চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৭ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশে ফিরবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। এরপর মে মাসের শেষের দিকে পাকিস্তান সফরে যাবে তারা, যেখানে স্বাগতিকদের বিপক্ষে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা।
এরপরই আবার বাংলাদেশ-পাকিস্তানের দ্বৈরথ দেখা যাবে ঘরের মাঠে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসছে পাকিস্তান ক্রিকেট দল। সফরে তারা তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে। এফটিপির (ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম) বাইরের এই সিরিজের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ।
দুবাই থেকে বিসিবি সভাপতি জানান, বড় আসরগুলোর সময় বিভিন্ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা হয়। পিসিবির (পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড) সঙ্গে আমাদের ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং তারা বাংলাদেশে দল পাঠাতে সম্মত হয়েছে। সূত্র: প্রথম আলো
পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির সঙ্গে বিসিবি সভাপতির আলোচনায় এফটিপির বাইরের এই সিরিজের জন্য সময় বের করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত হয়েছে। প্রয়োজনে এফটিপিতে থাকা কোনো সিরিজের সময় পুনর্নির্ধারণ করবে পিসিবি। বর্তমানে তাদের জুলাইয়ের শেষ দিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের সূচি রয়েছে।
এদিকে দুবাইয়ে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট প্রশাসনের নানা বিষয়েও আলোচনা হয়। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের সময় এসিসির (এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল) ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এসিসির বর্তমান সভাপতি শ্রীলঙ্কার শাম্মী সিলভা গত বছরের ডিসেম্বর থেকে দায়িত্ব পালন করছেন এবং পরবর্তী সভায় পাকিস্তানের মহসিন নাকভি দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। ভারতীয় বোর্ড কিছুটা আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত নাকভির এসিসি সভাপতির পদ গ্রহণে বাধা থাকছে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
ক্রিকেট প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড কূটনৈতিকভাবে বেশ সক্রিয়। চ্যাম্পিয়নস ট্রফি সফলভাবে আয়োজনের মাধ্যমে তারা তাদের অবস্থান আরো দৃঢ় করতে চায়। পাশাপাশি ভারতের বাইরে অন্যান্য ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেও কাজ করছে পিসিবি।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশকে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার মনে করছে পাকিস্তান। বিসিবিও এই সহযোগিতাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। দুবাইয়ে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের দিন বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের সঙ্গে পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভির আলোচনায় এসব বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে। ফলস্বরূপ বিসিবির আমন্ত্রণ গ্রহণ করে জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশ সফরে আসতে রাজি হয়েছে পাকিস্তান দল।

