বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে দীর্ঘদিনের অস্থিরতা ও প্রশাসনিক টানাপোড়েনের পর অবশেষে নির্বাচনের তফশিল ঘোষণা করা হয়েছে। শনিবার প্রকাশিত তফশিল অনুযায়ী, আগামী ৭ জুন অনুষ্ঠিত হবে বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন। ফলে দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে নতুন নেতৃত্ব আসার অপেক্ষা এখন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনের অংশ নিতে আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ২০ ও ২১ মে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। এই দুই দিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বিসিবি কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র বিক্রি করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্রিকেট বোর্ডের এই নির্বাচনকে ঘিরে আগ্রহ তৈরি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো সাম্প্রতিক প্রশাসনিক পরিবর্তন। গত ৭ এপ্রিল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ বিদ্যমান নির্বাচিত বোর্ড ভেঙে দিয়ে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করে। তখনই জানানো হয়েছিল, তিন মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা হবে। ঘোষিত তফশিল অনুযায়ী, সেই প্রতিশ্রুতির দিকেই এগোচ্ছে বিসিবি।
এর আগে গত বছরের অক্টোবরে নির্বাচনের মাধ্যমে দায়িত্বে আসে আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বাধীন বোর্ড। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই নানা বিতর্ক ও অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বে পড়ে সেই কমিটি। একপর্যায়ে সাতজন পরিচালক পদত্যাগ করলে বোর্ড কার্যত অস্থিতিশীল হয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই পরিচালনা পর্ষদ বিলুপ্ত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বিসিবির এই নির্বাচন শুধু নতুন বোর্ড গঠনের প্রক্রিয়া নয়, বরং দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বড় পরীক্ষা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি বোর্ড পরিচালনা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে বারবার। তাই নতুন বোর্ড কতটা স্বচ্ছতা, পেশাদারিত্ব এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করতে পারে, সেটিই এখন বড় আলোচনার বিষয়।
বিশেষ করে ঘরোয়া ক্রিকেটের কাঠামো, বয়সভিত্তিক উন্নয়ন, আর্থিক স্বচ্ছতা এবং জাতীয় দলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা— এসব বিষয় আগামী বোর্ডের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে তামিম ইকবালের নেতৃত্বাধীন অ্যাডহক কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবেই দেখছেন অনেক ক্রিকেট বিশ্লেষক। তাদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ক্রিকেট প্রশাসনের জন্য নির্বাচিত বোর্ডই সবচেয়ে কার্যকর পথ।
এখন নজর থাকবে— কারা প্রার্থী হচ্ছেন, কোন প্যানেল কতটা শক্ত অবস্থানে আছে এবং শেষ পর্যন্ত দেশের ক্রিকেট প্রশাসনের দায়িত্ব কার হাতে যাচ্ছে।

