Close Menu
Citizens VoiceCitizens Voice
    Facebook X (Twitter) Instagram YouTube LinkedIn WhatsApp Telegram
    Citizens VoiceCitizens Voice শুক্র, অক্টো. 23, 2026
    • প্রথমপাতা
    • অর্থনীতি
    • বাণিজ্য
    • ব্যাংক
    • পুঁজিবাজার
    • বিমা
    • কর্পোরেট
    • বাংলাদেশ
    • আন্তর্জাতিক
    • আইন
    • অপরাধ
    • মতামত
    • অন্যান্য
      • খেলা
      • শিক্ষা
      • স্বাস্থ্য
      • প্রযুক্তি
      • ধর্ম
      • বিনোদন
      • সাহিত্য
      • বিশ্ব অর্থনীতি
      • ভূ-রাজনীতি
      • জলবায়ু ও পরিবেশ
      • লাইফস্টাইল
      • বিশ্লেষণ
      • বিশেষ বিশ্লেষণ
      • ভিডিও
    Citizens VoiceCitizens Voice
    Home » বুড়িগঙ্গা-তুরাগে বিদেশি প্রজাতির সাকার ফিশের দখল, জালে ওঠা মাছের বড় অংশই মূল্যহীন
    ফিচার

    বুড়িগঙ্গা-তুরাগে বিদেশি প্রজাতির সাকার ফিশের দখল, জালে ওঠা মাছের বড় অংশই মূল্যহীন

    নিউজ ডেস্কঅক্টোবর 23, 2026
    Facebook Twitter Email Telegram WhatsApp Copy Link
    Share
    Facebook Twitter LinkedIn Telegram WhatsApp Email Copy Link

    ঢাকার নদীগুলোতে এখন জাল ফেললে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে যে মাছ উঠছে, তা বিক্রির অযোগ্য। বিদেশি প্রজাতির সাকার ফিশ বুড়িগঙ্গা ও তুরাগসহ দেশের বহু নদী ও জলাশয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে একদিকে দেশীয় মাছের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে জীবিকা হারানোর শঙ্কায় আছেন জেলেরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা থাকলেও নদীতে ছড়িয়ে পড়া এই মাছ নিয়ন্ত্রণ করা এখন অত্যন্ত কঠিন।

    সদরঘাটের কাছে বুড়িগঙ্গায় কাজ করছিলেন জেলে কামাল মিয়া। তাঁর জালে আটকে ছিল কয়েক কেজি সাকার ফিশ। একটি একটি করে মাছ ছাড়াতে হচ্ছিল তাঁকে, কারণ জোরে টান দিলে জাল ছিঁড়ে যায়। পাশে প্লাস্টিকের একটি বাটিতে ছিল বিক্রির উপযোগী কয়েকটি ছোট মাছ। কামাল বলেন, জাল দেখে মনে হয় ভালো মাছ পাওয়া গেছে, কিন্তু এসব মাছের বেশির ভাগই কোনো আয় এনে দেয় না। আগেও সাকার ফিশ পাওয়া যেত, তবে এখন বিক্রির মাছ বাছাইয়ের চেয়ে এই মাছ ছাড়াতেই বেশি সময় চলে যায়।

    একই চিত্র ঢাকার অন্য প্রান্তে, মোহাম্মদপুরের ঢাকা উদ্যান এলাকায় তুরাগ নদীর পাড়ে। জেলে মোহাম্মদ সেলিম জানান, তিন-চার বছর আগেও এত সাকার ফিশ ছিল না। এখন দিনে ২০ কেজি মাছ ধরলে তার ১৫ কেজিই হয় সাকার ফিশ। নৌকা নিয়ে নদীতে যাওয়া, জাল ফেলা, মাছ নিয়ে ফেরা এবং শেষে এমন মাছ ছাড়ানো, যা কেউ কিনতে চায় না, সবই তাঁদের করতে হয়।

