২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা হারানোর পাশাপাশি ইতিহাসের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডেও নাম লিখিয়েছে আর্জেন্টিনা। পুরো ম্যাচজুড়ে স্প্যানিশদের নিয়ন্ত্রণের সামনে কার্যত অসহায় ছিল লিওনেল স্কালোনির দল। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা, যা বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে প্রথম ঘটনা।
রোববারের ফাইনালে শুরু থেকেই বলের দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে আধিপত্য দেখায় স্পেন। ম্যাচের বেশির ভাগ সময় আর্জেন্টিনা নিজেদের অর্ধেই রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত ছিল। একের পর এক আক্রমণ ঠেকিয়ে তারা কোনোভাবে ম্যাচকে অতিরিক্ত সময়ে নিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আক্রমণভাগে কার্যত কোনো প্রভাবই রাখতে পারেনি।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটের পরিসংখ্যানই স্পষ্টভাবে দুই দলের পার্থক্য তুলে ধরে। স্পেন যেখানে ১৫টি শট নিয়েছিল, সেখানে আর্জেন্টিনার শটের সংখ্যা ছিল শূন্য। কর্নারের ক্ষেত্রেও স্পেন ছিল অনেক এগিয়ে। লা রোহা পায় ৯টি কর্নার, বিপরীতে আর্জেন্টিনা আদায় করতে সক্ষম হয় মাত্র একটি।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে আর্জেন্টিনা আরও বড় ধাক্কা খায়। মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে শেষ মুহূর্ত এবং অতিরিক্ত সময়ের পুরোটা খেলতে হয় ১০ জন নিয়ে। সংখ্যাগতভাবে পিছিয়ে পড়লেও রক্ষণে শেষ চেষ্টা চালিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই স্পেন বল জালে পাঠালেও ফাউলের কারণে সেই গোল বাতিল হয়। তবে আক্রমণের ধার অব্যাহত রাখে তারা। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধে ফেরান তোরেস গোল করে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেন এবং বিশ্বকাপ শিরোপা নিশ্চিত করেন।
অতিরিক্ত সময়ে আর্জেন্টিনা দুটি শট নিতে পারলেও কোনোটিই লক্ষ্যে ছিল না। ফলে পুরো ম্যাচে স্পেনের গোলরক্ষককে কার্যত কোনো কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে হয়নি।
ফুটবলের পরিসংখ্যানভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপ্টার তথ্য অনুযায়ী, ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপের বিস্তারিত পরিসংখ্যান সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম কোনো দল ফাইনালের নির্ধারিত ৯০ মিনিটে প্রতিপক্ষের গোলমুখে একটি শটও নিতে পারেনি। সেই অনাকাঙ্ক্ষিত রেকর্ডের মালিক হলো আর্জেন্টিনা।
বিশ্লেষকদের মতে, আর্জেন্টিনার এই ব্যর্থতার পেছনে স্পেনের উচ্চমানের চাপ সৃষ্টি, বলের দখলে আধিপত্য এবং মাঝমাঠের নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পুরো ম্যাচে স্পেন আর্জেন্টিনাকে নিজেদের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার সুযোগই দেয়নি।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এমন পরিসংখ্যান খুবই বিরল। তাই শিরোপা হারানোর হতাশার পাশাপাশি এই রেকর্ডও আর্জেন্টিনার জন্য দীর্ঘদিন স্মরণীয় একটি অধ্যায় হয়ে থাকবে।

