পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের ঘটনায় সমালোচনার মুখে পড়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এ ঘটনায় সংস্থাটির ১৪ কর্মকর্তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দাঁড়িপাল্লার ঘটনায় একজন এবং নৌকার ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ১৩ জনকে বদলি করা হয়েছে। শুধু চিহ্নিত ভুল শুধরে দায়িত্ব শেষ করতে চায় না এনসিটিবি। সব শ্রেণির সব পাঠ্যবই নতুন করে পর্যালোচনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এনসিটিবির কর্মকর্তারা জানান, সম্প্রতি ষষ্ঠ শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়ে প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িপাল্লার ছবি ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে। এ নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই প্রাথমিক স্তরের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে নৌকার ছবির অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
রাজনৈতিক দলের প্রতীক হিসেবে পরিচিত এসব ছবির ব্যবহার নিয়ে যেমন সমালোচনা হয়েছে, তেমনি প্রশ্ন উঠেছে বই সম্পাদনা, ছবি বাছাই ও তদারকির পুরো প্রক্রিয়া নিয়েও। এরপরই পাঠ্যবইগুলো নতুন করে খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেয় এনসিটিবি।
এ লক্ষ্যে গঠিত বিশেষ কমিটি সব শ্রেণির সব বই ঘেঁটে দেখবে। নৌকা ও দাঁড়িপাল্লার মতো বিতর্কিত কোনো ছবি বা অসংগতি অন্য বইয়েও আছে কি না, তা খুঁজে বের করাই কমিটির কাজ। দ্রুত পর্যালোচনা শেষ করে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুপারিশ করবে তারা।
এদিকে ষষ্ঠ শ্রেণির আইসিটি বইয়ের মোট ৩৯ লাখ কপি ছাপার কথা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১৭ লাখ কপি ছাপা হয়ে গেছে। ভুল ধরা পড়ার পর বাকি ১৮ লাখ কপির ছাপার কাজ স্থগিত করা হয়েছে। অর্থাৎ ছাপা ও স্থগিত কপির হিসাব মিলিয়ে কিছু কপি এখনো হিসাবের বাইরে থাকছে। প্রকাশের আগে এ সংখ্যা যাচাই করে নেওয়া ভালো।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ইতিমধ্যে ছাপা হওয়া বইয়ের ভুল সংশোধনে সরকারকে বাড়তি কোনো অর্থ খরচ করতে হবে না। সংশ্লিষ্ট ছাপাখানাগুলো নিজ খরচে ভুল থাকা পৃষ্ঠা বা ফর্মা নতুন করে ছাপাবে। এরপর বই আবার বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে সরবরাহ করবে। বাকি বইয়ের ছাপার কাজও সংশোধনের পর শেষ করা হবে।
এনসিটিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা জাগো নিউজকে বলেন, সব বইয়ে দাঁড়িপাল্লা বা নৌকার মতো বিষয় আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ জন্য কাজ চলছে। কোনো বইয়ে অসংগতি পাওয়া গেলে তা সংশোধন করে স্কুলে পাঠানো হবে। তিনি আরও বলেন, ভুল থাকা পৃষ্ঠা সংশোধন করে নতুন করে ছাপা হবে, তারপর ছাপাখানাগুলো নিজ খরচে বই আবার বাঁধাই করে মাঠপর্যায়ে পাঠাবে। এতে সরকারের বাড়তি আর্থিক চাপ নেই।
এ ঘটনায় কর্মকর্তাদের বদলির মাধ্যমে দায় স্বীকারের একটি বার্তা দিয়েছে এনসিটিবি। তবে শিশুদের হাতে পৌঁছানোর আগে একের পর এক ভুল ধরা পড়ায় পাঠ্যবই প্রণয়নের তদারকি ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিশেষ করে ১৭ লাখ কপি ছাপা হওয়ার পর ভুল ধরা পড়া ইঙ্গিত দেয়, ছাপার আগের যাচাই-বাছাই যথেষ্ট কার্যকর ছিল না। বিশেষ কমিটির পর্যালোচনায় আরও অসংগতি মেলে কি না এবং ভবিষ্যতে এমন ভুল ঠেকাতে কী স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।

