স্পেনের দ্বিতীয় বিভাগের উত্তপ্ত এক ডার্বি ম্যাচে শেষ মুহূর্তে ঘটে গেল চরম বিশৃঙ্খলা। রিয়াল জারাগোজা ও হুয়েস্কা-র মধ্যকার আরাগোনেস ডার্বি মাঠের লড়াই ছাপিয়ে রূপ নেয় সহিংসতায়।
ইনজুরি টাইমের শেষ দিকে উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন জারাগোজার গোলরক্ষক এস্তেবান আন্দ্রাদা মেজাজ হারিয়ে ফেলেন। প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার জর্জ পুলিদো কিছু বলতে এগিয়ে এলে প্রথমে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেন আন্দ্রাদা। এই ঘটনায় রেফারি তাকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন।
কিন্তু সেখানেই থামেননি তিনি। মাঠ ছাড়ার আগেই আবার পুলিদোর দিকে ছুটে গিয়ে সরাসরি ঘুষি মারেন তার মুখে। এই দৃশ্য মুহূর্তেই পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে।
এরপর দুই দলের খেলোয়াড় ও স্টাফরা জড়িয়ে পড়েন হাতাহাতিতে, যার উত্তেজনা গ্যালারিতেও ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে রেফারিকে আরও কয়েকজন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখাতে হয়।
শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১–০ গোলে জিতে নেয় হুয়েস্কা। তবে ম্যাচের ফলের চেয়েও আলোচনায় আসে মাঠের এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা।
এই ঘটনার জন্য সবচেয়ে বড় শাস্তি পেয়েছেন আন্দ্রাদা। লাল কার্ডের জন্য এক ম্যাচ এবং সহিংস আচরণের জন্য অতিরিক্ত ১২ ম্যাচ—মোট ১৩ ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে তাকে। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার মুখেও পড়তে হয়েছে তাকে ও তার ক্লাবকে।
ঘটনার পর নিজের আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন আন্দ্রাদা। তিনি জানিয়েছেন, উত্তেজনার মুহূর্তে নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারেননি এবং এ ঘটনার জন্য তিনি লজ্জিত। পরে পুলিদোর কাছেও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, এমন ঘটনা শুধু খেলোয়াড়ের ব্যক্তিগত আচরণ নয়, বরং খেলাধুলার শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার ওপর বড় প্রশ্ন তুলে দেয়। মাঠের উত্তেজনা যতই থাকুক, নিয়ন্ত্রণ হারালে তার মূল্য যে কতটা বড় হতে পারে—এই ঘটনাই তার স্পষ্ট উদাহরণ।
সিভি/এইচএম

