আগামী বছরের মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি থেকে শুরু করার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে শিক্ষা প্রশাসন। পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের পর মার্চে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে ১৪ মার্চ। পরীক্ষা শেষ হবে ১৫ এপ্রিল।
ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান সোমবার বিডিনিউজ২৪ ডটকমকে বলেন, ১৪ মার্চ পরীক্ষা শুরু হয়ে ১৫ এপ্রিল শেষ হবে। শিগগিরই শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইটে পরীক্ষার সময়সূচি প্রকাশ করা হবে।
আগামী বছর পবিত্র রমজান শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে। রমজান শেষে মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে ঈদুল ফিতর হতে পারে। ফলে ঈদ শেষে ১৪ মার্চ থেকে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১৪ মে শিক্ষামন্ত্রী এ এন এম এহসানুল হক মিলন জানিয়েছিলেন, আগামী বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা ৭ জানুয়ারি শুরু হবে। পরে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষাবিদদের মধ্যে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। পরীক্ষার প্রস্তাবিত সময়সূচিও প্রকাশ করা হয়েছিল।
এরপর ২ জুন সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানালে পরীক্ষা পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে।
আগামী বছরের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন এমনিতেই নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী তারা ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্তে নবম ও দশম শ্রেণিতে তাদের ২০১০ সালের সংশোধিত শিক্ষাক্রমে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
এর পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়াও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ফলে প্রায় ২০ লাখ শিক্ষার্থীকে ফেব্রুয়ারির মতো আগাম সময়ে পরীক্ষায় বসতে হলে তাদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হতো বলে মনে করছিলেন অনেক পরীক্ষার্থী ও অভিভাবক।
একসময় নিয়ম অনুযায়ী ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি ও সমমানের এবং এপ্রিলে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো। তবে করোনাভাইরাস মহামারি ও জুলাই অভ্যুত্থানের পর পরীক্ষার সময়সূচিতে ধারাবাহিকভাবে পরিবর্তন এসেছে। পরবর্তী সময়ে এসএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে এবং এইচএসসি পরীক্ষা জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত হতে থাকে।
শিক্ষার্থীদের শিক্ষাবর্ষের সময়সূচি পুনর্বিন্যাস করে সময় বাঁচানোর লক্ষ্যেই শিক্ষামন্ত্রী মিলন এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে এগিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তবে বিভিন্ন পক্ষের আপত্তি ও বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হলো।

