আর্জেন্টিনার ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির জন্মদিনে লেখা একটি আবেগঘন চিঠি সামাজিক মাধ্যমে ঝড় তোলে। আর সেই চিঠির বদৌলতেই জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন পূরণের সুযোগ পেল ৮ বছর বয়সী মানু লিতভি।
আর্জেন্টিনার ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের বয়সভিত্তিক দলে খেলেন মানু। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম লা নাসিয়ন জানিয়েছে, মেসির বাণিজ্যিক অংশীদার ও স্পনসর প্রতিষ্ঠান তার পুরো পরিবারকে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে বিশ্বকাপের ম্যাচ মাঠে বসে দেখার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছে।
ঘটনার শুরু জনপ্রিয় আর্জেন্টাইন ইউটিউব ও টুইচ লাইভস্ট্রিমিং চ্যানেল ‘ওলগা’-র ‘সেরিয়া ইনক্রেইবলে’ অনুষ্ঠানে। সেখানে মানু মেসিকে উদ্দেশ্য করে লেখা নিজের চিঠিটি পড়ে শোনায়।
চিঠিতে সে লিখেছিল, “প্রিয় লিও, আজ তোমার জন্মদিন, তাই তোমাকে একটি চিঠি লিখলাম। আশা করি এটি তোমার কাছে পৌঁছাবে। দিন শেষ হওয়ার আগে শুধু বলতে চেয়েছিলাম, তুমি আমার কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।”
শুধু ফুটবল নয়, মেসির ব্যক্তিত্বের প্রতিও নিজের মুগ্ধতার কথা জানায় মানু। অনুষ্ঠানে সে বলে, “তোমাকে খেলতে দেখলে মনে হয়, তুমি আর বল যেন এক হয়ে গেছ। এটা সত্যিই জাদুর মতো। তোমার খেলার চেয়েও আমি তোমার ব্যক্তিত্বকে বেশি ভালোবাসি। তুমি সব সময় সতীর্থদের সাহায্য করো এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও কখনো হাল ছেড়ে দাও না।”
ভিডিওটি দ্রুতই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর মেসির বাণিজ্যিক অংশীদার প্রতিষ্ঠান মানুর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে।
তবে সবচেয়ে বড় চমকটি আসে অনুষ্ঠান চলাকালেই। উপস্থাপক পাওলা চাভেজ এবার একটি নতুন চিঠি পড়ে শোনান, যার প্রাপক ছিলেন স্বয়ং মানু।
চিঠিতে লেখা ছিল, “আজ থেকে তুমি আর একা স্বপ্ন দেখবে না। আমরা চাই, তোমার গল্পের পরের অধ্যায়টি লিখতে তোমার পাশে থাকতে। আমাদের পুরো দলের পক্ষ থেকে তোমাকে এবং তোমার পুরো পরিবারকে আজই যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি, যাতে তুমি জীবনের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ সরাসরি স্টেডিয়ামে বসে দেখতে পারো।”
লা নাসিয়ন-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, মানু বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের লড়াই গ্যালারিতে বসে দেখার সুযোগ পাবে।
নিজের চিঠিতে মানু তার স্বপ্নের কথাও লিখেছিল। সে জানায়, আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে খেললেও একদিন পেশাদার ফুটবলার হওয়াই তার সবচেয়ে বড় লক্ষ্য। প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে সে এই স্বপ্ন পূরণের জন্য প্রার্থনা করে।
মানুর চোখে মেসি শুধু একজন ফুটবলার নন, বরং অসম্ভবকে সম্ভব করার জীবন্ত অনুপ্রেরণা। তার ভাষায়, “যখনই আমি আমার স্বপ্নের কথা ভাবি, তখনই তোমার মুখটা চোখের সামনে ভেসে ওঠে। কারণ তুমি প্রমাণ করেছ, স্বপ্ন যত কঠিনই হোক, একদিন তা সত্যি হতে পারে।”

