ইউরোপীয় মঞ্চ থেকে বিদায়- দলের হারের হতাশা তো ছিলই, সঙ্গে হয়তো ব্যালন ডি’অরের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার বেদনায়ই কান্না চেপে রাখতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহ। পিএসজির বিপক্ষে টাইব্রেকারে হেরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে গেছে লিভারপুল। ম্যাচশেষে দর্শকদের ধন্যবাদ জানাতে গিয়ে মিশরীয় তারকার চোখে দেখা যায় জল।
চলতি মৌসুম সালাহর জন্য বিশেষ। কেননা, গুঞ্জন রয়েছে- লিভারপুলের হয়ে এটাই তার শেষ মৌসুম। নিজেও একাধিকবার তা ইঙ্গিত করেছেন। বিদায়ঘণ্টার আগে ট্রফি জয়ে মরিয়া সালাহ মাঠে দারুণ ছন্দে ছিলেন। লিভারপুলও ছিল প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষে এবং চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফেবারিটদের তালিকায়।
তবে হঠাৎ থেমে গেল সেই স্বপ্নযাত্রা। ইউরোপের সেরা প্রতিযোগিতা থেকে বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে বড় ধাক্কা খেলেন সালাহর ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাবনাও। চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত ৩২ গোল ও ২২টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। দলের ট্রফি জয়ের সম্ভাবনা থাকলে এবং পারফরম্যান্স অব্যাহত থাকলে ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে তিনি ছিলেন সবার ওপরে।
কিন্তু চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে লিভারপুল ছিটকে পড়ায় সেই সম্ভাবনা এখন অনেকটাই ফিকে। কারণ ২০২৪ মৌসুমে নেই কোনও ফিফা বা উয়েফার জাতীয় দলভিত্তিক বড় টুর্নামেন্ট। ফলে ব্যালন ডি’অরের বিচার হবে মূলত ক্লাব পারফরম্যান্সের ওপর।
এই প্রেক্ষাপটে এগিয়ে যাচ্ছেন বার্সেলোনার রাফিনিয়া। মৌসুমে ৩০ গোল ও ১৯ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছে বার্সা, লা লিগায়ও তারা শীর্ষে- সব মিলিয়ে ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার এখন শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী।
তালিকার দুইয়ে থাকা কিলিয়ান এমবাপ্পেও লড়াইয়ে টিকে আছেন। তার ২৯ গোল ও পাঁচটি অ্যাসিস্ট ছাড়াও চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও লিগ শিরোপার লড়াইয়ে রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এমবাপ্পের ব্যালন ডি’অরের সম্ভাবনা অনেকটাই নির্ভর করছে সেই শিরোপা জয়ে।
রাফিনিয়া কিংবা এমবাপ্পে যদি পা হড়কান, তাহলে সুযোগ তৈরি হবে হ্যারি কেন, জামাল মুসিয়ালা, হুলিয়ান আলভারেজ, উসমান ডেম্বেলে বা লওতারো মার্টিনেজদের সামনে। তবে শুধু ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স নয়, সাফল্যের মুকুটও পরতে হবে তাদের।
তবে সালাহর চোখের জলে ভেসে গেছে যে বাস্তবতা- চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেই বিদায়, আর তার সঙ্গে হয়তো বিদায় নিলো এবারের ব্যালন ডি’অরের স্বপ্নও।

