২০২৩ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে ভারতের হৃদয়ভঙ্গের পর আবারো আজ (৪ মার্চ) বাংলাদেশ সময় ৩:০০টায় আইসিসি সেমিফাইনাল ম্যাচে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া। ২০২৩ সালের সেদিন আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়ামে ১.৪ বিলিয়ন ভারতীয় সমর্থকের স্বপ্ন গুঁড়িয়ে দিয়েছিল প্যাট কামিন্সের দল। এবার ২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির সেমিফাইনালে রোহিত শর্মার নেতৃত্বাধীন ভারত প্রতিশোধ নিতে মরিয়া।
পরিবর্তিত শক্তি-সমীকরণ-
২০২৩ সালের বিশ্বকাপে যে অস্ট্রেলিয়া ভারতের সামনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিল, সেই দল আর আগের মতো নেই। কামিন্স ও স্টার্কের অনুপস্থিতিতে তাদের পেস অ্যাটাক অনেকটাই দুর্বল। ভারতও নেই যশপ্রীত বুমরাহ, তবে রোহিতের দল আরো শক্তিশালী হয়েছে। বিশেষ করে স্পিন বিভাগে আছে একাধিক ম্যাচ উইনার– রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, অক্ষর প্যাটেল ও নতুন সংযোজন, ভরসাযোগ্য ভরুণ চক্রবর্তী। দুবাইয়ের ধীরগতির উইকেট স্পিনারদের সাহায্য করবে, ফলে ভারতের জন্য এটি সুবর্ণ সুযোগ।
ম্যাচের আগেই রোহিত শর্মা বলেছেন, আমরা জানি প্রতিপক্ষ কেমন খেলবে কিন্তু আমাদের নিজেদের পরিকল্পনাতেই মনোযোগ দিতে হবে। সেমিফাইনালের মতো ম্যাচে আবহাওয়া, পিচ কন্ডিশন, ব্যাটিং-বোলিং ইউনিটের সমন্বয় গুরুত্বপূর্ণ।
একাদশ নির্বাচন নিয়ে ভারতের সামনে কিছু প্রশ্ন রয়েছেঃ
ভরুণ চক্রবর্তীকে রাখা হবে কিনা?
মোহাম্মদ শামির পরিবর্তে অর্শদীপ সিং আসতে পারেন কি না?
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার একাদশেও পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। ম্যাথু শর্টের জায়গায় আসতে পারেন জ্যাক ফ্রেজার-ম্যাকগার্ক বা কুপার কনোলি। দুবাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেট বিবেচনায় তারা দ্বিতীয় স্পিনার তানভীর সাংহাকে দলে নিতে পারে।
প্রধান খেলোয়াড়রা কারা?
ভারতের জন্য:
রোহিত শর্মা: ওপেনিংয়ে তার আগ্রাসী ব্যাটিং ম্যাচের গতি নির্ধারণ করবে। তবে বামহাতি পেসারদের বিপক্ষে সাম্প্রতিক দুর্বলতা তার জন্য চিন্তার কারণ। বিরাট কোহলি: অ্যাডাম জাম্পার বিরুদ্ধে তার দুর্বলতা একটি প্রধান সমস্যা হতে পারে, কারণ অস্ট্রেলিয়ার এই লেগ-স্পিনার কোহলিকে ৫ বার আউট করেছেন। কুলদীপ যাদব ও ভরুণ চক্রবর্তী: স্পিন সহায়ক উইকেটে তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারেন।
অস্ট্রেলিয়ার জন্য:
ট্রাভিস হেড: ২০২৩ বিশ্বকাপ ফাইনালের নায়ক। ভারতকে তার ব্যাটিং শক্তির ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। গ্লেন ম্যাক্সওয়েল: স্পিনের বিরুদ্ধে তার দুর্দান্ত স্ট্রাইক রেট ভারতীয় স্পিনারদের জন্য চ্যালেঞ্জ হতে পারে, যদিও তিনি ঝুঁকিপূর্ণ শট খেলে আউট হওয়ার প্রবণতা রাখেন। অ্যাডাম জাম্পা: ভারতীয় ব্যাটিং লাইনআপকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখেন।
পরিসংখ্যান ও অতীত রেকর্ড-
অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৮৪-৫৭ ব্যবধানে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া।
আইসিসি ওয়ানডে টুর্নামেন্টে মুখোমুখি লড়াইয়ে অস্ট্রেলিয়া ১০-৭ ব্যবধানে এগিয়ে।
২০২৩ বিশ্বকাপে ভারতের একমাত্র হার এসেছিল সেই ম্যাচে যেখানে স্পিনাররা একটিও উইকেট নিতে পারেনি।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে পিচ ও কন্ডিশন: পিচ ধীরগতির হবে, যেখানে স্পিনাররা সুবিধা পাবে। দ্বিতীয় ইনিংসে স্পিনারদের পারফরম্যান্স প্রথম ইনিংসের তুলনায় ভালো হয়েছে এই টুর্নামেন্টে। দুবাইয়ের আবহাওয়া পরিষ্কার থাকবে এবং তাপমাত্রা থাকবে ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
প্রত্যাশিত একাদশ-
ভারত: রোহিত শর্মা (অধিনায়ক), শুভমান গিল, বিরাট কোহলি, শ্রেয়াস আইয়ার, অক্ষর প্যাটেল, কেএল রাহুল (উইকেটকিপার), হার্দিক পান্ডিয়া, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদব, মোহাম্মদ শামি ও ভরুণ চক্রবর্তী।
অস্ট্রেলিয়া: ট্রাভিস হেড, জশ ইংলিস (উইকেটকিপার), স্টিভেন স্মিথ (অধিনায়ক), মার্নাস লাবুশেন, কুপার কনোলি, অ্যালেক্স ক্যারে, গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, বেন দ্বারশুইস, নাথান এলিস, স্পেন্সার জনসন ও অ্যাডাম জাম্পা।
ভারত বিশ্বকাপের সেই বেদনার স্মৃতি ভুলতে মরিয়া, আর অস্ট্রেলিয়া চায় তাদের আধিপত্য ধরে রাখতে। রোহিতের দল শক্তিশালী কিন্তু এক ম্যাচের লড়াইয়ে যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। ভারতের স্পিনাররা যদি ছন্দে থাকে এবং ব্যাটিং লাইনআপ দায়িত্ব নিয়ে খেলে, তাহলে সেমিফাইনাল জয় কঠিন হবে না। তবে অস্ট্রেলিয়া চিরকালই ভারতের জন্য কঠিন প্রতিপক্ষ। এবার দেখার বিষয়- কারা ফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করতে পারে।

