এবারের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি বাংলাদেশের জন্য একেবারে ভিন্ন ধরনের অভিজ্ঞতা। এর আগে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্টের জন্য ঢাকা ছাড়ার আগে অধিনায়ক ঘোষণা দেননি যে, ‘‘ট্রফি জিততেই দল দেশ ছাড়ছে’’-এটা ছিল একটি অপ্রত্যাশিত ঘোষণা। কিন্তু বাস্তবতায় তা ছিল একেবারেই আলাদা।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে মাঠে নেমে পুরোনো দৃশ্য আবারও দেখা গেল। অধিনায়ক শান্তর দেওয়া সেই ঘোষণার পরেও, বৃহস্পতিবারের ম্যাচটি একেবারেই সেভাবে প্রমাণ করতে পারল না যে দল প্রস্তুত ছিল।
তবে দলের এবারের ব্যর্থতার কারণ ছিল মূলত কিছু ভুল সিদ্ধান্ত ও অদক্ষতা। কী কী ভুলগুলো ছিল? আসুন, তা একে একে আলোচনা করা যাক।
প্রথমত, বাংলাদেশ দলের জন্য মাঠের শুরুর অবস্থা ছিল অপ্রত্যাশিত। দুবাইয়ের উইকেট ছিল মন্থর গতির এবং এ ধরনের উইকেটে ভারতের স্পিনারদের সংখ্যা ছিল যথেষ্ট। ভারতের টিম ম্যানেজমেন্ট ৩ স্পিনার নিয়ে একাদশ সাজায়, যা ছিল তাদের পক্ষে লাভজনক। অন্যদিকে, বাংলাদেশ দলে ছিল মাত্র ২ স্পিনার, যা দলের জন্য বড় এক অসুবিধা হয়ে দাঁড়াল। দুই স্পিনার রিশাদ হোসেন ও মেহেদি হাসান মিরাজ যেখানে ২০ ওভারে ৭৫ রান দেন, সেখানে দুই পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও মুস্তাফিজুর রহমান মাত্র ১৭.৩ ওভারে রান দেন প্রায় ৭ রান প্রতি ওভারে। এটি ছিল স্পষ্টভাবে দলের প্রথম ভুল।
দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনে দেখা গেছে তীব্র সমস্যার সৃষ্টির কারণ। যা বিপিএল শেষ হওয়ার পর পরই তামাম দলের জন্য পরিচিত। ওয়ানডে ক্রিকেটে দলকে মানিয়ে নেওয়া সহজ ছিল না। যা আগের সিরিজগুলোতেও দেখা গিয়েছিল। বিশেষত ২০২২ সালের আফগানিস্তান সিরিজ, ২০২৩ সালে ইংল্যান্ড এবং ২০২৪ সালের শ্রীলঙ্কা সিরিজেও এমন ব্যাটিং ধস দেখা গিয়েছিল। আর এবারও একই ঘটনা ঘটল। গতকাল, ১০ ওভারের মধ্যে বাংলাদেশ হারিয়ে বসে ৫ উইকেট। এটি ছিল এক মারাত্মক প্রতিকূলতা, যা দলের ব্যাটাররা কাটিয়ে উঠতে পারেননি।
তৃতীয়ত, বোলিং বিভাগও কোনো ভালো কিছুর লক্ষণ দেখাতে পারেনি। উইকেট যত সময় গড়াচ্ছিল, ততই মন্থর হয়ে পড়ছিল। এরকম উইকেটে বাংলাদেশ কতোবার খেলেছে তা বলা মুশকিল। কিন্তু বোলাররা সেই পরিচিত কন্ডিশনের সুবিধা নিতে পারলেন না। বিশেষ করে মুস্তাফিজ ও সাকিব গতির ব্যবহার ভুলভাবে করেছিলেন এবং ভারতের ব্যাটারদের জন্য রান দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করেছিলেন। এই ভুলের খেসারত বাংলাদেশের বোলিং বিভাগের ওপর পড়েছিল। যা শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ম্যাচ হারানোর অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়াল।
চতুর্থত, ফিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ছিল বড় এক হতাশা। পুঁজি ছোট থাকলে ফিল্ডারদের ওপর অতিরিক্ত দায়িত্ব এসে পড়ে কিন্তু বাংলাদেশের ফিল্ডিং ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। বিশেষত, ক্যাচ মিস ও রানআউটের সুযোগ নষ্ট করা ছিল দলের জন্য অপ্রত্যাশিত। ২৪তম ওভারে শ্রেয়াস আইয়ার ও শুভমান গিলের ভুল বোঝাবুঝিতে একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল কিন্তু শান্ত সে রানআউটের সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যর্থ হন। গিল তখন ৪৭ রানে ব্যাট করছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি ১০১ রান করে মাঠ ছেড়েছেন। এই সুযোগটা হাতছাড়া হলে, বাংলাদেশের জয়ের সম্ভাবনা অনেক বেড়ে যেতে পারত।
ম্যাচ শেষে, লোকেশ রাহুলও সুযোগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশের বোলারদের কিন্তু ওই সুযোগগুলোও কাজে লাগানো হয়নি। রাহুলের ক্যাচগুলো ধরতে না পারায় দলের জন্য আরও বড় ক্ষতি হয়ে যায়।
এমন অসংখ্য ভুলের কারণে ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত হেরে গেছে বাংলাদেশ। তবে, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে এখনও দুইটি ম্যাচ বাকি রয়েছে। যেখানে এই ভুলগুলো সংশোধন করে জয় পাওয়া সম্ভব। শান্তরা কী পারবেন সেই ভুলগুলো শোধরাতে? সময়ই তা প্রমাণ করবে।

