বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ‘লেখকের মুখোমুখি’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিডিও কনফারেন্স কক্ষে এ আয়োজন হয়। সেমিনারে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিজের জীবনসংগ্রাম, সাহিত্যচর্চা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি তুলে ধরেন লেখক, সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা হারুন হাবীব।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টার’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন আর রশিদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রের পরিচালক মহসিনা হোসাইন। মুখ্য বক্তা হিসেবে হারুন হাবীব ভার্চুয়ালি অংশ নেন।
সেমিনারে হারুন হাবীব তাঁর জীবনের নানা সংগ্রাম, দীর্ঘ সাহিত্যচর্চা এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি নিয়ে কথা বলেন। লেখালেখির অভিজ্ঞতা ও সাহিত্যচর্চার বিভিন্ন দিক নিয়েও তিনি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
শিক্ষার্থীরা সরাসরি লেখকের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেন। সাহিত্য, মুক্তিযুদ্ধ ও লেখালেখি নিয়ে নিজেদের ভাবনাও তাঁরা তুলে ধরেন। এতে লেখক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে একটি প্রাণবন্ত ও অংশগ্রহণমূলক আলোচনা তৈরি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ আয়োজনে যোগ দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য সেমিনারে অংশ নেওয়ায় হারুন হাবীবের প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। এমন আয়োজনের জন্য জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টারকেও তিনি ধন্যবাদ জানান।
আয়োজকেরা জানান, শিক্ষার্থীদের সাহিত্য, গবেষণা ও সৃজনশীল চর্চায় উৎসাহ দিতে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আয়োজন অব্যাহত থাকবে।
এ ধরনের অনুষ্ঠানের গুরুত্ব আলাদা। পাঠ্যবইয়ের বাইরে একজন লেখককে সরাসরি শোনা এবং তাঁকে প্রশ্ন করার সুযোগ শিক্ষার্থীদের জন্য শেখার নতুন দরজা খুলে দেয়। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধের মতো ইতিহাসের অধ্যায় যখন প্রত্যক্ষদর্শী ও যোদ্ধার মুখে শোনা যায়, তখন তা নতুন প্রজন্মের কাছে বেশি জীবন্ত হয়ে ওঠে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকায় দূরে থাকা বিশিষ্ট ব্যক্তিদেরও ক্যাম্পাসের আলোচনায় আনা সম্ভব হচ্ছে।
তবে সেমিনারে ঠিক কত শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন এবং আলোচনায় কী কী প্রশ্ন উঠেছে, সে তথ্য জানা যায়নি। ভবিষ্যতে কত নিয়মিত বিরতিতে এ ধরনের আয়োজন হবে, তারও সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা আয়োজকেরা জানাননি।
এখন নজর থাকবে জীবনানন্দ দাশ রিসার্চ সেন্টার পরবর্তী সময়ে আর কোন কোন লেখক ও গবেষককে শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি আনে, সেদিকে।

