দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও ফুটবল বিশ্বে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিল স্পেন। বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট পরেছে স্প্যানিশরা। এর আগে ২০১০ সালে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ জিতেছিল দলটি।
রোববার (২০ জুলাই) অনুষ্ঠিত ফাইনালে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ছিল স্পেনের দখলে। বলের দখল, পাসিং ও আক্রমণে প্রতিপক্ষকে প্রায় পুরো ম্যাচজুড়েই চাপে রাখলেও নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেন একের পর এক আক্রমণ চালায়। পঞ্চম মিনিটেই লামিন ইয়ামাল ও দানি ওলমোর দারুণ সমন্বয়ে গোলের সুযোগ তৈরি হলেও আর্জেন্টিনার রক্ষণভাগ এবং গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্টিনেজ সেই বিপদ সামাল দেন।
প্রথমার্ধে আর্জেন্টিনা ছিল একেবারেই নিষ্প্রভ। পুরো ৪৫ মিনিটে তারা লক্ষ্যে কোনো শটই নিতে পারেনি। অন্যদিকে স্পেন তিনটি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। বলের দখলেও ছিল স্প্যানিশদের সুস্পষ্ট আধিপত্য। প্রথমার্ধে তাদের দখলে ছিল প্রায় ৬৫ শতাংশ বল, যেখানে আর্জেন্টিনার ছিল ৩৫ শতাংশ। সফল পাসেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্পেন।
প্রথমার্ধের শেষদিকে লিসান্দ্রো মার্টিনেজ ফাউলের দায়ে হলুদ কার্ড দেখেন। পরে চোটের কারণে তাকে মাঠ ছাড়তে হয় এবং বদলি হিসেবে নামেন নিকোলাস ওতামেন্দি।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই চিত্র দেখা যায়। স্পেন ধারাবাহিকভাবে আক্রমণ চালালেও দুর্দান্ত কিছু সেভ করে দলকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনার জন্য বড় ধাক্কা আসে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন এনজো ফার্নান্দেজ, ফলে অতিরিক্ত সময়ের বেশিরভাগ অংশ ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
অতিরিক্ত সময়ের ৯৬ মিনিটে নিকো উইলিয়ামস বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবে স্পেনকে বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি। ১০৬তম মিনিটে নিকো উইলিয়ামসের নিখুঁত পাস থেকে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত লিড এনে দেন।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একাধিক আক্রমণ চালিয়েও স্পেনের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে মেতে ওঠেন স্পেনের ফুটবলার ও সমর্থকেরা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে ১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের ট্রফি নিজেদের করে নিল স্পেন। একই সঙ্গে এটি তাদের ইতিহাসের দ্বিতীয় বিশ্বকাপ শিরোপা, আর আর্জেন্টিনার টানা শিরোপা ধরে রাখার স্বপ্ন ভেঙে গেল ফাইনালেই।

