দেশের কলেজ ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির জন্য অনলাইন আবেদনের সময়সীমা আজ রোববার রাত আটটায় শেষ হতে যাচ্ছে। ২০২৬-২০২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য পরিচালিত এই ভর্তি কার্যক্রমে আবেদনের চূড়ান্ত সময় ঘনিয়ে আসায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের মাধ্যমে যেসব শিক্ষার্থীর ফলাফলে পরিবর্তন এসেছে, তাদের হালনাগাদ তথ্য ইতিমধ্যে ভর্তির অনলাইন পোর্টালে যুক্ত করা হয়েছে। এই শিক্ষার্থীরা যদি আগে আবেদন না করে থাকেন, তাহলে তারা নতুন করে আবেদন জমা দিতে পারবেন। অন্যদিকে যারা ইতিমধ্যে আবেদন সম্পন্ন করেছেন, তারা চাইলে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তাদের কলেজ পছন্দের তালিকা পরিবর্তন বা সংশোধন করতে পারবেন।
এছাড়া নির্ধারিত তারিখের মধ্যে যেসব শিক্ষার্থী কোনো কারণে আবেদন করতে ব্যর্থ হয়েছিলেন, তাদের জন্যও আজ রাত পর্যন্ত বাড়তি সুযোগ রাখা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই ভর্তি প্রক্রিয়ায় কোনো ধরনের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি মেধাক্রম অনুসরণ করেই শিক্ষার্থীদের কলেজে বণ্টন করা হবে। আবেদনের জন্য নির্ধারিত ফি রাখা হয়েছে দুইশত বিশ টাকা, আর প্রতিটি শিক্ষার্থী সর্বনিম্ন পাঁচটি থেকে সর্বোচ্চ দশটি পর্যন্ত প্রতিষ্ঠান বাছাই করার সুযোগ পাচ্ছেন।
আবেদন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর প্রথম ধাপে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে আগামী বুধবার রাতে। এরপর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভর্তি নিশ্চিত করতে হবে, নইলে তাদের নির্বাচন বাতিল বলে গণ্য হবে। এরপর ধারাবাহিকভাবে মাইগ্রেশন ফলাফল প্রকাশ এবং সরাসরি ভর্তি কার্যক্রম শেষে আগামী মাসের তৃতীয় সপ্তাহ নাগাদ একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরুর পরিকল্পনা রয়েছে।
নীতিমালা অনুযায়ী, চলতি শিক্ষাবর্ষে এবং তার আগের দুই বছরে এসএসসি বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরাই কেবল আবেদনের যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। বিদেশি শিক্ষা বোর্ড থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদেরও সুযোগ রয়েছে, তবে তাদের আগে সনদের সমতা নিরূপণ করিয়ে নিতে হবে।
এবারের ভর্তি প্রক্রিয়ায় একটি লক্ষণীয় দিক হলো বিভাগ পরিবর্তনের সুযোগ বৃদ্ধি। বিজ্ঞান বিভাগ থেকে পাস করা শিক্ষার্থীরা চাইলে মানবিক বা ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগেও ভর্তি হতে পারবেন। একইভাবে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষার শিক্ষার্থীরাও পরস্পরের বিভাগে আবেদনের সুযোগ পাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সব বিভাগের শিক্ষার্থীদের জন্য ইসলামি শিক্ষা, গার্হস্থ্য বিজ্ঞান ও সংগীত বিভাগের দরজাও খোলা রাখা হয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরাও নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট বিভাগে ভর্তি হতে পারবেন।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মোট আসনের সিংহভাগ, অর্থাৎ ৯৩ শতাংশ, সাধারণ মেধাক্রমের ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। বাকি আসনের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তানদের জন্য পাঁচ শতাংশ সংরক্ষিত থাকছে, আর শিক্ষা প্রশাসনে কর্মরতদের সন্তানদের জন্য নির্ধারিত রয়েছে সর্বমোট দুই শতাংশ আসন, তবে তা কেবল বড় শহর ও জেলা পর্যায়ের প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কোটার আসনে উপযুক্ত প্রার্থী না পাওয়া গেলে তা সাধারণ মেধাতালিকা থেকেই পূরণ করার নিয়ম রাখা হয়েছে। তবে এই বিশেষ কোটা কাঠামো কেবল চলতি শিক্ষাবর্ষের জন্যই কার্যকর থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
সমান জিপিএ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে অগ্রাধিকার নির্ধারণে মোট প্রাপ্ত নম্বরকে মানদণ্ড ধরা হবে। এরপরও সমতা থাকলে বিভাগভিত্তিক নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের নম্বর ক্রমান্বয়ে বিবেচনায় নেওয়া হবে। নিজস্ব স্কুল অ্যান্ড কলেজ কাঠামোর শিক্ষার্থীরা যোগ্যতা পূরণ সাপেক্ষে নিজ প্রতিষ্ঠানে ভর্তিতে কিছুটা অগ্রাধিকার পাবেন।
ভর্তি ফি ও সেশন চার্জের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানের অবস্থান ও এমপিওভুক্তির অবস্থা অনুযায়ী ভিন্নতা রাখা হয়েছে। রাজধানীর এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে সর্বোচ্চ সীমা তুলনামূলক কম রাখা হলেও নন-এমপিও বা আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে, বিশেষত ইংরেজি মাধ্যমে, সর্বোচ্চ ফি কিছুটা বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে তুলনামূলক কম ফি নির্ধারণের মাধ্যমে খরচের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে মনে করছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা। এর বাইরে প্রাথমিক নিশ্চায়নের সময় প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বোর্ড ফি হিসেবে নির্দিষ্ট একটি অঙ্ক পরিশোধ করতে হবে, যার মধ্যে রেজিস্ট্রেশন, ক্রীড়া, স্কাউটিং ও শিক্ষক কল্যাণসহ একাধিক খাতের অর্থ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নীতিমালার শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে এটাও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র ইস্যু বা শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে না। কোনো প্রতিষ্ঠান অননুমোদিত শাখা বা বিষয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি, স্বীকৃতি কিংবা এমপিওভুক্তি বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপের মুখোমুখি হতে হতে পারে।
সার্বিকভাবে, লাখো শিক্ষার্থীর ভবিষ্যৎ শিক্ষাজীবনের দিকনির্দেশনা ঠিক করে দেওয়া এই ভর্তি প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে, আর আজ রাতের সময়সীমার পরই নির্ধারিত হবে কারা কোন প্রতিষ্ঠানে সুযোগ পাচ্ছেন।

