ফুটবল ভক্তরা সাধারণত ক্লাবগুলোর খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় করা অর্থের প্রতি বেশি নজর দেন। তবে ফুটবল ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক কাঠামো শুধু খেলোয়াড় কেনার ওপর নির্ভর করে না বরং তারা খেলোয়াড় বিক্রির মাধ্যমেও বিপুল অর্থ উপার্জন করে। গত ১০ মৌসুমের দলবদলের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, খেলোয়াড় বিক্রিতে শীর্ষস্থানে রয়েছে ইংলিশ ক্লাব চেলসি।
চেলসি গত এক দশকে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ১৩০ কোটি ইউরো (প্রায় ১৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা)। এই তালিকায় চেলসির বিক্রিত ফুটবলারের মধ্যে অন্যতম হলেন এডেন হ্যাজার্ড (১২ কোটি ইউরো) ও কাই হাভার্টজ (৭ কোটি ৫০ লাখ ইউরো)।
দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে পর্তুগিজ ক্লাব বেনফিকা, যারা ১২৭ কোটি ইউরো আয় করেছে। নিয়মিত ফুটবল দলবদলের খবর রাখা ভক্তদের কাছে এটি হয়তো বিস্ময়কর নয়, কারণ বেনফিকা দীর্ঘদিন ধরেই প্রতিভাবান ফুটবলার তৈরি করে বড় ক্লাবগুলোর কাছে বিক্রি করার জন্য পরিচিত। সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাবটি এনজো ফার্নান্দেজ (১২ কোটি ১০ লাখ ইউরো) ও জোয়াও ফেলিক্সকে (১২ কোটি ৭০ লাখ ইউরো) উচ্চমূল্যে বিক্রি করেছে।
এছাড়া, অন্তত ১৩ জন ফুটবলারকে ৫ কোটি ইউরোর বেশি মূল্যে বিক্রি করেছে তারা। চলতি মৌসুমেই নিকো গঞ্জালেসকে ৬ কোটি ইউরোতে ম্যানচেস্টার সিটির কাছে হস্তান্তর করেছে ক্লাবটি।
খেলোয়াড় তৈরি করে বিক্রির জন্য পরিচিত ফ্রেঞ্চ ক্লাব মোনাকো রয়েছে তালিকার তৃতীয় স্থানে, যারা ১১৪ কোটি ইউরো আয় করেছে। ১০০ কোটির বেশি আয় করা অন্য ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে জুভেন্টাস (১০৯ কোটি), ডর্টমুন্ড (১০৩ কোটি) এবং আয়াক্স (১০০ কোটি)।
শীর্ষ দশের বাকি ক্লাবগুলোর মধ্যে রয়েছে বার্সেলোনা (৯৭ কোটি ৩০ লাখ ইউরো), আতলেতিকো মাদ্রিদ (৯৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো), ম্যানচেস্টার সিটি (৮৭ কোটি ৭০ লাখ ইউরো) ও পোর্তো (৮৪ কোটি ৬০ লাখ ইউরো)।
এই পরিসংখ্যানগুলো ফুটবল ক্লাবগুলোর অর্থনৈতিক মডেলের বৈচিত্র্যকে তুলে ধরে। কোনো ক্লাব সাফল্যের জন্য খেলোয়াড় কেনায় বেশি বিনিয়োগ করে, আবার কোনো ক্লাব প্রতিভা গড়ে তুলে তাদের বিক্রি করেই আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখে।

