ইংলিশ ফুটবলার মার্কাস রাশফোর্ডের ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ছেড়ে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়ার ঘটনা মূলত কোচের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে ঘটেছে। নতুন কোচের অধীনে দলের পারফরম্যান্স হতাশাজনক হলেও, কোচ রাশফোর্ডকে দলে রাখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেননি। ফুটবলে কোচের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হওয়ায় রাশফোর্ডকেই বিদায় নিতে হয়েছে।
এ ধরনের ঘটনা নতুন নয়। কোচের সঙ্গে বিরোধের জেরে ক্লাব ছাড়তে হয়েছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকেও। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডেরই সাবেক কোচ এরিক টেন হাগের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে ক্লাব ছাড়েন তিনি। একইভাবে, আর্জেন্টিনার হুয়ান রিকুয়েলমেও কোচের সঙ্গে মানিয়ে নিতে না পারায় অকালেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানান।
তবে ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের পাশাপাশি দলীয়ভাবে কোচের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের ঘটনাও ঘটে ফুটবলে। ২০২২ সালে স্পেনের নারী দল এমনই এক সংকটের মধ্য দিয়ে যায়। বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করলেও, কোচ হোর্হে ভিলদার কর্তৃত্বমূলক আচরণের অভিযোগ তুলে বিদ্রোহ করেন ১৫ খেলোয়াড়। তবে কোচ বিদ্রোহীদের দলে ফেরানোর চেষ্টা না করে নতুন খেলোয়াড় নিয়ে দল সাজান এবং বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন হন। বিশ্বকাপজয়ী সেই দলে তিনজন বিদ্রোহী খেলোয়াড় ফিরতে সক্ষম হন, যাঁদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন ব্যালন ডি’অরজয়ী আইতানা বোনমাতি।
স্পেনের মত বাংলাদেশের ফুটবলেও এমনই এক বিদ্রোহ চলছে। নারী ফুটবলে দেশের সবচেয়ে বড় সাফল্যের নেপথ্যে থাকা ১৮ জন খেলোয়াড় কোচ পিটার বাটলারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন।
তাদের দাবি, বাটলারকে সরাতে হবে, নতুবা তারা জাতীয় দলে খেলবেন না। কোচের বিরুদ্ধে কর্তৃত্ববাদী আচরণ ও বর্ণবাদী মনোভাবের অভিযোগ তুলেছেন তারা। ইতোমধ্যেই অনুশীলন বন্ধ করে দিয়েছেন বিদ্রোহী খেলোয়াড়রা।
এই পরিস্থিতি সামাল দিতে হিমশিম খাচ্ছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। একদিকে কোচের প্রতি আস্থা ও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়, অন্যদিকে দেশের ফুটবলের সাফল্যের অন্যতম কারিগর নারী ফুটবলারদের বিদ্রোহ।
ফুটবলে সাধারণত কোচের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হয়, তবে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরো জটিল। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগ ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই নারী দল গড়ে তোলা হয়েছে, যা দেশের ফুটবলের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এখন বাফুফের সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার চ্যালেঞ্জ। বিদ্রোহী খেলোয়াড়দের দাবি মানা হলে কোচের কর্তৃত্ব খর্ব হতে পারে, অন্যদিকে তাদের উপেক্ষা করলে নারীদের ফুটবল ভবিষ্যতের জন্য বড় ধাক্কা আসতে পারে। সতর্কতার সঙ্গে এই সংকট মোকাবিলা করা না গেলে দেশের ফুটবলে স্থবিরতা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

