মিরপুর টেস্টের প্রথম দিনটা ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের দখলে। ব্যাট হাতে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দিয়েছিলেন টাইগার ব্যাটাররা। তবে দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই কিছুটা ছন্দ হারায় স্বাগতিকরা। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবুও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং শেষ দিকে তাসকিন আহমেদের ঝোড়ো ক্যামিওতে শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (৯ মে) দ্বিতীয় দিনের খেলা শুরু করেন মুশফিকুর রহিম ও লিটন দাস। আগের দিনের অসমাপ্ত ইনিংস থেকে দুজনই বেশ আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। বিশেষ করে মুশফিক শুরু থেকেই ধৈর্য আর অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন। অন্যদিকে লিটনও চেষ্টা করছিলেন ইনিংস বড় করতে।
সকালের প্রথম সেশনে বাংলাদেশকে ভালোভাবেই এগিয়ে নিচ্ছিলেন এই দুই ব্যাটার। টেস্ট ক্যারিয়ারের ২৯তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন মুশফিক। তার ব্যাটিংয়ে ছিল পরিণত মানসিকতা এবং চাপ সামলানোর অভিজ্ঞতা। তবে দলীয় ৩৩৮ রানে এসে ভাঙে এই জুটি। ৬৭ বলে ৩৩ রান করে আউট হন লিটন দাস।
লিটনের বিদায়ের পর দ্রুতই আরেকটি ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। মেহেদী হাসান মিরাজ ব্যাট হাতে সুবিধা করতে পারেননি। মাত্র ১০ রান করেই ফিরে যান তিনি। ফলে বড় সংগ্রহের পথে কিছুটা ধীর হয়ে যায় বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা।
এরপর তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ইনিংস সামলানোর চেষ্টা করেন মুশফিক। তাইজুলও ছোট কিন্তু কার্যকর একটি ইনিংস খেলেন। ২৩ বলে ১৭ রান করে লাঞ্চের আগমুহূর্তে আউট হন তিনি। এতে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন শেষ হয় বাংলাদেশের কিছুটা মিশ্র অনুভূতির মধ্য দিয়ে।
মধ্যাহ্ন বিরতির পর বাংলাদেশের আশা ছিল মুশফিককে ঘিরে। কিন্তু বিরতি থেকে ফেরার পর বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। দলীয় ৩৮০ রানে ১৭৯ বলে ৭১ রান করে আউট হন তিনি। তার ইনিংসটি ছিল দায়িত্বশীল ও ধৈর্যের প্রতিচ্ছবি। কঠিন সময়ে একপ্রান্ত ধরে রেখে দলকে বড় সংগ্রহের দিকে নিয়ে যাওয়ার কাজটি দারুণভাবে করেছেন তিনি।
মুশফিক আউট হওয়ার পর দ্রুতই গুটিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। এবাদত হোসেন রানের খাতা খোলার আগেই ফিরে যান। তখন মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ হয়তো চারশর আগেই থেমে যাবে। কিন্তু সেই অবস্থায় ব্যাট হাতে চমক দেখান তাসকিন আহমেদ।
মাত্র ১৯ বল খেলেই ২৮ রান করেন এই পেসার। তার ছোট্ট কিন্তু কার্যকর ইনিংসে ছিল আগ্রাসী মানসিকতা। কয়েকটি দৃষ্টিনন্দন বাউন্ডারিতে বাংলাদেশের স্কোর চারশ পার করে দেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানেই অলআউট হয় বাংলাদেশ।
পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে সফল ছিলেন মোহাম্মদ আব্বাস। অভিজ্ঞ এই পেসার ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপে বড় ধাক্কা দেন। দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন থেকেই তিনি ধারাবাহিক চাপ তৈরি করেন।
তবে এই ম্যাচে বাংলাদেশের ইনিংসের মূল ভিত গড়ে দেন অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রথম দিনেই দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি করেন তিনি। ১৩০ বলে ১০১ রানের ইনিংসে ছিল ১২টি চার ও ২টি ছক্কা। অধিনায়কের ইনিংসটি শুধু ব্যক্তিগত অর্জনই নয়, দলের জন্যও বড় ভিত্তি তৈরি করে দেয়।
এছাড়া মুমিনুল হকের ৯১ রানের ইনিংসও বাংলাদেশের সংগ্রহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। সেঞ্চুরি না পেলেও তার ব্যাটিং ছিল নিয়ন্ত্রিত ও আত্মবিশ্বাসী।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশ বড় সংগ্রহ গড়লেও দ্বিতীয় দিনের প্রথম ভাগে দ্রুত উইকেট হারানো কিছুটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন ম্যাচে এগিয়ে থাকতে হলে বোলারদেরও একইরকম নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্স দেখাতে হবে। বিশেষ করে মিরপুরের উইকেটে শুরু থেকেই চাপ তৈরি করতে পারলে পাকিস্তানকে কঠিন অবস্থায় ফেলা সম্ভব হবে।

