বৃহস্পতিবার বাফুফে ভবনের নিচে সংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে মানসিক হয়রানি ও উৎপীড়নসহ আরও অনেক অভিযোগ এনে ইংলিশ এই কোচের অপসারণ দাবি করেছেন জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়রা।
তারা জানিয়েছেন, বাটলারের অধীনে তারা খেলবেন না, দিয়েছেন গণ অবসরের হুমকিও। লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন অধিনায়ক সাবিনা খাতুনসহ ১৭ ফুটবলার।
৬টা অভিযোগ লিখে এনেছিলেন খেলোয়াড়রা। সবই খেলা সংক্রান্ত। নেপালের নারী সাফে খেলতে গিয়ে কোচ পিটার কোথায় কোথায় ভুল করেছেন, গেম প্ল্যানে ভুল করেছেন তা তুলে ধরা হয়েছে। নেপালে বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছে। সাফ থেকে ফিরে কোচ কেন খেলোয়াড়দের নিয়ে বসে সমস্যার সমাধান করেননি। কোচের ইগো সমস্যা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ঋতুপর্ণা চাকমা।

নেপালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র হয়। সেই ম্যাচে ৫ খেলোয়াড়ের মধ্যে তিন জন পরিবর্তন করা হয়, দুই জন পরিবর্তন করার অপশন কাজে লাগাতে পারেননি কোচ। পাকিস্তানের বিপক্ষে কৃষ্ণাকে নামানোর আগে তার জার্সি নম্বর জিজ্ঞেস করলে সহকারী কোচ জবাব দেন। দ্বিতীয় বার কোচ কৃষ্ণার জার্সি নম্বর জিজ্ঞাসা করলে তখনো অন্যজন নম্বর বলে দেন। তাতেই কোচ ক্ষেপে যান।
খেলোয়াড়েরা বলেন, মাঠের বাইরে প্রতিনিয়ত কোচ তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। আমাদের নিয়ে হাসিঠাট্টা করেন। সিনিয়র জুনিয়রদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করেন। মেয়েদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে কথা বলেন। আমাদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগ করেন কোচ, যা সত্য নয়। সবকিছু জানে সহকারী কোচরা। কিন্তু তারা চাকরি হারানোর ভয়ে মুখ খোলেন না। এ সব জানিয়ে গত বুধবার লিখিত চিঠি দিয়েছে সভাপতির কাছে। জানানো হয়েছে কোচ মানসিকভাবে খেলোয়াড়দের মারাত্মক ক্ষতি করছে।

খেলোয়াড়েরা আরো বলেন , আমরা আশা করছি বাফুফের মাননীয় সভাপতি বিষয়টি গুরুত্বসহকারে নিয়ে আশু সমাধানের ব্যবস্থা নেবেন। এর আগ পর্যন্ত আমরা পিটারের অধীনে কোনো ট্রেনিং ক্যাম্পে অংশ নেব না। যেহেতু গত অক্টোবরের পর কোনো ফুটবলারের সঙ্গে বাফুফে কোনো চুক্তি নবায়ন করেনি, তাই আইনত বাফুফে আমাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখে না। তারপরও যদি সেরকম কিছু করার সিদ্ধান্ত হয় এবং পিটার বাটলারকেই রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্তে বাফুফে অনড় থাকে, তবে আমরা একযোগে পদত্যাগ করতে বাধ্য হব। ভেবে নিব, দেশের নারী ফুটবলে আমাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেছে।

