অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ২৩ বছর পর টেস্ট খেলতে নেমেই দুর্দান্ত শুরু করেছে বাংলাদেশ। ডারউইনের প্রথম টেস্টের প্রথম সেশনেই স্বাগতিকদের চারটি উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণে থাকার বার্তা দিয়েছে বাংলাদেশ।
বৃহস্পতিবার লাঞ্চ বিরতিতে যাওয়ার সময় অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৭৪ রান। বাংলাদেশের পেসারদের আঁটসাঁট বোলিংয়ে শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটাররা।
বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন হাসান মাহমুদ। তিনি তুলে নিয়েছেন দুটি উইকেট। তাসকিন আহমেদ ও ইবাদত হোসেন পেয়েছেন একটি করে উইকেট। প্রথম সেশনে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটিং লাইনআপকে নিয়মিত চাপে রেখেছেন তিন পেসারই।
শুরুতে নতুন বল হাতে তাসকিন ও হাসান দুই প্রান্ত থেকে আক্রমণ চালান। তাদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রান তুলতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছিল অস্ট্রেলিয়ার দুই উদ্বোধনী ব্যাটারকে। একপর্যায়ে হাসানের বলে জেইক ওয়েদারল্ড উইকেটরক্ষক লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৩৭ বলে ২৩ রান করেন তিনি।
এরপর আরও বড় ধাক্কা দেন হাসান। পরপর দুই ওভারে দুটি উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিপাকে ফেলে দেন তিনি। তার শিকার হন ট্রাভিস হেড। ৩৯ বলে তিনটি চারে ২২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন এই বাঁহাতি ব্যাটার।
এর আগে ইবাদত হোসেনও দুর্দান্ত এক স্পেলে অস্ট্রেলিয়ার ব্যাটারদের চাপে রাখেন। তার বলে একটি এলবিডব্লিউর আবেদন নিয়ে বাংলাদেশ রিভিউ নিলেও সেটি কাজে আসেনি। পরে তাসকিন আহমেদ ফিরিয়ে দেন ক্যামেরন গ্রিনকে।
অন্যদিকে, প্রথম সেশনে বাংলাদেশের কিছু ভুলও ছিল। ক্যাচের সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে, নষ্ট হয়েছে দুটি রিভিউ। তারপরও পেসারদের দারুণ বোলিংয়ের কারণে সেসব ভুল বড় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়নি।
লাঞ্চে যাওয়ার সময় স্টিভেন স্মিথ ৭ রানে অপরাজিত ছিলেন। এই ইনিংসে তিনিও একবার জীবন পেয়েছেন। বাংলাদেশের বোলারদের সামনে অস্ট্রেলিয়া যে শুরুটা আশা করেছিল, তা যে একেবারেই হয়নি—প্রথম সেশনের ৪ উইকেটেই সেটি স্পষ্ট।
২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমে বাংলাদেশের জন্য তাই ডারউইনের প্রথম সেশনটি হয়ে উঠেছে আত্মবিশ্বাস জাগানোর মতো। এখন দ্বিতীয় সেশনে স্মিথ ও বাকি ব্যাটারদের দ্রুত ফিরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার ওপর আরও চাপ বাড়ানোই হবে বাংলাদেশের লক্ষ্য।

