বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘নিশি’ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি অর্জন করেছে। পরিবেশভিত্তিক চলচ্চিত্রের জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচিত ১২তম গ্রিন মন্টেনিগ্রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত হয়েছে ছবিটি।
আগামী ১ থেকে ৩ আগস্ট মন্টেনিগ্রোর ঝাবলিয়াক অঞ্চলে অবস্থিত ডুরমিটর ন্যাশনাল পার্কে উৎসবটির এবারের আসর অনুষ্ঠিত হবে। ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত এই স্থানটি ব্ল্যাক লেকের পাশে অবস্থিত এবং পরিবেশ ও প্রকৃতিনির্ভর চলচ্চিত্র প্রদর্শনের জন্য আন্তর্জাতিকভাবে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছে।
নির্বাচনের মাধ্যমে ‘নিশি’ বাংলাদেশের স্বাধীনধারার চলচ্চিত্র হিসেবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক মঞ্চে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করল। পরিবেশ, মানবিক সংকট এবং সামাজিক বাস্তবতার গল্প নিয়ে নির্মিত এই চলচ্চিত্র ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক পরিসরে আগ্রহ তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে।
চলচ্চিত্রটির গল্প রচনা ও যৌথ পরিচালনা করেছেন গোলাম রব্বানী। সহ-পরিচালক হিসেবে ছিলেন মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম (কচি)। ছবিটি নির্মিত হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল একাডেমি অব ফিল্ম অ্যান্ড মিডিয়ার (আইএএফএম) ব্যানারে। নির্মাণ প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গ্রিন ফিল্ম স্কুল অ্যালায়েন্স এবং ইউনেস্কো ঢাকা।
চলচ্চিত্রটির আন্তর্জাতিক উৎসবে নির্বাচিত হওয়াকে নির্মাতা গোলাম রব্বানী একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় বাস্তবতার গল্পকে আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের চলচ্চিত্রচর্চা থেকে শেখার সুযোগও তৈরি হয়, যা একজন নির্মাতার সৃজনশীল বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
‘নিশি’র কাহিনির কেন্দ্রে রয়েছে একটি চা-শ্রমিক পরিবারের কিশোরী। ভয়াবহ পানিসংকটের কারণে তার শিক্ষাজীবন বাধাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এই পরিস্থিতিকে কাজে লাগিয়ে লালচান নামে এক কাঠ ব্যবসায়ী একটি নলকূপ দেওয়ার বিনিময়ে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। গল্পটি পরিবেশগত সংকট, দারিদ্র্য, লিঙ্গবৈষম্য এবং সামাজিক দুর্বলতার জটিল বাস্তবতাকে সামনে নিয়ে আসে।
চলচ্চিত্রটির পোস্ট-প্রোডাকশনের কাজ পোল্যান্ডের লজ ফিল্ম স্কুলে সম্পন্ন হয়েছে। চূড়ান্ত সম্পাদনা, কালার গ্রেডিং এবং সাউন্ড ডিজাইনের কাজ সেখানে করা হয়। চিত্রগ্রহণের দায়িত্বে ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির সাবেক শিক্ষার্থী নাটালিয়া পুশনিক।
সিলেটের চা-বাগান এবং আশপাশের এলাকায় ‘নিশি’র শুটিং হয়েছে। ছবিটিতে স্থানীয় চা-শ্রমিক সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও অভিনয়ে দেখা যাবে। গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন বিশ্বজিৎ, গণেশ ও ভারতী।
পরিবেশ সংকট ও মানবিক বাস্তবতার গল্প নিয়ে নির্মিত ‘নিশি’র এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বাংলাদেশের স্বাধীন চলচ্চিত্র আন্দোলনের জন্য একটি ইতিবাচক অর্জন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করছে যে স্থানীয় মানুষের জীবনসংগ্রামের গল্পও বিশ্বমঞ্চে দর্শক ও বিচারকদের মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে।

