দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময়ের অপেক্ষার অবসান। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে আবারও টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্টে মুখোমুখি হবে দুই দল। তবে মাঠে নামার আগেই পরিষ্কার—বাংলাদেশের সামনে অপেক্ষা করছে বড় এক পরীক্ষা।
কারণ স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া এই টেস্টে নামছে প্রায় পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে। এক বছরেরও বেশি সময় পর একই সঙ্গে মাঠে দেখা যাবে তাদের সেরা চার বোলার—প্যাট কামিন্স, মিচেল স্টার্ক, জশ হ্যাজলউড ও নাথান লায়নকে। বিপরীতে চোটের কারণে গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন ক্রিকেটারকে হারিয়ে কিছুটা দুর্বল দল নিয়ে লড়াইয়ে নামতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।
পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়া
ম্যাচ শুরুর প্রায় ২০ ঘণ্টা আগেই প্রথম টেস্টের একাদশ ঘোষণা করেছে অস্ট্রেলিয়া। প্রত্যাশা অনুযায়ী, পেস আক্রমণে কোনো পরিবর্তন আনেনি তারা। জশ হ্যাজলউড ফিরেছেন একাদশে, ফলে জায়গা হয়নি স্কট বোল্যান্ডের।
এই ম্যাচেই দীর্ঘ সময় পর একসঙ্গে খেলবেন কামিন্স, স্টার্ক, হ্যাজলউড ও লায়ন। চোটের কারণে গত এক বছরে এই চারজনকে একসঙ্গে মাঠে দেখা যায়নি।
গত অক্টোবরের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে খেলেননি হ্যাজলউড। চোটের কারণে পুরো অ্যাশেজ সিরিজও মিস করেছিলেন তিনি। কামিন্সও অ্যাশেজে মাত্র একটি ম্যাচ খেলেছিলেন। অন্যদিকে অ্যাডিলেডে হ্যামস্ট্রিংয়ের চোটে অ্যাশেজের মাঝপথে ছিটকে যাওয়া লায়নও ফিরেছেন দলে।
ব্যাটিংয়েও শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়া। ট্রাভিস হেডের সঙ্গে ওপেন করবেন জেক ওয়েদারল্ড। এরপর মার্নাস লাবুশেন, স্টিভেন স্মিথ ও ক্যামেরন গ্রিন। উইকেটের পেছনে থাকবেন অ্যালেক্স ক্যারি। সঙ্গে অলরাউন্ডার বো ওয়েবস্টার।
সব মিলিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার একাদশে অভিজ্ঞতা, গতি ও বৈচিত্র্যের কোনো ঘাটতি নেই।
চোটে ধাক্কা বাংলাদেশের
অন্যদিকে সিরিজ শুরুর আগেই বড় ধাক্কা খেয়েছে বাংলাদেশ। চোটের কারণে প্রথম টেস্টে নেই পেসার নাহিদ রানা। মোস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলামও খেলতে পারছেন না।
বিশেষ করে নাহিদ রানার অনুপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য বড় ক্ষতি। তার গতি ও বাউন্স অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের জন্য বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারত। মাত্র দুই মাস আগে বাংলাদেশের মাটিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন এই তরুণ পেসার।
ব্যাটিংয়েও ধাক্কা আছে। আঙুলের চোটের কারণে প্রথম টেস্টে খেলতে পারছেন না অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। এর ওপর প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে মাত্র ৫৪ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।
তবে লিটন দাসকে নিয়ে স্বস্তির খবর পেয়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত জানিয়েছেন, লিটন এখন পুরোপুরি ফিট এবং প্রথম টেস্টে খেলার জন্য প্রস্তুত।
কেমন হতে পারে বাংলাদেশের একাদশ?
বাংলাদেশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে একাদশ ঘোষণা করেনি। শান্ত জানিয়েছেন, দলে কিছু ছোটখাটো চোট সমস্যা থাকায় ম্যাচের আগে একাদশ চূড়ান্ত করা হবে।
তবে প্রস্তুতি ম্যাচ ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স বিবেচনায় দুই স্পিনার ও তিন পেসার নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনাই বেশি। স্পিনে থাকবেন তাইজুল ইসলাম ও মেহেদী হাসান মিরাজ। পেস আক্রমণে তাসকিন আহমেদের সঙ্গে হাসান মাহমুদের জায়গা প্রায় নিশ্চিত। তৃতীয় পেসার হিসেবে খালেদ আহমেদের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।
ব্যাটিংয়ে তানজিদ হাসান ও সাদমান ইসলামকে ওপেনিংয়ে দেখা যেতে পারে। এরপর মমিনুল হক, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও লিটন দাসকে ঘিরে থাকবে বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের মূল ভরসা।
অস্ট্রেলিয়ার দীর্ঘ টেস্ট অভিযান
বাংলাদেশের বিপক্ষে দুই টেস্ট দিয়েই অস্ট্রেলিয়ার ব্যস্ত টেস্ট মৌসুম শুরু হচ্ছে। এরপর দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে তিন ম্যাচের সিরিজ, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্ট, ভারতের বিপক্ষে পাঁচ টেস্ট এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেলবোর্নে একটি দিবা-রাত্রির টেস্ট খেলবে তারা।
এরপর জুনে শুরু হবে অ্যাশেজ সিরিজ। সব মিলিয়ে আগামী ১২ মাসে অন্তত ২০টি টেস্ট খেলার অপেক্ষায় অস্ট্রেলিয়া। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে উঠতে পারলে ম্যাচের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বাংলাদেশের সামনে তাই শুধু একটি টেস্ট নয়, অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের বড় সুযোগ। প্রতিপক্ষ যখন পূর্ণ শক্তির অস্ট্রেলিয়া, তখন লড়াইটা যে কঠিন হবে, তা নিয়ে কোনো সংশয় নেই। এখন দেখার বিষয়—চোট আর প্রতিকূলতার বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশ কতটা লড়াই জমাতে পারে।

