২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ ঘিরে টিকিটের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ফাইনাল ম্যাচের একটি টিকিটের দাম প্রায় ২৩ লাখ ডলার বা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৮ কোটির বেশি নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ ফুটবলপ্রেমীদের নাগালের অনেক বাইরে।
আগামী ১১ জুন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় শুরু হওয়া এই আসরের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে মেটলাইফ স্টেডিয়াম–এ। সেই ম্যাচের কিছু টিকিট পুনর্বিক্রয় প্ল্যাটফর্মে যে দামে বিক্রির জন্য তোলা হয়েছে, তা বিশ্বকাপ ইতিহাসেই নজিরবিহীন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
টিকিটের এই উচ্চমূল্যের পেছনে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ডায়নামিক প্রাইসিং ব্যবস্থা, যেখানে চাহিদা অনুযায়ী দাম ওঠানামা করে। ফিফা–এর রিসেল প্ল্যাটফর্মে বিক্রেতারা নিজেদের ইচ্ছামতো মূল্য নির্ধারণ করতে পারেন, যদিও প্রতিটি লেনদেন থেকে সংস্থাটি বড় অঙ্কের কমিশন পায়।
এদিকে অফিসিয়াল বিক্রিতেও দাম কম নয়। ফাইনালের সাধারণ টিকিটের মূল্য প্রায় ১০ হাজার ডলার ছাড়িয়েছে। সেমিফাইনাল ম্যাচগুলোর টিকিটও কয়েক হাজার ডলারে বিক্রি হচ্ছে, যা বৈশ্বিক ক্রীড়া ইভেন্টের মধ্যে অন্যতম ব্যয়বহুল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
শুধু টিকিট নয়, পুরো বিশ্বকাপ আয়োজন ঘিরেই ব্যয়ের চাপ বাড়ছে। আয়োজক শহরগুলোতে হোটেল ভাড়া কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। কিছু ক্ষেত্রে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় চার গুণ বেশি খরচ করতে হচ্ছে দর্শকদের। একইভাবে পরিবহন ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে—ট্রেন, পার্কিং ও অন্যান্য যাতায়াতে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে।
স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিংয়ের জন্যও কয়েকশ ডলার পর্যন্ত খরচ নির্ধারণ করা হয়েছে। এমনকি ফ্যান জোনে প্রবেশ করতেও এবার টিকিট কিনতে হচ্ছে, যা আগে অনেক ক্ষেত্রেই বিনামূল্যে ছিল।
এই পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পেপ গার্দিওলা। তাঁর মতে, একসময় বিশ্বকাপ ছিল সবার জন্য উন্মুক্ত এক আনন্দময় উৎসব, যেখানে সাধারণ মানুষ সহজেই অংশ নিতে পারত। কিন্তু বর্তমানে এটি এতটাই ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে যে অনেক সমর্থকই সরাসরি খেলা দেখার সুযোগ হারাচ্ছেন।
সমালোচকদের অভিযোগ, এই পুরো প্রক্রিয়া ফুটবলকে ধীরে ধীরে সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে ঠেলে দিচ্ছে। অনেকেই এটিকে ‘বাণিজ্যিক লুটপাট’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
তবে জিয়ান্নি ইনফান্তিনো–এর নেতৃত্বাধীন ফিফা বলছে, বিশ্বকাপ থেকে অর্জিত আয় বিশ্বব্যাপী ফুটবলের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়। সমালোচনার মুখে সংস্থাটি সীমিতসংখ্যক টিকিট কম মূল্যে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যা নির্দিষ্ট সমর্থকদের মধ্যে বণ্টন করা হবে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ বিশ্বকাপ ঘিরে বাড়তি ব্যয় শুধু টিকিটেই সীমাবদ্ধ নয়—আবাসন, পরিবহন থেকে শুরু করে দর্শক অভিজ্ঞতার প্রতিটি স্তরেই খরচ বেড়েছে। ফলে বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় ক্রীড়া আসরটি এবার সাধারণ দর্শকের জন্য কতটা ‘উন্মুক্ত’ থাকবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