    দুই জেলের বর্ণনায় পরিবর্তনটি এসেছে ধীরে ধীরে। প্রথমে জালে মাঝেমধ্যে একটি-দুটি সাকার ফিশ উঠত। পরে সংখ্যা বাড়তে থাকে। সেলিমের ভাষ্য, আগে দু-একটি উঠলে বিরক্ত লাগত, এখন অন্য মাছ খুঁজতে সাকার ফিশের স্তূপে হাতড়াতে হয়। এই মাছের শরীর শক্ত আবরণে ঢাকা, কাঁটা ধারালো। জালের সুতায় আটকে গেলে ছাড়াতে গিয়ে জেলেদের হাতেও আঘাত লাগার ঝুঁকি থাকে। ক্লান্ত অবস্থায় তাড়াহুড়া করলে ঝুঁকি আরও বাড়ে। এর ওপর ছেঁড়া জাল মেরামতের বাড়তি সময় ও খরচ তো আছেই।

    কামাল বলেন, নৌকায় মাছ দেখে মানুষ ভাবে তাঁরা অনেক আয় করেছেন, কিন্তু যেসব মাছ ফেলে দিতে হয়, সেগুলো তারা দেখে না। সেলিমের দুশ্চিন্তা, একদিন খারাপ গেলে মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু একই ঘটনা বারবার ঘটলে কোথায় মাছ ধরতে যাবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়। নদীর অন্য অংশে গেলে যাতায়াতে সময় বাড়বে, অথচ সেখানে পরিস্থিতি আলাদা হবে, তার নিশ্চয়তাও নেই।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল নাসের টিবিএসকে বলেন, সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো মাছটি এখন তুলনামূলক সুস্থ নদী, হাওর ও বিলেও ছড়িয়ে পড়ছে। আগে এসব জায়গায় এটি দেখা যেত না। তাঁর মতে, মাছগুলো দেখতে নিরীহ হলেও খাবার ও বাসস্থান নিয়ে দেশীয় মাছের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। এভাবে চললে মিঠাপানির বাস্তুতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। তিনি বলেন, আগামী ২০ বছরে পরিস্থিতি কী দাঁড়াবে, তা কল্পনাও করতে পারছেন না।

    নাসের উদাহরণ দিয়ে বলেন, একজন জেলে ১০ কেজি মাছ ধরলে তার ৮ কেজিই যদি সাকার ফিশ হয়, তাহলে বিক্রির জন্য হাতে থাকে মাত্র ২ কেজি। বাণিজ্যিক ব্যবহারের সুযোগও সীমিত। মাছের গুঁড়া তৈরিতে ব্যবহার করা গেলেও বুড়িগঙ্গার মতো মারাত্মক দূষিত নদীর মাছে দূষিত পদার্থের ঝুঁকি থাকে।

    মাছটি বাংলাদেশে এসেছে ১৯৮০-এর দশকে, শৌখিন মাছের বাণিজ্যের মাধ্যমে। এর মুখ চোষকের মতো। শৈবাল খায় বলে অ্যাকোয়ারিয়াম পরিষ্কারের কাজে এটি জনপ্রিয় হয়েছিল। অ্যাকোয়ারিয়ামে উপকারী মনে হলেও উন্মুক্ত জলাশয়ে ছাড়া পাওয়ার পর এটি বেঁচে থাকতে, বংশবিস্তার করতে এবং ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম হয়েছে।

    সমস্যা শুধু সাকার ফিশে সীমাবদ্ধ নয়। টিবিএসের আগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, বন্যার পর ফেনী ও নোয়াখালীর বিভিন্ন খালে গৌরামি মাছের উপস্থিতি বেড়েছে, যা স্থানীয়ভাবে চায়না খলিশা নামে পরিচিত। গবেষকদের ধারণা, ফেনীর শৌখিন মাছের প্রজননকেন্দ্র থেকে এগুলো বেরিয়ে এসেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মো. মঞ্জুরুল কবিরিয়া সতর্ক করেছিলেন, মাছটির দ্রুত বংশবিস্তার এবং কম অক্সিজেনের পানিতেও টিকে থাকার ক্ষমতা দেশীয় মাছের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

