নতমস্তকে মাঠ ছাড়ছিলেন লিভারপুলের তরুণ ডিফেন্ডার আমারা নাল্লো। টাচলাইন পেরোনোর সময় কোচ আর্নে স্লট তাঁর কাঁধে সান্ত্বনার হাত রাখলেন। মাত্র ১৮ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকটা হতে পারত স্বপ্নের মতো, কিন্তু সেটাই রূপ নিল দুঃস্বপ্নে-সময় লাগল মাত্র ৩ মিনিট ৪৬ সেকেন্ড!
ফিলিপস স্টেডিয়ামে পিএসভির বিপক্ষে ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে লিভারপুলের একঝাঁক তরুণ খেলোয়াড়ের সুযোগ পাওয়ার দিনেই তৈরি হলো এই ঘটনাবহুল মুহূর্ত। শেষ ষোলো নিশ্চিত হয়ে যাওয়ায় স্লট তরুণদের সুযোগ দিয়েছিলেন। ২০০৬ সালের পর প্রথমবার একাদশে চার তরুণ খেলান তিনি- জেডেন ডেনস, কনর ব্রাডলি, হার্ভি এলিয়ট ও জেমস ম্যাকনেল।
এই ম্যাচেই ইতিহাস গড়েন ১৯ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ডেনস, যিনি লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগের একাদশে জায়গা পেয়েছিলেন। তবে ৮৩ মিনিটে তাঁকে তুলে মাঠে নামানো হয় নাল্লোকে, যার কয়েক মিনিট পরই ম্যাচের নাটকীয় মোড়।
ওয়েস্ট হ্যাম ও লিভারপুলের বয়সভিত্তিক দল পেরিয়ে আসা এই ডিফেন্ডার মাত্র দুটি পাস দেওয়ার পরই প্রতিপক্ষ খেলোয়াড় জোহান বাকায়েকোকে পেছন থেকে ফাউল করেন। রেফারি সঙ্গে সঙ্গেই বের করলেন লাল কার্ড-একেবারে ‘পেশাদার ফাউল’ বলতে যা বোঝায়! লিভারপুলের হয়ে অভিষেক ম্যাচেই এমন রেকর্ড কোনো খেলোয়াড়ই হয়তো চাইবেন না।
নাল্লোর বয়স তখন ১৮ বছর ৭২ দিন। এর আগে লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে লাল কার্ড দেখার রেকর্ড ছিল মাইকেল ওয়েনের দখলে। ১৯৯৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১৮ বছর ১১৭ দিনে লাল কার্ড দেখেছিলেন ইংল্যান্ডের এই কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড।
ম্যাচ শেষে নাল্লোর পাশে দাঁড়িয়েছেন কোচ স্লট। তিনি বলেন, ‘এটা তার জন্য নির্মম অভিজ্ঞতা। লিভারপুলের মূল দলে ওর এটাই প্রথম ম্যাচ, তাও আবার চ্যাম্পিয়নস লিগে! আমার মনে হয়, সে পরিস্থিতিটা বুঝতে পারেনি। এই পর্যায়ে ম্যাচ খেলা কঠিন, বিশেষ করে যখন অভিষেকের কয়েক মিনিটের মধ্যেই লাল কার্ড দেখতে হয়। তবে এখন তার সামনে চ্যালেঞ্জ-চ্যাম্পিয়নস লিগে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার জন্য লড়াই করা। আশা করি, সে ঘুরে দাঁড়াবে।’
লিভারপুলের তরুণদের মধ্যে আরও একটি রেকর্ড হয়েছে এই ম্যাচে। অধিনায়ক অ্যান্ডি রবার্টসনের বদলি হিসেবে ৬৪ মিনিটে মাঠে নামেন ১৭ বছর ২১৩ দিন বয়সী মিডফিল্ডার ট্রে নিওনি। এর মধ্য দিয়ে তিনি ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় লিভারপুলের সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে নামার রেকর্ড গড়েন, ভেঙে দেন ৩৩ বছর ধরে টিকে থাকা ফিল চার্নকের রেকর্ড। ১৯৯২ সালে চার্নক ১৭ বছর ২১৫ দিনে মাঠে নেমেছিলেন।
নাল্লোর লাল কার্ড হয়তো হতাশার, কিন্তু তরুণদের এমন সুযোগ পাওয়াই ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত দিচ্ছে লিভারপুল শিবিরে।

