ভারতের বিপক্ষে সিরিজ হারের পর ইংল্যান্ড শিবিরে আলোচনা এখন আর হার কিংবা ভারতের জয়ের ওপর সীমাবদ্ধ নেই। এখন বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে কনকাশন বদলি নিয়ে ভারতীয় দলের সিদ্ধান্ত। ইংল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার অ্যালিস্টার কুক, কেভিন পিটারসেন ও মাইকেল ভন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
গতকাল পুনেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারতের অলরাউন্ডার শিবম দুবে মাথায় আঘাত পাওয়ার পর কনকাশন বদলি হিসেবে মাঠে নামেন পেসার হর্ষিত রানা। তবে এখানে প্রশ্ন উঠেছে, অলরাউন্ডারের বদলি হিসেবে কীভাবে একজন মূল পেসারকে নামানো হলো?
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কনকাশন সাবের নিয়ম চালু হয় ২০১৯ সালে। আইসিসির প্লেয়িং কন্ডিশনের ১. ২. ৭. ৩ ধারায় স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, বদলি হিসেবে যে খেলোয়াড় নেওয়া হবে সেই খেলোয়াড়ের ভূমিকা আঘাত পাওয়া ক্রিকেটারের মতো (লাইক টু লাইক) হতে হবে। এই বদলিতে দল যেন অতিরিক্ত সুবিধা না পায়, সেই বিষয়ের কথা উল্লেখ করা আছে। এসব মিলে গেলেই ম্যাচ রেফারি অনুমোদন দেবেন।
আবার ১. ২. ৭. ৭ ধারায় বলা আছে, এ ক্ষেত্রে ম্যাচ রেফারির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। কোনো দলই আপিল করতে পারবে না। ভারতের সহকারী কোচ মরনে মরকেলও এই সিদ্ধান্ত ম্যাচ রেফারির বলেই জানিয়েছেন। এই ম্যাচের ম্যাচ রেফারি ছিলেন ভারতের সাবেক পেসার জাভাগাল শ্রীনাথ।
ইংল্যান্ডের অধিনায়ক জস বাটলার এই সিদ্ধান্তে ভারতকে ‘১২ জন’ নিয়ে খেলার সুবিধা পাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কারণ, শিবম দুবে মাথায় আঘাত পান ভারতের ইনিংসের ১৯তম ওভারে, ততক্ষণে তিনি দলকে ভালো সংগ্রহ এনে দিয়েছেন। এরপর হর্ষিত রানা এসে বল হাতে নেন ৩ উইকেট, যা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচ চলাকালেই ধারাভাষ্যকক্ষে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কেভিন পিটারসেন। তিনি বলেন, ‘শিবম দুবে ও হর্ষিত রানা এক ধরনের খেলোয়াড় নন। যে কেউ এটা স্বীকার করবে। দুবে মূলত ব্যাটিং অলরাউন্ডার, আর রানা জেনুইন পেসার।’
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক এই সিদ্ধান্তকে ‘পাগলামি’ বলে অভিহিত করেছেন। টিএনটি স্পোর্টসে তিনি বলেন, ‘একজন বিগ-হিটিং অলরাউন্ডারের বদলে একজন মূল পেসার কীভাবে আসতে পারে? এটি কোনোভাবেই ন্যায়সঙ্গত নয়। এতে ভারতের বাড়তি সুবিধা হয়েছে।’
এক্স (সাবেক টুইটার)-এ নিজের প্রতিক্রিয়ায় মাইকেল ভন লেখেন, ‘একজন মূল বোলার কীভাবে একজন ব্যাটসম্যান, যে কিনা পার্টটাইম বোলিং করে, তার বদলি হয়?’
বিতর্কের ফলাফল কী হতে পারে?
এই সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক হলেও আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এটি চূড়ান্ত এবং কোনো পরিবর্তন হবে না। তবে ভবিষ্যতে এই নিয়মের ব্যাখ্যা এবং প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে আলোচনা হতে পারে।