    এসব মাছ বন্যার মাধ্যমে ছড়াতে পারে, আবার ইচ্ছাকৃতভাবে ছেড়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটে। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কাজী আহসান হাবিব বলেন, অ্যাকোয়ারিয়াম ভরে গেলে অনেক মালিক বিদেশি মাছ প্রাকৃতিক জলাশয়ে ছেড়ে দেন। একবার ছাড়া পেলে মাছগুলো বংশবিস্তার করে ছড়িয়ে পড়তে পারে। কবিরিয়া শৌখিন মাছ আমদানিতে আরও কঠোর পরীক্ষা ও পৃথকীকরণ ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় সাকার ফিশ ও গৌরামির মতো প্রজাতি জলাশয়ে ছড়াচ্ছে। দেশীয় কার্পজাতীয় মাছের প্রাকৃতিক প্রজননের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হালদা নদীতেও সাকার ফিশের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।

    গবেষণার তথ্যও সমস্যার ব্যাপকতা দেখাচ্ছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ প্রাণিবিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, ২০০৮ সালে উন্মুক্ত জলাশয়ে এই মাছের উপস্থিতির প্রথম নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়। পরে নদী, খাল, হ্রদ, হাওর, বিল, পুকুর ও ধানখেতেও মাছটির খোঁজ মিলেছে। অন্তত ১৭টি নদীতে এর উপস্থিতি নথিভুক্ত হয়েছে, যার মধ্যে আছে বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, পদ্মা, হালদা ও মেঘনা। ২০২০ সালের পর মাছটির উপস্থিতির খবর দ্রুত বেড়েছে, ২০২২ সালে এ ধরনের প্রতিবেদন সবচেয়ে বেশি প্রকাশিত হয়। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও খুলনা এলাকায় উপস্থিতির খবর বেশি। গবেষকেরা মনে করেন, শহরাঞ্চলে শৌখিন মাছের বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত মাছ ছেড়ে দেওয়া এর বিস্তারের একটি বড় উৎস। তবে এসব প্রতিবেদন প্রতিটি নদীতে মাছের প্রকৃত সংখ্যা গণনা করে না। সচেতনতা ও গণমাধ্যমের নজরদারি বাড়ায় প্রতিবেদনও বেশি প্রকাশিত হতে পারে।

    একই বছর এশীয় মৎস্যবিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেকটি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৩৮টিতে মাছটির উপস্থিতি আছে। দুটি গবেষণা মিলিয়ে দেখা যায়, সমস্যা কয়েকটি পুকুর বা মাছ ছাড়ার নির্দিষ্ট জায়গায় সীমিত নেই। মাছটি প্রবহমান ও স্থির, দুই ধরনের পানিতেই টিকে থাকে, দূষণ ও কম অক্সিজেনও সহ্য করতে পারে। শক্ত শরীর একে সুরক্ষা দেয়, আর দ্রুত বৃদ্ধি ও বংশবিস্তার নতুন এলাকায় স্থায়ী হতে সাহায্য করে। সংযুক্ত জলপথে একবার ছড়ালে বিস্তার আর প্রথম ছাড়ার জায়গায় থাকে না।

    বুড়িগঙ্গার মাছের বংশগত উপাদান পরীক্ষা করে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় তিনটি প্রজাতি শনাক্ত হয়েছে। ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জীববিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত ওই গবেষণায় ২০২৫ সালের জুনে আমিনবাজার, সদরঘাট ও ফতুল্লা থেকে ধরা ১৪টি মাছ পরীক্ষা করা হয়। এর ১০টি প্টেরিগোপ্লিকথিস ডিজাঙ্কটিভাস, তিনটি পি. অ্যামব্রোসিয়েটি এবং একটি পি. পারডালিস প্রজাতির। গবেষকেরা জানান, বাংলাদেশে একই নদীতে এই তিন প্রজাতির সহাবস্থানের প্রথম আণবিক প্রমাণ এটি। এ থেকে ধারণা করা যায়, শৌখিন মাছের বিভিন্ন প্রজাতি মিশ্র অবস্থায় বারবার ছেড়ে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে, যদিও মাছগুলো ঠিক কীভাবে নদীতে এসেছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি।

