লিওনেল মেসি, লাওতারো মার্তিনেজ কিংবা পাওলো দিবালা- তিনজনেই ছিলেন না আর্জেন্টিনা দলে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, উরুগুয়ের মাঠে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে আক্রমণভাগ কতটা কার্যকর হতে পারবে। তবে প্রশ্নের জবাব দিয়েছে তরুণরাই। গোল করেছেন থিয়াগো আলমাদা, অ্যাসিস্ট হুলিয়ান আলভারেজের। আর এই ১-০ গোলের জয়ে খুশি না হয়ে পারছেন না কোচ লিওনেল স্কালোনি।
ম্যাচ শেষে স্কালোনি বলেন, “আমি কি সন্তুষ্ট না হয়ে পারি! শুধু জয় নয়, ছেলেরা যেভাবে খেলেছে, সেটাই সবচেয়ে বেশি তৃপ্তির।”
গোলমুখে উরুগুয়ের চেয়ে দ্বিগুণ শট নিয়েছে আর্জেন্টিনা- ১২টির বিপরীতে ৬টি। বল দখলে পিছিয়ে (৪৫%) থাকলেও কার্যকর ফুটবলের দিক থেকে এগিয়ে ছিল সফরকারীরা। ৬৮ মিনিটে আলভারেজের পাস থেকে গোলটি করেন আলমাদা, যেটি ম্যাচের একমাত্র ব্যবধান নির্ধারক হয়ে ওঠে।
আক্রমণভাগে বড় তারকাদের অনুপস্থিতি স্কালোনিকে কিছুটা চিন্তায় ফেলেছিল ম্যাচের আগে। তবে একইসঙ্গে এটিকে তরুণদের আত্মপ্রকাশের সুযোগ হিসেবেও দেখেছিলেন তিনি। ম্যাচ শেষে সেই মূল্যায়নকে বাস্তব করেই দেখিয়েছেন আলমাদা, গিলিয়ানো সিমিওনে ও আলভারেজের মতো তরুণরা।
স্কালোনি বলেন, “এই দলে কেউ না থাকলে অন্য কেউ এসে জায়গাটা পূরণ করে দেয়। আজও তাই হয়েছে। আমাদের আত্মবিশ্বাস ছিল। পারফরম্যান্স হয়তো অভিজ্ঞদের মতো না, কিন্তু দলের সামগ্রিক মানসিকতা ছিল যথেষ্ট পরিপক্ব।”
আলমাদা এর আগেও জাতীয় দলের জার্সিতে গোল করেছিলেন- গত অক্টোবরেই বলিভিয়ার বিপক্ষে ৬-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে। এবার তারকা ফরোয়ার্ডদের অভাব পূরণ করে গোল করে দলকে জেতানোয় উচ্ছ্বসিত এই তরুণ। ম্যাচ শেষে তিনি বলেন, “আমি বলটা নিলাম, শট নিলাম, আর ভাগ্য ভালো যে জালে জড়াল।”
তিনটি শট নিয়ে দুটিই লক্ষ্যে রাখতে পেরেছেন অলিম্পিক লিওঁতে খেলা এই ফরোয়ার্ড। জানালেন, নিজেকে প্রমাণ করতে মুখিয়ে ছিলেন তিনি। “আমি কিছুটা চিন্তিত ছিলাম, চেয়েছি সবাইকে দেখাতে যে আমি কেন স্কোয়াডে।”
এ জয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কারণ, আর্জেন্টিনা এখন ১৩ ম্যাচে ২৮ পয়েন্ট নিয়ে দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইয়ে শীর্ষে। দ্বিতীয় স্থানে ইকুয়েডর (২২), তৃতীয় ব্রাজিল (২১)। এরপর রয়েছে উরুগুয়ে ও প্যারাগুয়ে (২০ করে), আর কলম্বিয়া (১৯)।
বাংলাদেশ সময় আগামী বুধবার ব্রাজিলের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার পরবর্তী ম্যাচ। সে ম্যাচে এক পয়েন্ট পেলেই ২০২৬ বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত হয়ে যাবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের।
জয়ের ধারা অব্যাহত থাকুক-এই প্রত্যাশাতেই এখন স্কালোনি শিবির।

