চীনের হুলুনবুয়ির সিটিতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-২০ নারী জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে শক্তিশালী মালয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে পঞ্চম স্থান নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম স্থান নির্ধারণী এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক হকি খেলেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। এই জয়ের মধ্য দিয়ে ২০২৩ সালের আসরের নবম স্থানের চেয়ে চার ধাপ এগিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ দল।
ম্যাচের শুরু থেকে দুর্দান্ত খেললেও প্রথমার্ধে দুই দলের কেউই গোল করতে পারেনি। তৃতীয় কোয়ার্টারে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ। এরপর চতুর্থ কোয়ার্টারে দুর্দান্ত এক ফিল্ড গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কনা আক্তার। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে মালয়েশিয়া একটি গোল শোধ করলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেনি তারা। ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন বাংলাদেশের অধিনায়ক শারিকা সাফা রিমণ।
গ্রুপ পর্বেও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছিল বাংলাদেশ। চায়নিজ তাইপেকে ৭-০, পাকিস্তানকে ৫-১, কাজাখস্তানকে ৪-০ এবং হংকংকে ৬-০ গোলে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠে তারা। কোয়ার্টার ফাইনালে জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপের সরাসরি টিকিটের লড়াই থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ। সেই হারে আগামী বছরের জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগও শেষ হয়ে যায়। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের টিকিট পেতে হলে অন্তত সেমিফাইনালে উঠতে হতো বাংলাদেশকে।
তবে একটি পথ এখনো খোলা আছে। নিয়ম অনুযায়ী, আগামী বছর মেয়েদের জুনিয়র বিশ্বকাপ যদি ভারতে হয়, তাহলে আয়োজক দেশ হিসেবে ভারত সরাসরি টিকিট পাবে এবং এশিয়া থেকে আরেকটি দেশ সুযোগ পাবে। যেহেতু বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান অর্জন করেছে, তাই সেই সুযোগটি বাংলাদেশই পাবে। অর্থাৎ, ভারত বিশ্বকাপের আয়োজক হলে বাংলাদেশের মেয়েরা প্রথমবারের মতো জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পাবে।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দলের ধারাবাহিক পরিশ্রম ও প্রস্তুতি। বাংলাদেশ হকি ফেডারেশন (বাহফে) এই অনবদ্য জয়ের জন্য দলের সব নারী খেলোয়াড়, কোচ ও অফিসিয়ালদের আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছে। মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম নিউ স্ট্রেইটস টাইমস লিখেছে, মালয়েশিয়ার কাছে এই হার ছিল ‘লজ্জাজনক’। কারণ তারা গত বছর চিলিতে অনুষ্ঠিত জুনিয়র বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল। পুরো টুর্নামেন্টে মালয়েশিয়া ছয় ম্যাচের একটিতেও জয় পায়নি, মাত্র তিন গোল করেছে এবং ২৬ গোল হজম করেছে।
এই সাফল্য শুধু একটি ম্যাচের জয় নয়, এটি বাংলাদেশের নারী হকির অগ্রযাত্রার প্রমাণ। ২০২৩ সালে যেখানে বাংলাদেশ নবম স্থানে ছিল, সেখানে মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে পঞ্চম স্থানে পৌঁছানো মানে দলটির উন্নয়ন স্পষ্ট। গ্রুপ পর্বে পাকিস্তান, কাজাখস্তান ও হংকংয়ের মতো দলগুলোকে বড় ব্যবধানে হারানো প্রমাণ করে বাংলাদেশের নারী হকির ভিত মজবুত হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, ভারত বিশ্বকাপ আয়োজন করলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের মেয়েরা বিশ্ব মঞ্চে নিজেদের কতটা প্রমাণ করতে পারে।

