আগামী শিক্ষাবর্ষের গুচ্ছভুক্ত ভর্তি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হতে যাচ্ছে। বর্তমানে সাধারণ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছের অধীনে থাকা বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে আরও দুই থেকে তিনটি নতুন প্রতিষ্ঠান যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এই তালিকায় থাকতে পারে তিনটি নবীন বিশ্ববিদ্যালয়, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদনের ওপর।
গতকাল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাবে অনুষ্ঠিত একটি সভায় এবারের গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষার মূল কমিটি নতুন করে গঠন করা হয়েছে। সভায় অংশ নেন গুচ্ছভুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপাচার্যরা, যেখানে বিদ্যমান বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি নতুন প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়।
নতুন নেতৃত্বে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ার মূল কমিটির নেতৃত্বের দায়িত্ব পেয়েছেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, আর সহনেতৃত্বের দায়িত্বে থাকছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মূল কমিটির পাশাপাশি প্রযুক্তিগত, ক্রয় ও আর্থিক বিষয়াদি দেখভালের জন্য একাধিক উপকমিটিও গঠন করা হবে বলে জানা গেছে।
কমিটির আহ্বায়ক জানিয়েছেন, গতকালের সভার মূল উদ্দেশ্য ছিল চলতি শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা এবং পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট আর্থিক হিসাব-নিকাশের অসম্পূর্ণ বিষয়গুলো পর্যালোচনা করা। একই সঙ্গে আগের কমিটির মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হওয়ায় নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে এই সভায়।
আহ্বায়কের ভাষ্য অনুযায়ী, আসন্ন দিনগুলোতে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণের পাশাপাশি বিভিন্ন কারিগরি ও প্রশাসনিক কমিটি গঠনের কাজও এগিয়ে নেওয়া হবে। নতুন কমিটির নেতৃত্বে শিগগিরই আরেকটি সভা অনুষ্ঠিত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। যেহেতু ইতিমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এবং কৃষি গুচ্ছ তাদের নিজস্ব পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা করে ফেলেছে, তাই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছও দ্রুততার সঙ্গে সবার মতামত নিয়ে এই সপ্তাহের মধ্যেই তারিখ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে বলে জানান তিনি।
নতুন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অন্তর্ভুক্তি প্রসঙ্গে আহ্বায়ক ব্যাখ্যা করেন, সাম্প্রতিক সময়ে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্বভাবে ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার মতো প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, পর্যাপ্ত জনবল কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা এখনো গড়ে ওঠেনি। এই বাস্তবতা বিবেচনায় স্বাভাবিকভাবেই তাদের গুচ্ছ পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় শেষ পর্যন্ত যুক্ত হবে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রস্তাব এখনো আসেনি।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, বর্তমানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি গুচ্ছ পদ্ধতির আওতায় থাকা বিশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে রয়েছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়সমূহ, যেগুলো মূলত তুলনামূলক নবীন ও মাঝারি আকারের প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ভর্তি পরীক্ষা পরিচালনার পরিবর্তে একটি সমন্বিত পদ্ধতিতে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যেই এই গুচ্ছ কাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল।
সামগ্রিকভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে গুচ্ছ ভর্তি পদ্ধতির পরিধিও ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য শুরুতেই নিজস্ব ভর্তি ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা ব্যয়বহুল ও সময়সাপেক্ষ হওয়ায় গুচ্ছ পদ্ধতিতে যুক্ত হওয়া তুলনামূলক বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। তবে গুচ্ছের আওতাধীন বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা যত বাড়বে, সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনার জটিলতাও তত বাড়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নতুন প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্তির পাশাপাশি সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে আরও সুসংগঠিত ও কার্যকর রাখার বিষয়টিও ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