    ২০২৩ সালে বায়োলজিক্যাল ইনভেশনস সাময়িকীতে প্রকাশিত আরেকটি গবেষণা বলছে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা ও আত্রাই নদীতে সাকার ফিশ প্রাকৃতিকভাবে বংশবিস্তার করে স্থায়ী অবস্থান তৈরি করেছে। বুড়িগঙ্গার ৪৫ জন জেলের সাক্ষাৎকারে উঠে আসে, বর্ষাকাল ছাড়া অন্য সময়ে তাঁদের জালে ধরা মাছের ৯৮ শতাংশেরও বেশি সাকার ফিশ। জুন থেকে আগস্টে এই অনুপাত কমে প্রায় ৯০ শতাংশে দাঁড়ায়। ২০২২ সালের মার্চ-এপ্রিলে টানা জাল দিয়ে সংগ্রহ করা ৩১টি নমুনার সবই ছিল সাকার ফিশ।

    দেশীয় মাছের ওপর প্রভাবও পরীক্ষামূলক পুকুরে যাচাই করা হয়েছে। বেশি সাকার ফিশ থাকা পুকুরে মৃগেলের বৃদ্ধি ৪৮ দশমিক ৪ শতাংশ এবং রুইয়ের বৃদ্ধি ২১ দশমিক ৪ শতাংশ কম পাওয়া গেছে। সাকার ফিশবিহীন পুকুরে মৃগেলের বেঁচে থাকার হার ছিল ১০০ শতাংশ, আর সাকার ফিশ বেশি থাকা পুকুরে তা কমে ৭০ শতাংশে নামে। গবেষকদের মতে, নদীর পাড়ে বাসা বানাতে গর্ত খুঁড়ে এই মাছ পাড় দুর্বল করে দিতে পারে, ফলে ভাঙনের আশঙ্কাও বাড়ে।

    তবে দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার জন্য একা সাকার ফিশকে দায়ী করা যায় না। সাকার ফিশের ব্যাপক উপস্থিতির আগেই ঢাকার নদীগুলো দূষণে জর্জরিত ছিল। দূষণে দেশীয় মাছের আবাসস্থল নষ্ট হয়েছে, টিকে থাকার সুযোগ কমেছে। দূষিত ও কম অক্সিজেনের পানিতে দেশীয় মাছ কষ্ট পায়, কিন্তু সাকার ফিশ সেখানেও টিকে যায়। ফলে দুই সমস্যা মিলে একে অপরের প্রভাব বাড়াচ্ছে। সেলিমের কথায়, আগেই পর্যাপ্ত মাছ পাওয়া নিয়ে লড়তে হচ্ছিল, এখন এই মাছও ধরা পড়ছে, কিন্তু কোনো কাজে আসছে না।

    ২০২৩ সালের শুরুর দিকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ১৯৫০ সালের মাছ রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন সংশোধন করে সাকার ফিশ আমদানি, প্রজনন, বিক্রি, পরিবহন ও দখলে রাখার ওপর আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা দেয়। বাস্তবায়নের দায়িত্বে আছে মৎস্য অধিদপ্তর। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের সহযোগিতায় অভিযান ও বাজার পর্যবেক্ষণও তাদের কাজ। নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য বাণিজ্যের মাধ্যমে নতুন করে বিস্তার ঠেকানো। কিন্তু উন্মুক্ত নদীতে যে মাছ ইতিমধ্যে বংশবিস্তার করেছে, তা নিয়ন্ত্রণ আরও কঠিন।

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্যবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. হাসান ফারুক বলেন, নদী, জলাভূমি, খাল, বিল, হাওর, পুকুর এমনকি ধানখেতেও এখন এই মাছ রয়েছে। সংযুক্ত জলপথ ধরে এক জায়গা থেকে অন্যত্র ছড়ানো সম্ভব, যা ঢাকার মতো শহরাঞ্চলে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক। তাঁর মতে, জেলে সম্প্রদায় ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কই, শিং ও পুঁটির মতো দেশীয় মাছের প্রাপ্যতা কমছে। আমদানি ও বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা প্রয়োজনীয় ছিল, কিন্তু সিদ্ধান্ত নিতে অনেক দেরি হয়ে গেছে বলে মনে করেন তিনি।

