মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে যেন এক নতুন নায়ককে খুঁজে পেল বাংলাদেশ। তরুণ পেসার নাহিদ রানার দুর্দান্ত বোলিংয়ে পাকিস্তানকে ১০৪ রানে হারিয়ে দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।
ম্যাচজুড়ে বাংলাদেশ ছিল আত্মবিশ্বাসী, ধৈর্যশীল এবং পরিকল্পিত। ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়া থেকে শুরু করে শেষ ইনিংসে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলা—সব জায়গাতেই দারুণ লড়াই করেছে স্বাগতিকরা। তবে শেষ দিনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন নাহিদ রানা। তার গতিময় বোলিং আর ধারালো আক্রমণের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি পাকিস্তানের ব্যাটাররা।
গত শুক্রবার টস জিতে বাংলাদেশকে আগে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। শুরু থেকেই বাংলাদেশের ব্যাটাররা দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত খেলেন ১০১ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস। তার ব্যাটে ছিল ধৈর্য, নিয়ন্ত্রণ আর আত্মবিশ্বাসের ছাপ।
শুধু শান্ত নন, দলের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটার মুমিনুল হক ও মুশফিকুর রহিমও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। মুমিনুল করেন ৯১ রান, আর মুশফিকের ব্যাট থেকে আসে ৭১ রান। তিনজনের দৃঢ় ব্যাটিংয়ে প্রথম ইনিংসে ৪১৩ রানের বড় সংগ্রহ দাঁড় করায় বাংলাদেশ।
জবাবে পাকিস্তানও সহজে হার মানেনি। অভিষেক ম্যাচ খেলতে নামা আজান আওয়াইস দুর্দান্ত একটি সেঞ্চুরি তুলে নেন। তিনি করেন ১০৩ রান। এছাড়া আব্দুল্লাহ ফজল ৬০, মোহাম্মদ রিজওয়ান ৫৯ এবং সালমান আলি আগা ৫৮ রান করে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে রাখেন। শেষ পর্যন্ত পাকিস্তানের ইনিংস থামে ৩৬৮ রানে।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে সফল বোলার ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি একাই নেন ৫ উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও তাইজুল ইসলাম পান দুটি করে উইকেট। প্রথম ইনিংসে ২৭ রানের লিড পেয়ে আত্মবিশ্বাস আরও বেড়ে যায় বাংলাদেশের।
দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেও টাইগাররা দায়িত্বশীল ক্রিকেট খেলেছে। অধিনায়ক শান্ত আবারও সামনে থেকে নেতৃত্ব দেন। তিনি করেন ৮৬ রান। অন্যদিকে মুমিনুল হক যোগ করেন ৫৬ রান। দুই ব্যাটারের দৃঢ়তায় ৯ উইকেটে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে বাংলাদেশ। ফলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় কঠিন এক রান তাড়া।
শেষ দিনে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি বাংলাদেশের হাতে চলে আসে। পাকিস্তান চেষ্টা করলেও বাংলাদেশের বোলারদের সামনে টিকতে পারেনি। বিশেষ করে নাহিদ রানা ছিলেন ভয়ংকর। তার গতি, লাইন ও আক্রমণাত্মক বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপকে এলোমেলো করে দেয়।
পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ১৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায়। নাহিদ রানা একাই তুলে নেন ৫ উইকেট। তার বোলিংই মূলত ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তরুণ এই পেসারের আগুনঝরা স্পেল দেখে অনেকেই বাংলাদেশের পেস আক্রমণের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন।
এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জয় নয়, বরং বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের আত্মবিশ্বাসেরও প্রতীক। সাম্প্রতিক সময়ে লাল বলের ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও মিরপুর টেস্টে টাইগাররা দেখিয়েছে, সঠিক পরিকল্পনা ও আত্মবিশ্বাস থাকলে বড় দলকেও হারানো সম্ভব।
এদিকে এই জয়ের ফলে সিরিজে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মানসিকভাবেও বড় সুবিধা পেল বাংলাদেশ। আগামী ১৬ মে সিলেটে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। সেই ম্যাচে জয় বা ড্র করতে পারলেই সিরিজ নিজেদের করে নেবে বাংলাদেশ।
মিরপুরের এই জয় তাই শুধু স্কোরবোর্ডের গল্প নয়, এটি নতুন আত্মবিশ্বাস, নতুন সম্ভাবনা আর তরুণদের উত্থানেরও গল্প। আর সেই গল্পের সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম এখন নাহিদ রানা।

