বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক আন্দোলন এবং চব্বিশের জুলাই অভ্যুত্থানের সেই ৩৬ দিনের ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কারের মনোনয়ন তালিকায় জায়গা পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাইরের বিভিন্ন দেশের নাটক, প্রতিবেদন ও তথ্যচিত্র নিয়ে আয়োজিত এই পুরস্কারের আন্তর্জাতিক আসর বসছে আগামী নভেম্বরে, এবং সেখানে কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে এই তথ্যচিত্রটি।
তবে এটি সরাসরি বাংলাদেশের প্রযোজনা নয়—একটি প্রভাবশালী আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী শাখার অধীনে তৈরি হয়েছে প্রামাণ্যচিত্রটি, যা প্রতিযোগিতায় উপস্থাপন করবে কাতার। পুরস্কার আয়োজকদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হচ্ছে, এই তথ্যচিত্রে গণআন্দোলনের পেছনের নানা জটিল ও চাঞ্চল্যকর সত্য তুলে ধরা হয়েছে।
এই অনুসন্ধানী কাজের মূল গবেষক ও প্রধান তদন্তকারী ছিলেন একজন বাংলাদেশি সাংবাদিক, যিনি বর্তমানে ওই সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত। মনোনয়নের খবর জানার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি। এক পোস্টে তিনি লেখেন, এই স্বীকৃতি পেয়ে তিনি সম্মানিত বোধ করছেন, তবে এই কাজের প্রকৃত দাবিদার বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ—বিশেষ করে সেই শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী ও পরিবারগুলো, যারা ওই কঠিন সময়টা পার করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। তার মতে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মূলত তাদেরই পাওয়া।
এই খবরে দেশের অনেক নির্মাতাও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। একজন পরিচিত নির্মাতা ও সাবেক সংস্কৃতি উপদেষ্টা সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, প্রামাণ্যচিত্রটির পরিকল্পনার কথা প্রথম শোনার সময়েই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হতে যাচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও তথ্যচিত্রের মাধ্যমে তখনকার সরকারের বিভিন্ন অপরাধ উন্মোচনের জন্য সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম দেশের মানুষের কৃতজ্ঞতা পাওয়ার দাবিদার, এবং এই মনোনয়নের জন্য শুভকামনা জানান। আরেকজন পরিচিত নির্মাতাও এই সাফল্যের প্রশংসা করে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এ ছাড়া কয়েকটি বিদেশি গণমাধ্যমও আলাদাভাবে এই তথ্যচিত্র নিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক এমি পুরস্কারের চব্বিশতম আসর বসতে যাচ্ছে আগামী ২৩ নভেম্বর নিউইয়র্কে, যেখানে বিশ্বের বাইশটি দেশ থেকে বৈচিত্র্যময় ও বিশ্বমানের কনটেন্ট মনোনয়ন পেয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, ভারত, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, স্পেন, তুরস্ক ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশগুলোর নির্মাণ ও শিল্পীরাও, যা এই প্রতিযোগিতার মর্যাদা ও পরিধি সম্পর্কে একটি স্পষ্ট ধারণা দেয়।

