সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের সব তথ্য-উপাত্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। আজ বুধবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই হস্তান্তর সম্পন্ন হয়। এর মাধ্যমে সাত কলেজের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পর্কের চূড়ান্ত বিচ্ছেদ ঘটল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমানের হাতে এসব তথ্য-উপাত্ত তুলে দেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক আবদুস সালাম, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এবং ভারপ্রাপ্ত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক উপস্থিত ছিলেন। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির পক্ষে ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সালমা বেগম, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক বোরহান উদ্দিন ও রেজিস্ট্রার।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের সার্বিক সফলতা কামনা করেন। তিনি বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তরের মাধ্যমে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ভবিষ্যতেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে তথ্য-উপাত্ত হস্তান্তর করায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে তিনি সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
শিক্ষার্থীদের একাডেমিক তথ্য, যেমন ফলাফল, নিবন্ধন ও পরীক্ষার রেকর্ড, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম চালানোর ভিত্তি। তাই এই তথ্য হস্তান্তর ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির স্বতন্ত্রভাবে পরীক্ষা, ফলাফল ও অন্যান্য একাডেমিক কাজ পরিচালনার পথ সুগম করবে। দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত থাকা কলেজগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য এটি একটি বড় পরিবর্তনের ধাপ।
তবে শিক্ষার্থীদের সেশনজট, পরীক্ষার সূচি, সনদ ও অন্যান্য একাডেমিক বিষয়ে এই পরিবর্তনের বাস্তব প্রভাব কী হবে, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট করা হয়নি। এখন নজর থাকবে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় কত দ্রুত নিজস্ব একাডেমিক কার্যক্রম গুছিয়ে নিতে পারে এবং শিক্ষার্থীরা কোনো জটিলতার মুখে পড়ে কি না, সেদিকে।

