ শতাংশ নির্ধারিত দক্ষতার স্তরে পৌঁছেছে। আগের শিক্ষাবর্ষের তুলনায় এই হার ৫ শতাংশ কমেছে। শিক্ষা বিভাগ এই পতনকে ‘উল্লেখযোগ্য’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

