সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছে বাংলাদেশ। এবার লক্ষ্য ছিল আরও বড়—অস্ট্রেলিয়াকে হোয়াইটওয়াশ করা। তবে সেই পথে হাঁটতে গিয়ে শুরুতেই বড় ধাক্কা খেতে হয় টাইগারদের। মাত্র ৬১ রানের মধ্যে তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় স্বাগতিক দল। কিন্তু সেখান থেকেই দারুণ প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছেন লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয় ও মোসাদ্দেক হোসেন।
রোববার (১৪ জুন) মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু পরিকল্পনা অনুযায়ী শুরু করতে পারেননি ব্যাটাররা। সৌম্য সরকার মাত্র ২ রান করে ফিরেন। তানজিদ হাসান তামিম করেন ১৯ রান, আর অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান। তিন ব্যাটারের দ্রুত বিদায়ে চাপে পড়ে যায় পুরো দল।
এমন পরিস্থিতিতে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয়। শুরুতে সতর্কভাবে ব্যাট করলেও ধীরে ধীরে নিজেদের গুছিয়ে নেন তারা। দুজনের বোঝাপড়া ও ধৈর্যশীল ব্যাটিং বাংলাদেশের ইনিংসে স্থিতি ফিরিয়ে আনে। বিশেষ করে লিটন দাসের ব্যাটিং ছিল পরিণত ও নিয়ন্ত্রিত। তিনি অপরাজিত অবস্থায় ৪৮ রানে পৌঁছেছিলেন এবং হৃদয়ের সঙ্গে ৯২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েছিলেন।
তবে ইনিংসের মাঝপথে বাংলাদেশ বড় এক দুশ্চিন্তায় পড়ে। পায়ের পেশিতে টান লাগায় লিটনকে মাঠ ছাড়তে হয়। ভালো ছন্দে থাকা একজন ব্যাটারের এভাবে মাঠ ছাড়াটা দলের জন্য ধাক্কা হলেও সেই শূন্যতা পূরণে এগিয়ে আসেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
ক্রিজে নেমেই ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে খেলতে শুরু করেন মোসাদ্দেক। অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয়ও নিজের ইনিংসকে বড় করার দিকে মনোযোগ দেন। দুজন মিলে ৮৩ বলে ৯৩ রানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে তোলেন। এই সময় হৃদয় অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে নিজের প্রথম এবং ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম অর্ধশতক পূর্ণ করেন।
ইনিংসের শেষভাগে রান তোলার গতি বাড়ানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ৮৩ রানে আউট হন হৃদয়। তবে তার আগেই তিনি বাংলাদেশের ইনিংসকে শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। অন্য প্রান্তে মোসাদ্দেক ছিলেন আরও আক্রমণাত্মক। মাত্র ৪৩ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করেন তিনি। এটি ছিল তার ওয়ানডে ক্যারিয়ারের পঞ্চম অর্ধশতক এবং চলতি সিরিজে দ্বিতীয়।
টপ অর্ডারের ব্যর্থতার পর মিডল অর্ডারের দৃঢ়তা ও দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের সুবাদে নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে বাংলাদেশ সংগ্রহ করে ২৭৪ রান। একসময় যেখানে ২০০ রানও অনিশ্চিত মনে হচ্ছিল, সেখানে ২৭৪ রানের সংগ্রহ নিঃসন্দেহে স্বাগতিকদের জন্য বড় অর্জন।
এখন ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করবে বাংলাদেশের বোলাররা। সিরিজে ইতোমধ্যেই আধিপত্য দেখানো টাইগাররা যদি এই লক্ষ্য সফলভাবে রক্ষা করতে পারে, তাহলে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক হোয়াইটওয়াশের স্বাদ পাবে বাংলাদেশ। অন্যদিকে সফরকারীদের সামনে চ্যালেঞ্জ—২৭৫ রান তাড়া করে অন্তত একটি জয় নিয়ে দেশে ফেরা।