    ফারুক একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনার প্রস্তাব দিয়েছেন। এতে নিষেধাজ্ঞার কঠোর বাস্তবায়ন, বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ, জনসচেতনতা ও আর্থিক প্রণোদনা থাকতে হবে। তাঁর প্রস্তাব, জেলেদের ধরা সাকার ফিশ সরকার কিনে নিয়ে নিরাপদে অপসারণের ব্যবস্থা করতে পারে, যেমন মাটিতে পুঁতে ফেলা। এতে জেলেরা প্রায় মূল্যহীন মাছ সরানোর বিনিময়ে আয় পাবেন, আর মাছের সংখ্যাও কমতে পারে। তবে এর জন্য সংগ্রহ, অর্থ পরিশোধ ও নিরাপদ অপসারণের সংগঠিত ব্যবস্থা দরকার। মাছের সংখ্যা সত্যিই কমছে কি না, তা যাচাইয়ে নিয়মিত পর্যবেক্ষণও জরুরি।

    গবেষকেরা সতর্ক করেছেন, বড় ও উন্মুক্ত নদীব্যবস্থা থেকে সাকার ফিশ পুরোপুরি নির্মূল করা অত্যন্ত কঠিন। তাই বিস্তার ঠেকানোর পাশাপাশি নদীর পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার ক্ষতি কমানোর দিকেও জোর দিতে হবে।

    আপাতত জেলেদের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, এই অবাঞ্ছিত মাছ নিয়ে তাঁরা কী করবেন। নির্ভরযোগ্য বাজার বা সংগ্রহের সংগঠিত ব্যবস্থা না থাকায় সামলাতে হচ্ছে তাঁদের নিজেদেরই। কাজ শেষে সেলিম বিক্রির উপযোগী মাছ আলাদা করে সঙ্গীর হাতে তুলে দেন। সাকার ফিশ সরাতে হবে, তারপর আবার জাল পরীক্ষা করতে হবে। পরের বার নদীতে কী উঠবে, তিনি নিশ্চিত নন। কিন্তু তীরে বসে থাকলে কোনো মাছই মিলবে না। সদরঘাটে কামালও একই সিদ্ধান্ত নিলেন। ক্রেতার কাছে যাবেন তিনি, তারপর ফিরে জাল মেরামত করবেন। তাঁর কথায়, আগামীকাল আবার নদীতে যাবেন, আর কী করার আছে তাঁদের।

    Share. Facebook Twitter LinkedIn Email Telegram WhatsApp Copy Link

    সম্পর্কিত সংবাদ

    ফিচার

    বঙ্গভঙ্গ: প্রশাসনিক সুবিধার আড়ালে রাজনীতি ও সংস্কৃতির লড়াই

    অক্টোবর 16, 2026
    আন্তর্জাতিক

    সংবাদপত্র বিলির বালক থেকে মিসাইল ম্যান, জনতার প্রেসিডেন্ট আবদুল কালামের জীবনকথা

    অক্টোবর 16, 2026
    আন্তর্জাতিক

    নিঃসঙ্গতার বাজার দর চীনে ৭৪০ কোটি ডলার: টাকায় মিলছে সঙ্গ, প্রশ্নে সমাজের বদলে যাওয়া রূপ

    অক্টোবর 14, 2026
    একটি মন্তব্য করুন Cancel Reply

    সর্বাধিক পঠিত

    ইস্পাত শিল্প তীব্র সংকটে উৎপাদন বন্ধের পথে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    আইএমএফের রিপোর্টে ঋণের নতুন রেকর্ড পৌছালো ১০০ ট্রিলিয়ন ডলারে

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    নতুন বাণিজ্য কৌশলে আরসেপে যুক্ত হতে চায় বাংলাদেশ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024

    অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন আমেরিকান অর্থনীতিবিদ

    অর্থনীতি অক্টোবর 16, 2024
    সংযুক্ত থাকুন
    • Facebook
    • Twitter
    • Instagram
    • YouTube
    • Telegram

    EMAIL US

    contact@citizensvoicebd.com

    FOLLOW US

    Facebook YouTube X (Twitter) LinkedIn
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement
    • About Us
    • Contact Us
    • Terms & Conditions
    • Comment Policy
    • Advertisement

    WhatsApp

    01339-517418

    Copyright © 2026 Citizens Voice All rights reserved

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.