হামজা দেওয়ান চৌধুরী শুধু একজন বড় মাপের ফুটবলার নন, তিনি একজন অসাধারণ মানুষও। বসুন্ধরা কিংসের মাঠে তাঁর প্রথম অনুশীলন ছিল সত্যিই স্মরণীয়। ইংলিশ লিগে খেলা এই ফুটবলার বাংলাদেশি ফুটবলে যোগ দিয়ে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করেছেন।
তাঁর মাঠে নামার পর, জামাল ভুঁইয়া, ফাহিম, রহমত মিয়াদের সঙ্গে অনুশীলন করতে গিয়ে এমন মনে হচ্ছিল যেন এই দলটির সাথে বহুদিনের সম্পর্ক। এটা প্রমাণ করে যে, দেশের ফুটবলে একজন বড় খেলোয়াড় যোগ হয়েছেন।
হামজা দেওয়ান চৌধুরী বাংলাদেশের জার্সি গায়ে খেলতে এসেছেন, কোনো প্রকার অহংকার বা চাওয়া ছাড়াই। মাঠে এসে সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে যাচ্ছেন, কোনো ক্লান্তি বা বিরক্তি নেই। ফ্লাড লাইটের নিচে অনুশীলন করতে গিয়ে, কোচ হ্যাভিয়ের কাবরেরার দিকনির্দেশনায় তিনি একনিষ্ঠভাবে অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কোচ ও কোচিং স্টাফরা তার প্রতি যে আগ্রহ দেখাচ্ছেন, সেটি হামজার প্রতি শ্রদ্ধা এবং তার অসাধারণ সক্ষমতার পরিচয়।
হামজা যখন মাঠে প্রবেশ করেন, তখন সবার নজর চলে আসে। সমর্থকরা তাকে উল্লাসধ্বনি দিয়ে স্বাগত জানায়। বল পেলেই সবাই চিৎকার করে এবং যখন তিনি শট নেন, তখন পুরো স্টেডিয়াম হাততালি দিয়ে ভরে ওঠে। হামজার অনুশীলন যেন ব্রাজিলের তারকাদের অনুশীলনের কথা মনে করিয়ে দেয়।
অনুশীলন দেখতে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল সহ অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। হামজার স্ত্রী অলিভিয়া চৌধুরীও মাঠে উপস্থিত ছিলেন, সাথে তার তিন সন্তানও ছিলেন। হামজার একান্ত ব্যক্তিত্ব এবং ব্যবহার সকলকেই মুগ্ধ করেছে। তার মায়ের চোখে জল আসার ঘটনা সত্যিই হৃদয়গ্রাহী। রাফিয়া চৌধুরী বলেছেন, “আমি সবসময় হামজাকে বলেছি, তুমি বড় ফুটবল খেলোয়াড় হতে পারো, কিন্তু মানুষের ঐতিহ্য ভুলে যেও না।”
এশিয়ান কাপ ফুটবলে বাংলাদেশের ভারত ম্যাচের প্রস্তুতি চলছে এবং হামজার পরিবারও ভারত সফরের জন্য প্রস্তুত। ২৫ মার্চ শিলংয়ে অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপ ফুটবল ম্যাচে ভারত বিপক্ষে বাংলাদেশের খেলা।

