বিশ্বকাপ ফুটবলের অন্যতম সফল দল ব্রাজিল তাদের ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে শক্তিশালী মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। কাগজে-কলমে ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখা হলেও ম্যাচটি মোটেও সহজ হবে না বলে মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। কারণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মরক্কো নিজেদের এমন এক দলে পরিণত করেছে, যারা বিশ্বের যেকোনো পরাশক্তিকে চ্যালেঞ্জ জানাতে সক্ষম।
২০২২ বিশ্বকাপে আফ্রিকার ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায় লিখেছিল মরক্কো। স্পেন ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে তারা সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে এবারও বড় স্বপ্ন নিয়ে বিশ্বকাপে এসেছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।
অন্যদিকে ব্রাজিলের লক্ষ্য একটাই—ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়। তবে প্রথম ম্যাচেই কিছুটা ধাক্কা খেয়েছে সেলেসাওরা। দলের সবচেয়ে পরিচিত মুখ নেইমারকে ছাড়াই মাঠে নামতে হবে তাদের। যদিও ব্রাজিলের বর্তমান স্কোয়াডে তারকার অভাব নেই। আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, রাফিনিয়া ও ইগোর থিয়াগোর মতো খেলোয়াড় রয়েছেন, যারা যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
নেইমারের অনুপস্থিতিতে আক্রমণভাগে বাড়তি দায়িত্ব নিতে পারেন মাতেউস কুনিয়া। পাশাপাশি সৃজনশীল ভূমিকা পালন করবেন লুকাস পাকেতা। মাঝমাঠে অভিজ্ঞ কাসেমিরোর সঙ্গে থাকবেন ব্রুনো গিমারেশ, যা ব্রাজিলকে ভারসাম্যপূর্ণ একটি রূপ দেবে।
রক্ষণভাগেও বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দলটি। মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের মতো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারদের সঙ্গে গোলবারের নিচে থাকবেন নির্ভরযোগ্য আলিসন বেকার। ফলে আক্রমণ ও রক্ষণ—দুই বিভাগেই ব্রাজিল নিজেদের শক্তি দেখানোর জন্য প্রস্তুত।
তবে মরক্কোর অবস্থাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়। চোটের কারণে দলটির কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়কে নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে রক্ষণভাগের অন্যতম ভরসা নায়েফ আগুয়ের্দের না থাকা দলের জন্য বড় ধাক্কা। এছাড়া নুসাইর মাজরাউইয়ের খেলা নিয়েও রয়েছে শঙ্কা। এজ আবদে ইতোমধ্যেই পুরো গ্রুপ পর্ব থেকে ছিটকে গেছেন।
তারপরও আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজ, আজেদিন উনাহি ও বিলাল এল খান্নুসদের নিয়ে গড়া মরক্কো দলটি প্রতিপক্ষের জন্য যথেষ্ট বিপজ্জনক। দ্রুতগতির আক্রমণ এবং সংগঠিত রক্ষণই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
ম্যাচটিকে ঘিরে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহও তুঙ্গে। একদিকে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল, অন্যদিকে সাম্প্রতিক বিশ্বকাপের চমক মরক্কো। তাই এটি শুধু একটি গ্রুপ পর্বের ম্যাচ নয়, বরং দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াইও বটে।
ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামলেও ব্রাজিল জানে, মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। আর মরক্কোও প্রমাণ করতে চাইবে যে ২০২২ সালের সাফল্য কোনো দুর্ঘটনা ছিল না। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই দর্শকরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন একটি রোমাঞ্চকর ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ।

