যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোর ফিল্ড মিউজিয়ামের গবেষকরা নিউ গিনির জঙ্গল থেকে একটি নতুন প্রজাতির সাপ আবিষ্কার করেছেন, যার বৈজ্ঞানিক নাম দেওয়া হয়েছে Lielaphis slashi। জনপ্রিয় রক ব্যান্ড গানস এন’ রোজেসের গিটারিস্ট স্ল্যাশ (আসল নাম সল হাডসন)-এর নামে সাপটির নামকরণ করায় এটি পরিচিতি পাচ্ছে “স্ল্যাশ’স গ্রাউন্ডস্নেক” নামে।
সাপটি সম্পর্কে
লালচে-বাদামি রঙের এই সাপটি লম্বায় প্রায় ২৮ ইঞ্চি এবং নিশাচর স্বভাবের। এটি বিষধর নয়, ফলে মানুষের জন্য কোনো গুরুতর হুমকি তৈরি করে না। এই গণের সাপগুলোর মুখের পেছনের দিকে বড় দাঁত থাকে, যা তারা ছোট, পিচ্ছিল আঁইশযুক্ত টিকটিকি ও অন্যান্য সরীসৃপের ডিম শিকারে ব্যবহার করে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। অজগরের মতো শিকারকে পেঁচিয়ে ধরার প্রবণতা এই সাপের মধ্যে নেই।
সাপটি প্রথম সংগ্রহ করা হয়েছিল ২০০৬ সালে, তবে একে সম্পূর্ণ নতুন প্রজাতি হিসেবে শনাক্ত করতে বছরের পর বছর গবেষণা লেগেছে। প্রায় দুই দশক আগে সংগ্রহ করা এই নমুনাটি দীর্ঘদিন অন্য প্রজাতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা হয়েছিল, পরবর্তীতে বিস্তারিত বিশ্লেষণে বোঝা যায় এটি আসলে একেবারে নতুন ও পৃথক একটি প্রজাতি।
গবেষণাপত্রের সহ-লেখক ক্রিস অস্টিন জানিয়েছেন, নিউ গিনির এই গ্রাউন্ডস্নেকগুলো নিশাচর হওয়ায় সন্ধ্যার পর বড় গাছের গোড়ায় খাবারের খোঁজে থাকা অবস্থায় এদের সবচেয়ে বেশি দেখা মেলে। তবে রাতের বেলা নিউ গিনিতে কাজ করা বেশ ঝুঁকিপূর্ণ, কারণ দেখতে প্রায় একই রকম হলেও এই নির্বিষ গ্রাউন্ডস্নেকের পাশাপাশি সেখানে অত্যন্ত বিষধর সাপও রয়েছে, যেগুলোর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা থাকে।
কেন স্ল্যাশের নামে?
ফিল্ড মিউজিয়ামের হারপেটোলজি বিভাগের অ্যাসোসিয়েট কিউরেটর সারা রুয়ান এই গবেষণাপত্রের সিনিয়র লেখক। সরীসৃপপ্রেমী হিসেবে স্ল্যাশের দীর্ঘদিনের পরিচিতি এবং জাদুঘর ও চিড়িয়াখানার প্রতি তাঁর সমর্থনের কারণেই তাঁকে বেছে নেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ ছাড়া রুয়ান নিজেও গানস এন’ রোজেসের একজন বড় ভক্ত।
উল্লেখ্য, স্ল্যাশ দীর্ঘদিন ধরে সরীসৃপ পোষার সঙ্গে যুক্ত এবং শৈশব থেকেই সাপ খুঁজে বেড়ানোর অভ্যাস ছিল তাঁর। তাঁর একটি ব্যান্ডের নামও ছিল “স্ল্যাশ’স স্নেকপিট”, আর ভ্রমণ উৎসবের নাম রেখেছিলেন “এস.ই.আর.পি.ই.এন.টি”। নিজের নামে সাপের প্রজাতি নামকরণ হওয়ায় স্ল্যাশ নিজেকে সম্মানিত ও আনন্দিত বলে মন্তব্য করেছেন।
গবেষণার গুরুত্ব
জিনগত বিশ্লেষণ, দৈহিক গঠন পরিমাপ এবং বাসস্থান সংক্রান্ত মডেলিংয়ের মাধ্যমে গবেষকরা নিশ্চিত হন যে লালচে-বাদামি রঙের এই সাপটি তার নিকটাত্মীয় প্রজাতিগুলো থেকে জিনগতভাবে সম্পূর্ণ আলাদা। এর ফলে Lielaphis গণের মোট প্রজাতির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০-এ।
গবেষকরা সতর্ক করেছেন, কফি চাষ ও খনি শিল্পের কারণে নিউ গিনির যে বনাঞ্চলে এই সাপের বসবাস, তা ক্রমাগত হুমকির মুখে পড়ছে। তাঁদের মতে, বাস্তুতন্ত্র সংরক্ষণের জন্য নতুন প্রজাতি শনাক্তকরণ ও তালিকাভুক্তি অত্যন্ত জরুরি, কারণ কোনো প্রাণীকে না চিনলে তাকে রক্ষা করাও সম্ভব নয়।
গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞান সাময়িকী জুটাক্সা (Zootaxa)-য়।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম

