আগামী শনিবার মালয়েশিয়ায় শুরু হবে অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। এই প্রতিযোগিতার জন্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষণা করেছে ২০ সদস্যের ম্যাচ অফিশিয়ালের তালিকা। গর্বের বিষয়, বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে এই তালিকায় রয়েছেন সাথিরা জাকির জেসি।
৩৪ বছর বয়সী সাথিরা ইতোমধ্যে ২৫টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। গত বছর তিনি নারী এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টি এবং অনূর্ধ্ব-১৯ নারী এশিয়া কাপেও আম্পায়ারের ভূমিকা পালন করেছেন। গত বছরের মার্চে তিনি আইসিসির ডেভেলপমেন্ট প্যানেলে যুক্ত হন। তবে সাথিরার স্বপ্ন ছিল বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করা। যদিও ২০২৪ সালে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আয়োজক হতে যাওয়া বাংলাদেশে সেই সুযোগ তৈরি হয়নি। রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে আয়োজক পরিবর্তন হয়ে তা চলে যায় সংযুক্ত আরব আমিরাতে। সেই টুর্নামেন্টে সাথিরাকে ম্যাচ অফিশিয়ালের তালিকায় রাখা হয়নি। তবে এবার অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ দিয়ে তাঁর সেই স্বপ্ন পূরণ হতে যাচ্ছে।
ম্যাচ অফিশিয়াল হিসেবে এবার মোট ১৬ জন আম্পায়ার দায়িত্ব পালন করবেন। সাথিরা ছাড়াও তালিকায় রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার অ্যাশলি গিবনস, ভারতের গায়ত্রী বেণুগোপালান ও নারায়ণান জননী, পাকিস্তানের সালিমা ইমতিয়াজ, আয়ারল্যান্ডের আইডান সিভারসহ আরও অনেক দেশের প্রতিনিধিরা। ম্যাচ রেফারির তালিকায় রয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের রিওন কিং, নিউজিল্যান্ডের ট্রুডি অ্যান্ডারসন, ইংল্যান্ডের ডিন কস্কার এবং অস্ট্রেলিয়ার ডেভিড গিলবার্ট।
এবারের টুর্নামেন্টে উল্লেখযোগ্য নাম কাতারের শিবানী মিশ্র, যিনি ২০১৯ সালে প্রথম নারী হিসেবে ছেলেদের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ পরিচালনা করেছিলেন।
আইসিসির আম্পায়ার্স ও রেফারিজ বিভাগের জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপক শন ইয়াসে বলেন, “এই ইভেন্টে নির্বাচিত আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের অভিনন্দন। তাঁরা দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেটে ভালো পারফর্ম করে এই জায়গায় পৌঁছেছেন। এটি একটি বৈচিত্র্যময় দল, যারা ভবিষ্যতে আরও বড় মঞ্চে নিজেদের জায়গা করে নেবে।”
বাংলাদেশের নারী আম্পায়ারিংয়ে সাথিরা এক অনন্য উদাহরণ। ছেলেদের ঘরোয়া ক্রিকেটে ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা তাঁকে বড় মঞ্চে আত্মবিশ্বাসী করেছে। ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুজন প্রতিনিধির মধ্যে একজন ছিলেন শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ, যিনি এখন আইসিসির এলিট প্যানেলের সদস্য।
সাথিরার এই সাফল্য প্রমাণ করে যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের নারী আম্পায়াররা দৃঢ়তার সঙ্গে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই আশা করা যায়।

