মিরপুর টেস্টের তৃতীয় দিনে একসময় মনে হচ্ছিল বৃষ্টি হয়তো পুরো সেশনের ছন্দই নষ্ট করে দেবে। পাকিস্তানের ব্যাটাররা যখন ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দিকে টেনে নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই আকাশ কালো হয়ে আসে। ঝিরিঝিরি বৃষ্টি শুরু হতেই মাঠকর্মীরা দ্রুত পিচ ঢেকে দেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই চা বিরতিতে চলে যান দুই দলের ক্রিকেটাররা।
তবে দীর্ঘ অপেক্ষার পর অবশেষে আসে স্বস্তির খবর। বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর পিচ থেকে সরানো হয় কাভার। এরপর শুরু হয় মাঠ শুকানোর কাজ। আম্পায়াররা বিকেল ৪টায় মাঠ পর্যবেক্ষণে নামেন এবং পরিস্থিতি সন্তোষজনক মনে হওয়ায় সিদ্ধান্ত হয় বিকেল ৪টা ১৫ মিনিটে আবারও খেলা শুরু হবে। এতে করে অন্তত দিনের বাকি অংশে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে বাংলাদেশ।
এর আগে দ্বিতীয় সেশনে পাকিস্তান শুরু করেছিল ৫ উইকেটে ২৫১ রান নিয়ে। ক্রিজে ছিলেন সালমান আলী আগা ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুজন মিলে বাংলাদেশের বোলারদের বিপক্ষে দারুণ ধৈর্যের পরীক্ষা দেন। খুব বেশি ঝুঁকি না নিয়ে ধীরে ধীরে রান তুলেছেন, আবার সুযোগ পেলেই মেরেছেন বাউন্ডারি। তাদের ব্যাটিংয়ে বোঝা যাচ্ছিল, পাকিস্তান এখন শুধু ব্যবধান কমানোর দিকেই তাকিয়ে নেই, বরং ম্যাচের নিয়ন্ত্রণও নিতে চাইছে।
বাংলাদেশি বোলাররাও অবশ্য লড়াই ছেড়ে দেননি। নিয়মিত চাপ তৈরি করেছেন তারা। বিশেষ করে মেহেদী হাসান মিরাজ একের পর এক সঠিক জায়গায় বল করে পাকিস্তানি ব্যাটারদের অস্বস্তিতে রাখেন। তাসকিন আহমেদও গতির ঝলক দেখিয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় সেশনের একদম শেষ দিকে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য এনে দেন তাইজুল ইসলাম। আক্রমণাত্মক শট খেলতে গিয়ে তার বলেই আউট হন মোহাম্মদ রিজওয়ান। ৭৯ বলে ৫৯ রান করা এই উইকেটকিপার ব্যাটারের বিদায় বাংলাদেশের জন্য বড় স্বস্তি হয়ে আসে।
৯১ ওভার শেষে পাকিস্তানের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৬ উইকেটে ৩৫২ রান। তখনও বাংলাদেশ এগিয়ে ছিল ৬১ রানে। অর্থাৎ ম্যাচ এখনো পুরোপুরি খোলা। একদিকে পাকিস্তান দ্রুত লিড নিতে চাইবে, অন্যদিকে বাংলাদেশ চাইবে যত দ্রুত সম্ভব শেষ কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে আবার ব্যাটিংয়ে নেমে চাপ তৈরি করতে।
এই টেস্টে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ম্যাচের দোলাচল। প্রথম দিনে বাংলাদেশ ছিল দাপুটে অবস্থানে। নাজমুল হোসেন শান্তর শতক ও মুমিনুল হকের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে বড় সংগ্রহ গড়ে স্বাগতিকরা। পরে দ্বিতীয় দিনে মুশফিকুর রহিমের দায়িত্বশীল ব্যাটিং এবং তাসকিনের ছোট কিন্তু কার্যকর ক্যামিওতে ৪১৩ রানে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।
কিন্তু ক্রিকেটে গতি বদলাতে খুব বেশি সময় লাগে না। পাকিস্তানের মিডল অর্ডারের ধৈর্যশীল ব্যাটিং আবার ম্যাচে ফিরিয়ে এনেছে সফরকারীদের। এখন বৃষ্টির বাধা কাটিয়ে শেষ সেশন কতটা এগোয়, সেটিই নির্ধারণ করতে পারে ম্যাচের পরের গল্প।

