জ্বালানির দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে গাড়ির মাসিক তেলের খরচ এখন অনেক পরিবারের জন্যই বড় চিন্তার বিষয়। বিশেষ করে ঢাকার মতো শহরে থেমে থেমে চলা যানজটে গাড়ি চালালে তেল পোড়ে দ্রুত। তবে আশার কথা হলো, নতুন কোনো বড় খরচ ছাড়াই কেবল কয়েকটি অভ্যাস বদলে আর নিয়মিত যত্ন নিয়ে গাড়ির জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। নিচে এমন কিছু কার্যকর উপায় তুলে ধরা হলো।
টায়ারের সঠিক চাপ বজায় রাখুন
অনেকেই খেয়াল করেন না, কিন্তু টায়ারের হাওয়া কমে গেলে চাকা ঘোরাতে ইঞ্জিনকে বাড়তি শক্তি খরচ করতে হয়, ফলে তেল বেশি পোড়ে। মাসে অন্তত একবার টায়ারের চাপ পরীক্ষা করা উচিত। সঠিক চাপ কত হবে, তা গাড়ির ম্যানুয়ালে অথবা চালকের পাশের দরজার ভেতরের অংশে লেখা থাকে। প্রায় বিনা খরচের এই অভ্যাসটিই মাস শেষে ভালো সাশ্রয় এনে দেয়।
মসৃণভাবে চালান, গতি নিয়ন্ত্রণে রাখুন
হঠাৎ অ্যাক্সিলারেটর চাপা আর বারবার আচমকা ব্রেক করা তেল খরচের অন্যতম বড় কারণ। সামনের রাস্তা আগেভাগে লক্ষ্য করে ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো ও কমানোই বুদ্ধিমানের কাজ। সিগন্যাল লাল দেখলে দূর থেকেই গতি কমিয়ে আনুন। একটি নির্দিষ্ট ও সহনীয় গতিতে চললে ইঞ্জিন সবচেয়ে কম তেলে বেশি পথ পাড়ি দিতে পারে।
এসি ও জানালা বুঝে ব্যবহার করুন
আমাদের গরমে এসি ছাড়া গাড়ি চালানো কঠিন, কিন্তু শহরের ভেতর কম গতিতে অপ্রয়োজনে এসি পুরোদমে চালিয়ে রাখলে ইঞ্জিনে বাড়তি চাপ পড়ে। আবার মহাসড়কে বেশি গতিতে জানালা খুলে রাখলে বাতাসের বাধায় তেল বেশি পোড়ে। তাই হাইওয়েতে জানালা বন্ধ রেখে পরিমিত এসি, আর কম গতিতে প্রয়োজনে জানালা খুলে চালানো, এই ভারসাম্যটাই সবচেয়ে কাজের।
অপ্রয়োজনীয় ওজন কমান
গাড়ির বুট বা পেছনের সিটে অনেক সময় এমন জিনিস জমে থাকে, যা প্রতিদিন কাজে লাগে না। বাড়তি ওজন বইতে ইঞ্জিনকে বেশি খাটতে হয়, ফলে তেল খরচ বেড়ে যায়। তাই অকারণে ভারী জিনিসপত্র গাড়িতে না রাখাই ভালো।
নিয়মিত সার্ভিসিং করান
ইঞ্জিন অয়েল, এয়ার ফিল্টার ও স্পার্ক প্লাগ ঠিকমতো কাজ না করলে ইঞ্জিনের কর্মক্ষমতা কমে যায় এবং তেল বেশি পোড়ে। আমাদের ধুলাবালির রাস্তায় এয়ার ফিল্টার দ্রুত নোংরা হয়ে যায়, তাই সময়মতো পরিষ্কার বা বদলে নেওয়া জরুরি। নির্ধারিত সময়ে সার্ভিসিং করালে গাড়ি দীর্ঘদিন ভালো মাইলেজ দেয়।
রুট বেছে নিন, অযথা ইঞ্জিন চালু রাখবেন না
ঢাকায় তীব্র যানজটে থেমে থেমে চললে তেলের অপচয় সবচেয়ে বেশি হয়। তাই সম্ভব হলে এমন রুট ও সময় বেছে নিন যেখানে জ্যাম তুলনামূলক কম। দীর্ঘ সময় কোথাও দাঁড়িয়ে থাকলে অযথা ইঞ্জিন চালু রাখার দরকার নেই, কারণ স্থির অবস্থাতেও ইঞ্জিন জ্বালানি (তেল) পোড়াতে থাকে। এই ছোট সচেতনতাগুলোও মাস শেষে ভালো পার্থক্য গড়ে দেয়।
জ্বালানি সাশ্রয় অনেকটা নির্ভর করে গাড়িটি আসলে কেমন, তার ওপরও। হাইব্রিড গাড়ি তুলনামূলক বেশি মাইলেজ দেয়, আবার রিকন্ডিশন্ড গাড়ি কেনার সময় ইঞ্জিনের অবস্থা ভালো কিনা যাচাই করে নেওয়া জরুরি। বিভিন্ন ব্র্যান্ড, মডেল ও বাজেটের জ্বালানি সাশ্রয়ী গাড়ি সম্পর্কে ধারণা নিতে চাইলে আগে থেকে তুলনা করে দেখে নিতে পারেন। সবশেষে, গাড়িতে কোনো সমস্যা মনে হলে অভিজ্ঞ মেকানিকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ। ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলোই মাস শেষে আপনার তেলের খরচ চোখে পড়ার মতো কমিয়ে দেবে।

