ব্রিটিশ অভিনেতা টম হল্যান্ড চলচ্চিত্র ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা অভিনেতা হিসেবে নতুন মাইলফলক তৈরি করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তার অভিনীত সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয় প্রায় ১৫.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
২০২৬ সালে মুক্তি পাওয়া তার দুটি বড় সিনেমার সাফল্য এই অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মার্ভেলের জনপ্রিয় চরিত্র পিটার পার্কার হিসেবে তার অভিনীত “স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে” এবং ক্রিস্টোফার নোলানের “দ্য ওডিসি”।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, “স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে” বিশ্বব্যাপী প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। অন্যদিকে “দ্য ওডিসি” সিনেমাটির আয় প্রায় ১.৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
এই দুই সিনেমার বাণিজ্যিক সাফল্যের ফলে হল্যান্ড অভিনীত সিনেমাগুলোর মোট আয় তাকে জোয়ে সালদানা ও স্কারলেট জোহানসনের মতো শীর্ষস্থানীয় অভিনেতাদের ছাড়িয়ে দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
টম হল্যান্ডের এই উত্থানের পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মার্ভেল সিনেমাটিক ইউনিভার্সে তার জনপ্রিয়তা। ২০১৬ সালে “ক্যাপ্টেন আমেরিকা: সিভিল ওয়ার” সিনেমায় প্রথমবার স্পাইডারম্যান চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান।
এরপর তিনি একে একে “স্পাইডারম্যান: হোমকামিং”, “অ্যাভেঞ্জার্স: ইনফিনিটি ওয়ার”, “অ্যাভেঞ্জার্স: এন্ডগেম” এবং “স্পাইডারম্যান: নো ওয়ে হোম”-এর মতো ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করেন।
তবে ১৫.৫ বিলিয়ন ডলারের এই হিসাব টম হল্যান্ডের ব্যক্তিগত আয় বা পারিশ্রমিক নয়। এটি তার অভিনীত সিনেমাগুলোর সম্মিলিত বিশ্বব্যাপী বক্স অফিস আয়ের হিসাব।
টম হল্যান্ডের এই সাফল্যের সঙ্গে তার পারিশ্রমিক নিয়েও আলোচনা চলছে। বিশেষ করে “স্পাইডারম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে” সিনেমার জন্য তার চুক্তির আর্থিক বিষয় নিয়ে নানা জল্পনা থাকলেও বিস্তারিত তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, হল্যান্ডের এই অবস্থান শুধু একজন অভিনেতার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তার ফল নয়; বরং এটি বড় ফ্র্যাঞ্চাইজি সিনেমা, আন্তর্জাতিক দর্শক এবং বিশ্বব্যাপী বিনোদন বাজারের পরিবর্তিত শক্তিরও প্রতিফলন।

