ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষক অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুন বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে দেশের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠের অবস্থান নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই পিছিয়ে থাকার লক্ষণ প্রশাসন কখনো কান পেতে শুনেছে কি না।
সংখ্যা কী বলছে
টাইমস হায়ার এডুকেশনের সর্বশেষ (২০২৬) ওয়ার্ল্ড র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৮০১–১০০০ বন্ধনীতে। আগের বছর ছিল ১০০১–১২০০ বন্ধনীতে, অর্থাৎ ২০০ ধাপ উন্নতি হয়েছে। তবু বিশ্বের সেরা ৮০০-এর বাইরেই থাকতে হচ্ছে। অথচ প্রতিবেশী পাকিস্তানের কায়েদ-এ আজম বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে ৪০১–৫০০ বন্ধনীতে। ভারতের সেরা প্রতিষ্ঠান ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স রয়েছে ২০১–২৫০ বন্ধনীতে।
অধ্যাপক মামুনের মতে, এই প্রতিষ্ঠানের পদার্থবিজ্ঞানের শিক্ষকেরা এমআইটি, কেমব্রিজ বা হার্ভার্ডের শিক্ষকদের চেয়ে কোনো অংশে কম নন।
চীনের উদাহরণ
উন্নয়নের মডেল হিসেবে তিনি চীনকে দেখিয়েছেন। সিংহুয়া বিশ্ববিদ্যালয় এখন ১২ এবং পিকিং বিশ্ববিদ্যালয় ১৩ নম্বরে, যা বিশ বছর আগে কল্পনাও করা যেত না। তাঁর যুক্তি, চীনের অর্থনৈতিক উত্থান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন হাত ধরাধরি করে এগিয়েছে। যেদিন চীনের কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বে এক নম্বরে উঠবে, সেদিনই দেশটি হবে এক নম্বর সুপার পাওয়ার। আমেরিকা, ইংল্যান্ড, জার্মানি ও সিঙ্গাপুরের অগ্রগতির পেছনেও তিনি দেখছেন তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শক্তি।
“র্যাঙ্কিং গুরুত্বহীন” যুক্তির জবাব
র্যাঙ্কিংকে ছোট করে দেখানোর প্রবণতার সমালোচনা করে অধ্যাপক মামুন বলেছেন, খারাপ ফল হলে অনেকে এই কৌশল নেন। দুর্নীতির সূচকে শীর্ষে থাকলেও সরকার এমন কথা বলে বলে তিনি মন্তব্য করেছেন। তাঁর সিদ্ধান্ত, র্যাঙ্কিংয়ে পিছিয়ে থাকা মানেই আমরা এগোচ্ছি না।
এর আগে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত এক লেখাতেও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০১–১০০০ বন্ধনীতে ওঠা নিয়ে নীতিনির্ধারকদের সন্তুষ্টির সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, এই সামান্য অগ্রগতিকে জাতীয় বিজয় ভাবা ঠিক নয়।
মেধা ধরে রাখার প্রশ্ন
পোস্টের সবচেয়ে জোরালো প্রশ্নটি মেধা ধরে রাখা নিয়ে। বিশ্ববিদ্যালয় যদি মেধাবীদের ধরে রাখতে না পারে, তাহলে সামনে এগোবে কীভাবে? গত দশ বছরে কত শত মেধাবী চাকরি ছেড়ে চলে গেছেন, সেই হিসাব কারও কাছে আছে কি না, তা-ও জানতে চেয়েছেন তিনি।
কেন এই প্রশ্ন গুরুত্বপূর্ণ
একজন বর্তমান শিক্ষকের ভেতর থেকে আসা এই সমালোচনা উপেক্ষা করার মতো নয়। র্যাঙ্কিংয়ের পদ্ধতি নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও মেধা ধরে রাখার গুরুত্ব নিয়ে বিতর্কের সুযোগ কম। এক বছরের উন্নতি স্বস্তির, কিন্তু সেটিকে গন্তব্য ভাবলে চলবে না। প্রশাসন এই সমালোচনাকে আক্রমণ না ভেবে আত্মসমালোচনার সুযোগ হিসেবে নেবে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
(অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনের ফেসবুক পোস্ট অবলম্বনে; র্যাঙ্কিংয়ের তথ্য টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস ২০২৬ থেকে যাচাইকৃত)

