ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় নিশ্চিত মৃত্যুর খুব কাছ থেকে ফিরে এখন ক্রিকেটের ২২ গজে সরব হয়েছেন পান্ত। কিন্তু তার কাজে ফেরার পিছনে আছে ২ জনের নাম। ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনায় দাউদাউ করে জ্বলতে থাকা গাড়ির ভেতর থেকে পান্তকে বের করে নিয়ে আসে ২জন ছেলে। তা না হলে হয়তো তার মৃত্যু হয়ে যেত ঘটনাস্থলে, ফেরা হতো না ২২ গজে।
সেদিন যারা দূত হয়ে জীবন বাঁচিয়েছেন পান্তের; তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার শেষ নেই তারকার। প্রাণ বাঁচানো সে দুই যুবক রজত কুমার ও নিশু কুমারকে এবার কৃতজ্ঞতার স্বরূপ ২জনকে দুটি স্কুটি উপহার দিয়েছেন পান্ত।
পান্তকে উদ্ধারকারী দুজনের সঙ্গেও কথা বলেছেন সেভেন ক্রিকেট। যেখানে তারা বলেছেন, রজত-নিশু ঘটনাস্থলের নিকটবর্তী এক ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। এক্সপ্রেসওয়েতে দামি গাড়ি আছড়ে পড়তে দেখে ভারতীয় তারকার প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছিলেন তারা। সেই মুহূর্তে পান্তকে জ্বলন্ত গাড়ি থেকে বের করে আনার পর স্থানীয় সাকশাম হাসপাতালে তাদের ভর্তি করার সিদ্ধান্তটি ছিল সবচেয়ে বুদ্ধিমান এবং কার্যকরী ছিল।
২০২২ সালের ডিসেম্বরের দিল্লি-দেরাদুন হাইওয়েতে রুরকির কাছে গাড়িটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে। এ সময় নিজেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন পান্ত। গাড়িটিতে আগুন লেগে গেলে পান্তেরও শরীরের অনেকাংশ পুড়ে যায়। পান্তের ডান হাঁটুর লিগামেন্ট ছিঁড়ে যায় ও মাথায় গভীর ক্ষত তৈরি হয়। ভয়াবহ সেই অবস্থার কথা জানিয়েছেন পান্তের শৈশবের কোচ দেবেন্দর শর্মা।
সেভেন ক্রিকেটকে দেবেন্দর শর্মা বলেন, ‘তার শরীর থেকে মাংসপেশি খুলে বেরিয়ে এসেছিল। ফলে ঘাড়ের পেছন থেকে পিঠের নিম্নাঙ্গের হাড় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল তার। এই অবস্থায় ব্যান্ডেজ লাগাতে ৫ ঘণ্টা সময় লেগে যায়। পুরোটা সময়ে দু’বার সংজ্ঞাহীন করতে হয় পান্তকে। ওর গোটা শরীর ছাড়িয়ে নেওয়া কাঠের খণ্ডের মত মনে হচ্ছিল।’ সূত্র : অস্ট্রেলিয়ান ক্রীড়া চ্যানেল ‘সেভেন ক্রিকেট’

