সব ধরনের ক্রিকেটে বোলিং করার অনুমতি পেলেন সাকিব আল হাসান। পরীক্ষায় সফল হওয়ার পর তার ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়েছে। এখন তিনি আবার বোলিং করতে পারবেন। ফলে দীর্ঘদিন পর অলরাউন্ডার হিসেবে মাঠে ফিরতে আর কোনো বাধা থাকল না।
সাকিব নিজেই এই খবর নিশ্চিত করেছেন। ক্রিকেটভিত্তিক গণমাধ্যম ক্রিকবাজকে তিনি জানান, “খবরটি সত্যি। আমি আবার বোলিং করার অনুমতি পেয়েছি।”
গত বছরের সেপ্টেম্বরে ইংল্যান্ডের কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার সময় সাকিবের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সারের হয়ে সমারসেটের বিপক্ষে ম্যাচে তার বোলিং নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) তার বোলিং অ্যাকশন পর্যালোচনা করে। মূল্যায়নে তার অ্যাকশন অবৈধ ঘোষণা করা হয়। এরপরই তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসে।
আইসিসি অনুমোদিত ল্যাবে পরীক্ষার সময় তার অ্যাকশনে বেশ কিছু সমস্যা ধরা পড়ে। ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার বোলিং নিষিদ্ধ হয়ে যায়। প্রথম পরীক্ষার পর ডিসেম্বরের আরেকটি পরীক্ষাতেও ত্রুটি ধরা পড়ে। এজন্য তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচে বল হাতে নিতে পারেননি।
তবে তিনি হাল ছাড়েননি। বোলিং অ্যাকশন শুধরে আবারও ফিরতে কঠোর পরিশ্রম করেছেন। চলতি মাসের শুরুর দিকে ইংল্যান্ডে নতুন করে পরীক্ষা দেন। এবার তিনি পরীক্ষায় সফল হন। ফলে তার নিষেধাজ্ঞা উঠে যায়। এখন তিনি আবারও বল হাতে মাঠে নামতে পারবেন। ৮৬০টি স্বীকৃত ম্যাচ খেলে ১২৪৭টি উইকেট নেওয়া এই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারের জন্য এটি বড় স্বস্তির খবর।
কাউন্টি খেলার পর সাকিব ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশের হয়ে দুটি টেস্ট খেলেন। এরপর তিনি আবুধাবিতে টি-১০ লিগে বাংলা টাইগার্সের হয়ে মাঠে নামেন। পরে শ্রীলঙ্কায় আরেকটি টি-১০ টুর্নামেন্টে খেলেন। তখনই তার বোলিং নিষিদ্ধ করা হয়। ফলে তিনি শুধুমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে খেলতে বাধ্য হন। এরপর থেকে তিনি আর কোনো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলেননি।
অক্টোবরে দেশে ফিরে একটি বিদায়ী টেস্ট খেলার কথা ছিল তার। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে সেই ম্যাচ বাতিল হয়ে যায়। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই তিনি দেশের বাইরে রয়েছেন। গত মাসে নিষেধাজ্ঞার কারণে তাকে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির বাংলাদেশ দল থেকেও বাদ দেওয়া হয়। তবে এবার নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় তার ফেরার পথ পরিষ্কার হলো।

