পাকিস্তানের হাতে ছিল ছয় উইকেট, প্রয়োজন ছিল ১৭৮ রান। তবে মুলতানের ব্যাটিং-বিপর্যয়ের পিচ-এ এই লক্ষ্য পূরণ করা যেন এক দুঃসাধ্য কাজ। শেষ ব্যাটসম্যানদের লড়াই সত্ত্বেও পাকিস্তান আজ ২০ ওভারের মধ্যেই ৫৭ রানে বাকি ছয় উইকেট হারিয়ে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাঠ ছেড়েছে।
২৫৩ রানের লক্ষ্যে নেমে ১৩৩ রানে অলআউট হওয়া পাকিস্তানকে ১২০ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজ পেয়েছে ঐতিহাসিক জয়। ১৯৯০ সালের নভেম্বরের পর এই প্রথম পাকিস্তানের মাটিতে টেস্ট জিতল ক্যারিবীয়রা। প্রায় ৩৪ বছর ২ মাস পর পাওয়া এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজ ১-১ এ সমতায় শেষ করেছে তারা।
ম্যাচের তৃতীয় দিন সকালে মাত্র আট বলের মধ্যেই সাজঘরে ফিরে যান দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যান সৌদ শাকিল ও কাশিফ আলী। ১৩ রান করা শাকিল কেভিন সিনক্লেয়ারের বলে ক্যাচ দেন, আর নাইটওয়াচম্যান কাশিফ আউট হন জোমেল ওয়ারিক্যানের বলে।
সপ্তম উইকেটে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও আগা সালমান কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। স্পিনারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের সামনে তারা টিকতে পারেননি। ৩৯ রানের জুটি ভাঙার পর ওয়ারিক্যান দ্রুতই দুজনকে ফেরান।
ওয়ারিক্যান ইনিংসের শেষ ব্যাটসম্যান সাজিদ খানকেও আউট করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন। প্রথম ইনিংসে চার উইকেট ও ব্যাট হাতে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৫৪ রান করার কারণে ম্যাচসেরার পুরস্কারও উঠেছে তার হাতে। দুই টেস্ট মিলিয়ে ৮৫ রান ও ১৯ উইকেট নিয়ে সিরিজসেরার পুরস্কারও জিতে নেন ৩২ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার।
পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মধ্যে অনুষ্ঠিত এই সিরিজটি বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে একটি বড় রেকর্ড গড়ে। দুই টেস্টে স্পিনাররা মোট ৬৯টি উইকেট তুলে নিয়েছেন, যা এক সিরিজে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০২১ সালের শ্রীলঙ্কা–ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজে ৬৭ উইকেট নেওয়া ছিল সর্বোচ্চ।
তবে ক্যারিবীয়দের সবচেয়ে বড় অর্জন ছিল মুলতানের দ্বিতীয় টেস্টে জয়। পাকিস্তানের মাটিতে তাদের আগের ২২ টেস্টের মধ্যে মাত্র চারটিতে জয় এসেছিল, যার সর্বশেষটি ছিল ১৯৯০ সালের ২৫ নভেম্বর ফয়সালাবাদে। এই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কেবল কেমার রোচের জন্ম হয়েছিল সেই সময়।

