আইসিসি ইভেন্টের ফাইনাল মানেই যেন নিউজিল্যান্ডের জন্য হৃদয় ভাঙার গল্প। শিরোপার লড়াইয়ে হারই যেন তাদের অমোঘ নিয়তি। গত ছয় বছরের মধ্যে দুটি বিশ্বকাপসহ তিনটি আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে হারের বেদনা সঙ্গী হলো কিউইদের।
দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৪ উইকেটে হারিয়ে অপরাজিত থেকে আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির শিরোপা জিতেছে ভারত। ১২ বছর পর আবারও তারা চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির মুকুট অর্জন করলো, যা তাদের তৃতীয় শিরোপা। এই জয়ের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ইতিহাসে সর্বাধিক শিরোপার রেকর্ড গড়েছে ভারত। এতদিন ভারত ও অস্ট্রেলিয়া দু’টি করে শিরোপা নিয়ে সমান ছিল। ২০০২ সালে প্রথমবার এবং ২০১৩ সালে দ্বিতীয়বারের মতো ট্রফি জেতে ভারত। এরপর আরও দুটি ফাইনাল খেললেও শিরোপা ছুঁয়ে দেখা হয়নি। তবে পঞ্চমবারের ফাইনালে এসে তারা ইতিহাস গড়লো।
নিউজিল্যান্ডের জন্য ফাইনালে হারের অভিজ্ঞতা নতুন কিছু নয়। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হারের পর ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাজিত হয়েছিল ব্ল্যাক ক্যাপরা। চার বছর পর আরও একটি ফাইনালে এসে হতাশাই সঙ্গী হলো তাদের।
টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। ড্যারিল মিচেল ও মাইকেল ব্রেসওয়েলের হাফ-সেঞ্চুরি এবং রাচিন রবীন্দ্র ও গ্লেন ফিলিপসের কার্যকরী ইনিংসের ওপর ভর করে তারা ৭ উইকেটে ২৫১ রান সংগ্রহ করে। জবাবে ভারত সাবধানী কিন্তু হিসেবি ব্যাটিং করে ৬ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে এই দলটি গোটা আসরজুড়েই ছিল অপ্রতিরোধ্য। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে হারের পর ভারত আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। ২০২৪ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অপরাজিত থেকে শিরোপা জেতার পর এবার চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিও তারা জয় করলো কোনো ম্যাচ না হেরে।
জয়ের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ভারতকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন অধিনায়ক রোহিত শর্মা ও শুভমান গিল। উদ্বোধনী জুটিতে ১৮.৪ ওভারে তারা ১০৫ রান যোগ করেন, যেখানে রোহিতের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। শুভমান ধীরস্থির ব্যাটিং করলেও রোহিত দ্রুত রান তুলতে থাকেন। ৫০ বলে ৩৭ রান করা শুভমান ফিরে গেলে পরের ওভারেই এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন বিরাট কোহলি।
দলীয় ১২২ রানে রোহিত শর্মা আউট হয়ে গেলে ভারত কিছুটা চাপে পড়ে। তবে ৮৩ বলে ৭টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৭৬ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন রোহিত। এরপর চতুর্থ উইকেটে শ্রেয়াস আইয়ার ও অক্ষর প্যাটেল মিলে ৭৫ বলে ৬১ রান যোগ করেন। শ্রেয়াস ৬২ বলে ৪৮ রান করে আউট হলে ২০ রান যোগ করেন রাহুল ও অক্ষর। পরে হার্দিক পান্ডিয়ার ১৮ বলে ১৮ রানের ইনিংস ভারতকে জয়ের দোরগোড়ায় নিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত লোকেশ রাহুল ও রবীন্দ্র জাদেজা জয় নিশ্চিত করেন। রাহুল অপরাজিত থাকেন ৩৩ বলে ৩৪ রান করে।
নিউজিল্যান্ডের ইনিংসে সর্বোচ্চ রান করেন ড্যারিল মিচেল। ১০১ বলে ৩টি চারে ৬৩ রান করেন তিনি। রাচিন রবীন্দ্র ২৯ বলে ৩৭ রান করেন, গ্লেন ফিলিপস ৫২ বলে ৩৪ রান করেন, আর মাইকেল ব্রেসওয়েল ৪০ বলে ৫৩ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন। তবে কিউই ব্যাটসম্যানদের কেউই বড় ইনিংস খেলতে পারেননি, যা তাদের স্কোরবোর্ডকে শক্তিশালী করতে ব্যর্থ হয়।
ভারতের বোলিং আক্রমণে বরুণ চক্রবর্তী ও কুলদীপ যাদব ২টি করে উইকেট নেন। মোহাম্মদ শামি ও রবীন্দ্র জাদেজা পান একটি করে উইকেট।
নিউজিল্যান্ডের জন্য ফাইনাল মানেই যেন কষ্টের গল্প। তিনটি বড় টুর্নামেন্টের ফাইনালে হেরে তারা ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না। অন্যদিকে ভারত একের পর এক শিরোপা জিতে প্রমাণ করলো, তারা বিশ্ব ক্রিকেটে এখন সবচেয়ে শক্তিশালী দলগুলোর একটি। রোহিত শর্মার নেতৃত্বে দলটি টানা দুটি আইসিসি ইভেন্টে অপরাজিত থেকে শিরোপা জয় করে ইতিহাস গড়েছে।


