৪০ দিনের একাদশ বিপিএল শেষ হলো ফরচুন বরিশালের টানা দ্বিতীয় শিরোপা জয়ের মধ্য দিয়ে। তবে টুর্নামেন্টজুড়ে যত আলোচনা হওয়া উচিত ছিল খেলা নিয়ে, তার চেয়ে বেশি হয়েছে মাঠের বাইরের বিতর্ক নিয়ে। তবে ফাইনালের দিনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে উপচেপড়া দর্শক দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে বিপিএল নিয়ে এত সমালোচনা চলেছে। মাঠের উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই এবং রোমাঞ্চকর ক্রিকেটই যেন শেষ পর্যন্ত জয়ী হলো।
মিরপুরের গ্যালারি যেন ছিল এক টুকরো বরিশাল। লাল জার্সিধারী দর্শকের স্লোগানে মুখরিত স্টেডিয়ামে চিটাগং কিংস যেন একরকম প্রতিকূল পরিবেশেই লড়াই করেছে। তবে খেলার শুরুতে চিটাগং যেভাবে দাপট দেখিয়েছে। তাতে মনে হচ্ছিল, এবার হয়তো তাদের হতাশা কাটবে। ওপেনার খাজা নাফে ও পারভেজ হোসেন দুর্দান্ত সূচনা এনে দেন দলকে। প্রথম পাঁচ ওভারেই স্কোরবোর্ডে ওঠে ৫১ রান। পাওয়ারপ্লে শেষে ৫৭/০ থাকার পর মনে হচ্ছিল, চিটাগংয়ের ইনিংস ২০০ পেরিয়ে যাবে। কিন্তু ইনিংসের দ্বিতীয়ার্ধে গতি ধরে রাখতে পারেনি তারা।
১১তম ওভারে ১০০ রান পূর্ণ করলেও, পরে রানের গতি কিছুটা কমে যায়। তবে রিশাদ হোসেনের এক ওভারে নাফের টানা দুই ছক্কা চিটাগংকে আবার এগিয়ে নেয়। নাফ ৩৭ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন এবং পারভেজের সঙ্গে গড়েন বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২১ রানের উদ্বোধনী জুটি। এরপর গ্রাহাম ক্লার্কের সঙ্গে পারভেজ ৪০ বলে ৭০ রানের জুটি গড়েন। ২৩ বলে ৪৪ রান করা ক্লার্ক আউট হলেও পারভেজ অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৭৮ রান করে।
চিটাগংয়ের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৩ উইকেটে ১৯৪। যা বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে অন্যতম বড় স্কোর। কিন্তু বরিশালের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের সামনে সেটিও যথেষ্ট হয়নি।
জয়ের জন্য ১৯৫ রানের লক্ষ্য নিয়ে খেলতে নেমে বরিশালও দারুণ শুরু করে। অধিনায়ক তামিম ইকবাল ও তাওহিদ হৃদয় ৮.১ ওভারে যোগ করেন ৭৬ রান। যা বিপিএল ফাইনালের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওপেনিং জুটি। তামিম ২৯ বলে ৫৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে আউট হন। যেখানে ছিল ৯টি চার ও একটি ছক্কা। হৃদয় করেন ২৮ বলে ৩২ রান।
তামিমের বিদায়ের পর কিছুটা চাপ তৈরি হলেও, কাইল মায়ার্সের ২৮ বলে ৪৬ রানের ঝড়ো ইনিংস সেই শঙ্কা দূর করে। মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে ৪২ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়েন মায়ার্স। শেষদিকে মুশফিকুর রহিমের ৯ বলে ১৬ ও রিশাদ হোসেনের ৬ বলে অপরাজিত ১৮ রান নিশ্চিত করে বরিশালের জয়।
শেষ ওভারে ৮ রান প্রয়োজন ছিল বরিশালের। প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ প্রায় শেষ করে দেন রিশাদ। এরপর এক রান নেওয়ার পর ওয়াইড বলেই নির্ধারিত হয়ে যায় ম্যাচের ভাগ্য। বরিশাল ৩ বল হাতে রেখেই শিরোপা জয় নিশ্চিত করে।
চিটাগং কিংস শেষ পাঁচ ওভারে কাঙ্ক্ষিত রান তুলতে পারেনি, যা তাদের বিপাকে ফেলে। শেষ চার ওভারে মাত্র ৩১ রান যোগ করে তারা। একইভাবে ফিল্ডিংয়ে একাধিক ভুলের মাশুল গুনেছে চিটাগং। শেষ পাঁচ ওভারে বরিশালকে আটকে রাখার সুযোগ থাকলেও, গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ক্যাচ মিস ও বাজে ফিল্ডিংয়ের কারণে ম্যাচ হাতছাড়া করে ফেলে তারা।
২০১৭ বিপিএলে রংপুর রাইডার্স ২০৬ রান করেছিল কিন্তু ঢাকা ক্যাপিটালস সে লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি। ২০১৯ সালে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ১৯৯ রান করে ১৭ রানে জিতেছিল। এবার বরিশাল ইতিহাস গড়ে ১৯৫ রান তাড়া করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।
এই জয়ের ফলে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে টানা দ্বিতীয়বার বিপিএলের শিরোপা জিতল ফরচুন বরিশাল। মাঠে বিতর্কের চেয়ে ক্রিকেটের জয়ই বড় কথা। আর মিরপুরের গ্যালারিতে সমর্থকদের উচ্ছ্বাসই বলে দেয়, বিপিএল এখনও দর্শকদের মন জয় করতে পারে।

